ওয়েব ডেস্ক; ২ ফেব্রুয়ারি: সংসদে ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪-২৫ এর বাজেট পেশের সময় অর্থমন্ত্রী শ্রীমতী নির্মলা সীতারমন ২০২৩-২৪ এর পুনর্মার্জিত হিসাব এবং ২০২৪-২৫ এর বাজেট হিসেবের ভিত্তিতে সরকারের মূলধনী ব্যয়ের চালচিত্র তুলে ধরেন।

মূলধনী ব্যয় বৃদ্ধিতে অগ্রাধিকার: অর্থমন্ত্রী শ্রীমতী সীতারমন বলেন, ২০২৪-২৫ এ মূলধনী ব্যয় ১১ শতাংশ বৃদ্ধি করে ১১,১১,১১১ কোটি টাকায় নিয়ে যাওয়া হবে। এই পরিমাণ জিডিপি-র ৩.৪ শতাংশ। এর পাশাপাশি, বিগত চার বছরে মূলধনী ব্যয় তিন গুণ বৃদ্ধি পাওয়ায় অর্থনৈতিক বিকাশ হারে এবং কর্মসংস্থানের প্রশ্নে গুণীতক প্রভাব পড়েছে বলে তিনি জানান।

পুনর্মার্জিত হিসাব ২০২৩-২৪: শ্রীমতী সীতারমন বলেন, সংশ্লিষ্ট অর্থবর্ষে ঋণ ছাড়া অন্য ক্ষেত্রগুলি থেকে সরকারের কোষাগারে ২৭.৫৬ লক্ষ কোটি টাকা এসেছে। এর মধ্যে কর রাজস্ব ২৩.২৪ লক্ষ কোটি টাকা। পরিমার্জিত হিসাবানুযায়ী, মোট ব্যয়ের পরিমাণ ৪৪.৯০ লক্ষ কোটি টাকা।

রাজস্ব আদায় সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী বলেন, এ বাবদ ৩০.০৩ লক্ষ কোটি টাকা প্রাপ্তি আশা করা হচ্ছে, যা বাজেটের হিসাবের তুলনায় বেশি। এই বিষয়টি অর্থনৈতিক বিকাশকেই তুলে ধরে।
তিনি আরও বলেন, পুনর্মার্জিত হিসাবানুযায়ী আর্থিক ঘাটতির পরিমাণ জিডিপি-র ৫.৮ শতাংশে দাঁড়াচ্ছে, যা বাজেট অনুমানের তুলনায় ইতিবাচক।

বাজেট হিসাব ২০২৪-২৫: ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে ঋণ ছাড়া অন্য উৎস থেকে সরকারের কোষাগারে ৩০.৮০ লক্ষ কোটি টাকা আসবে বলে মনে করা হচ্ছে। মোট ব্যয়ের পরিমাণ হবে ৪৭.৬৬ লক্ষ কোটি টাকা। কর রাজস্বের পরিমাণ দাঁড়াবে ২৬.০২ লক্ষ কোটি টাকা।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, রাজ্যগুলির মূলধনী ব্যয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে ৫০ বছরের সুদবিহীন ঋণ প্রকল্প এ বছ্রো কার্যকর থাকবে এবং এ বাবদ বরাদ্দের পরিমাণ ১.৩ লক্ষ কোটি টাকা।

২০২৪-২৫ এ আর্থিক ঘাটতির পরিমাণ জিডিপি-র ৫.১ শতাংশে দাঁড়াবে বলে অনুমান। ভারসাম্য রক্ষার লক্ষ্যে ২০২৫-২৬ নাগাদ এই হার ৪.৫ শতাংশের নিচে নিয়ে যাওয়া হবে বলে ২০২১-২২ – এর বাজেট ভাষণে জানিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী।

বাজার থেকে ঋণ: অর্থমন্ত্রী বলেছেন, ২০২৪-২৫ এ বাজার থেকে মোট ঋণের পরিমাণ ১৪.১৩ লক্ষ কোটি টাকা দাঁড়াবে। নেট ভিত্তিতে এই পরিমাণ হবে ১১.৭৫ লক্ষ কোটি টাকা। সরকারের ঋণের বোঝা কমলে বেসরকারি ক্ষেত্রের জন্য ঋণ সংস্থানের পথ মসৃণ হবে বলে অর্থমন্ত্রী জানান।

বাজেটের বিষয়ে মন্তব্য করে চন্দ্র শেখর ঘোষ, এমডি এবং সিইও, বন্ধন ব্যাঙ্ক বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন বাজেট জোর দিয়েছে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের উপর। এই বাজেট ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি হয়ে ওঠার উচ্চাশা পূরণ করার দিকে দেশকে এক ধাপ এগিয়ে দিল। আবাসন ক্ষেত্রের উপরে জোর দেওয়ায় সিমেন্ট, রঙ এবং ইস্পাতের মত একগুচ্ছ অনুসারী ক্ষেত্র উপকৃত হবে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। নারীর ক্ষমতায়নের উপর জোর দেওয়াও অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে। পরিকাঠামো ও গ্রামীণ উন্নয়নের উপর জোর দেওয়ার ফলে ভারতের বৃদ্ধির শক্তিশালী ভিত তৈরি হবে।‘

ভিএফএস ক্যাপিটালের এমডি এবং সিইও কুলদীপ মাইতি বলেন, ” এদিন অন্তর্বর্তী বাজেটে অর্থমন্ত্রী গরিব, মহিলা, যুবক এবং কৃষকদের কল্যাণের উপর প্রধান জোর দিয়েছেন। মাননীয় মন্ত্রী গত এক দশকে মহিলা উদ্যোক্তাদের উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধির কথা তুলে ধরেছেন এবং মহিলা উদ্যোক্তাদের ক্ষমতায়নের জন্য ৩০ কোটি মুদ্রা যোজনা ঋণ বরাদ্দ করেছেন। এটি ভারতীয় অর্থনীতির সামগ্রিক উন্নয়নে অবদান রেখে আরও মহিলাদের উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসতে প্রেরিত করবে। আমরা ‘লখপতি দিদি’ স্কিমের লক্ষ্যমাত্রা ২ কোটি থেকে ৩ কোটি মহিলাতে উন্নীত করার সরকারের সিদ্ধান্তকেও সাধুবাদ জানাই, যা মহিলাদের জন্য আর্থিক স্বাধীনতাকে প্রসারিত করার জন্য একটি উত্সর্গ প্রশস্ত করবে৷ এই বর্ধিত পরিধি আরও বেশি নারীকে এই প্রকল্পের আওতায় নিয়ে আসবে, তাদের অর্থনৈতিক স্বায়ত্তশাসনকে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করবে।”

নিশান্ত কানোদিয়া, চেয়ারম্যান, ম্যাটিক্স ফার্টিলাইজারস অ্যান্ড কেমিক্যালস লিমিটেড বলেছেন, “অন্তর্বর্তীকালীন বাজেট ২০৪৭ সালের মধ্যে বিকশিত ভারত – এর উপর ফোকাস করে, ভারতের বৃদ্ধির জন্য একটি পরিষ্কার এবং ব্যবহারিক রোড ম্যাপের রূপরেখা দেয়৷ আমরা বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধির আলোকবর্তিকা হিসেবে রয়েছি, এবং ন্যায়সঙ্গত ও টেকসই প্রবৃদ্ধির সমর্থনকারী পদক্ষেপগুলি অগ্রগতিকে উন্নীত করবে। এই বাজেট প্রকৃতির সঙ্গে সম্প্রীতি, অবকাঠামোর আধুনিকীকরণ এবং সকলের জন্য সুযোগ-সুবিধাকে উৎসাহিত করে। এটি একটি সুস্পষ্ট কৌশলের রূপরেখা দেয় যা কৃষক-বান্ধব নীতি যেমন পিএম কিষাণ সম্মান যোজনা এবং পিএম ফাসল বিমা যোজনার মাধ্যমে কৃষিকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন করে। অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ হল অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন। এটা জেনে আনন্দের বিষয় যে প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্পদ যোজনা এখন পর্যন্ত ১০ লক্ষ কর্মসংস্থান তৈরি করেছে এবং ৩৮ লক্ষ কৃষককে সহায়তা করেছে।”