ওয়েব ডেস্ক; ২৩ সেপ্টেম্বর: ২০ সেপ্টেম্বর, দক্ষিণবঙ্গ সীমান্তের অধীন আইসিপি গেদে, ৩২ ব্যাটালিয়ন এবং আরপিএফ এর কর্মীরা, গেদে রেলওয়ে স্টেশনে কলকাতা ও ঢাকার মধ্যে চলমান আন্তর্জাতিক মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেনে যৌথ অনুসন্ধানে ১,৫১,৮৪,৯৬৪/- টাকা মূল্যের প্রসাধনী, শাড়ি, মোবাইল সহ বিভিন্ন ধরনের সামগ্রী জব্দ করেছে। সেই সাথে মূল্যবান মোবাইল ফোন ও অন্যান্য জিনিসপত্রসহ দুই ভারতীয় যাত্রীকেও আটক করা হয়েছে।

উল্লেখ্য যে ২০ সেপ্টেম্বর সকালে ভারত থেকে বাংলাদেশগামী মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেনটি গেদে রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছলে, সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে, আরপিএফ সহ বিএসএফ জওয়ানরা ট্রেনটির তল্লাশি শুরু করে। তল্লাশির সময় জওয়ানরা দুই ভারতীয় যাত্রীর কাছে প্রচুর পরিমাণে স্মার্ট ফোন ও শাড়ি দেখতে পায় এবং উভয় যাত্রীকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করে। জিজ্ঞাসাবাদে যাত্রীরা তাদের সঙ্গে নিয়ে আসা লাগেজের কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। জওয়ানরা তৎক্ষণাৎ ঘটনাস্থলে ওই দুই যাত্রীকে আটক করে, যারা ট্রেনে করে ওই পণ্য ভারত থেকে বাংলাদেশে পাচারের চেষ্টা করছিল।

আটক যাত্রীদের পরিচয় আখতার খান, পিতা মৃত আখবর খান এবং আব্দুল হালিম, পিতা মৃত আব্দুল সাত্তার, কলকাতা বলে জানা যায়। উভয় যাত্রীর কাছ থেকে ৮৩ টি স্মার্ট ফোন, ২৬ টি মোবাইল অ্যাডাপ্টার, ৪৮ টি ডাটা ক্যাবল, ৬৪ টি শাড়ি ও ১০ কেজি চাল জব্দ করেছে সেনারা। যার আনুমানিক মূল্য ১৭,৫২,৬৪০/- টাকা।

এর পাশাপাশি ট্রেনটিতে প্রচুর পরিমাণে প্রসাধনী সামগ্রীও পাওয়া গেছে যার কোনো মালিক ছিল না। তাই জওয়ানরা সেগুলোও বাজেয়াপ্ত করেছে। ট্রেনে আটক হওয়া ওই মালামালের মধ্যে রয়েছে ৩১টি স্মার্ট ফোন, ৩০ টি কিপ্যাড মোবাইল, বিপুল পরিমাণ শাড়ি, স্যুট, মহিলা ও পুরুষদের পোশাক, কসমেটিক সামগ্রী, কৃত্রিম গহনাসহ বিভিন্ন কোম্পানির ৩১২টি ট্রিমার এবং ১০১টি বিদেশী মদের বোতল। বাজেয়াপ্ত ওই সামগ্রীর আনুমানিক মূল্য ১,৩৪,৩২,৩২৪/- টাকা।

আটক যাত্রীরা স্বীকার করেছে যে তারা কলকাতার নিউমার্কেট থেকে এই সমস্ত জিনিস কিনেছিল এবং সহজে অর্থ উপার্জনের জন্য মৈত্রী এক্সপ্রেসে বাংলাদেশে নিয়ে যাচ্ছিল। তারা আরও জানায়, বাংলাদেশে পৌঁছানোর পর তারা ওই পণ্য বাংলাদেশের ঢাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ রাতুলের কাছে হস্তান্তর করতে যাচ্ছিল। এ কাজের জন্য তারা তিন হাজার টাকা করে পেত। কিন্তু সতর্ক বিএসএফ জওয়ানরা তাদের উদ্দেশ্য নস্যাৎ করে দেয়।

আটক যাত্রী ও বাজেয়াপ্ত সামগ্রী পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শুল্ক বিভাগ, বানপুরে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এ কে আর্য, ডিআইজি, পাবলিক রিলেশন অফিসার, বিএসএফ, সাউথ বেঙ্গল ফ্রন্টিয়ার বলেছেন যে আন্তর্জাতিক যাত্রীরা প্রায়শই সহজে অর্থ উপার্জনের জন্য তাদের সাথে গৃহস্থালির জিনিসপত্র আনার এবং বহন করার চেষ্টা করে। কিন্তু বিএসএফ জওয়ানদের সতর্কতার কারণে তাদের পরিকল্পনা সফল হয় না।