ওয়েব ডেস্ক; ২৮ ফেব্রুয়ারি: দক্ষিণবঙ্গ সীমান্তের অন্তর্গত ১৪৫ ব্যাটালিয়নের ,আইসিপি পেট্রাপোলের সতর্ক বিএসএফ জওয়ানরা পরপর দ্বিতীয় বারের জন্য বিপুল পরিমান সোনা আটক করেছে , সোনা চোরাচালানকারীদের প্রচেষ্টা ব্যার্থ করেছে । এই প্রসঙ্গে, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ১৪৫ ব্যাটালিয়নেই সতর্ক বিএসএফ জওয়ানরা , দুটি পৃথক স্বর্ণ চোরাচালানের প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে, আইসিপি পেট্রাপোলের যাত্রী টার্মিনালে যাত্রীরা লুকিয়ে বাংলাদেশ থেকে ভারতে সোনার বিস্কুট পাচারের চেষ্টা করার সময় ৮ টি সোনার বিস্কুট সহ দুই বাংলাদেশী যাত্রীকে আটক করেছে তাদের শরীরে গহ্ববরের মাধ্যমে । আটক করা সোনার বিস্কুটগুলির ওজন আনুমানিক ৯৩৩,২৪ গ্রাম এবং আনুমানিক মূল্য ৫৮,৫৬,০৮২/- টাকা।

আটক যাত্রীরা হলেন শাহীনুর আক্তার আখতার শিখদার, গ্রাম-ইউসুফপুর, জেলা-কুমিল্লা, বাংলাদেশ, এবং সুজন মৃধা পুত্র মুহাম্মদ বাবুল মৃধা, বাসিন্দা-আরামবাগ, ঢাকা, বাংলাদেশ।

জিজ্ঞাসাবাদে শাহিনুর আক্তার জানায়, সে ঢাকার গুলিস্তানে আনার হোসেনের কাছ থেকে সোনার চালান নিয়েছিল। সোনা নেওয়ার পর সে সোনার বিস্কুটগুলো গোপনাঙ্গে লুকিয়ে রাখে। শাহীনুর আক্তার আরও জানান, আনার হোসেনের নির্দেশে তিনি কলকাতার গুলিস্তান হোটেলে পৌঁছান যেখানে একজন অজ্ঞাত ব্যক্তি তার কাছ থেকে সোনা নিয়ে যাবে। এই কাজের বিনিময়ে তিনি ১০,০০০/- টাকা পেতেন। ঢাকার মতিঝিল বাজারে কামাল হোসেনের কাছ থেকে সোনার বিস্কুট নিয়েছিলেন বলে জানান সুজন মৃধা। সোনা নেওয়ার পর সে সোনার বিস্কুটগুলো তার মলদ্বারে লুকিয়ে রাখে। তাকে বলা হয়, আইসিপি পেট্রাপোল পার হওয়ার পর একজন অজ্ঞাত ব্যক্তি তার কাছ থেকে সোনার বিস্কুট নিয়ে যাবে। এই কাজের বিনিময়ে তিনি ১৫,০০০/- টাকা পেতেন কিন্তু আইসিপি পেট্রাপোল হয়ে বাংলাদেশ থেকে ভারতে আসার সময় তল্লাশি পয়েন্টে তাদের দুজনকে তল্লাশি করা হয়, সেখানে দুজনকেই সোনার বিস্কুটসহ ধরা পড়ে।

আটক যাত্রী ও জব্দকৃত স্বর্ণ পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পেট্রাপোলের কাস্টমস অফিসে হস্তান্তর করা হয়েছে।

বিএসএফ, সাউথ বেঙ্গল ফ্রন্টিয়ার আইসিপি পেট্রাপোলে গত সাত দিনে ছয় যাত্রীর কাছ থেকে ১.৫৫ কোটি টাকা মূল্যের ২.৪৭৭ কেজি সোনা বাজেয়াপ্ত করেছে। এসব যাত্রী অবৈধভাবে বাংলাদেশ থেকে ভারতে সোনা আনার চেষ্টা করছিলেন।

জওয়ানদের এই কৃতিত্বে দক্ষিণবঙ্গ সীমান্তের জনসংযোগ আধিকারিক এ.কে. আর্য, ডিআইজি আনন্দ প্রকাশ করেন। তিনি আরও বলেন, কুখ্যাত চোরাকারবারিরা গরিব ও নিরীহ মানুষকে সামান্য অর্থের প্রলোভন দিয়ে ফাঁদে ফেলে। কুখ্যাত পাচারকারী চক্র সরাসরি চোরাচালানের মতো অপরাধে জড়িত নয়, তাই তারা দরিদ্র মানুষকে টার্গেট করে।