ওয়েব ডেস্ক; ২৭ মার্চ : এই নান্দনিক উদ্যোগে, পূর্ব রেল ব্যারাকপুর স্টেশনের চারপাশের বাইরের দেওয়ালগুলিতে রঙিন চিত্রকর্মের এক বর্ণিল সমারোহে সাজানোর আয়োজন করে এক বর্ণময় যাত্রার পথে এগিয়ে চলেছে। শুধুই রেল স্টেশনের সঙ্গে এই শহরের সংযোগ আরও সুদৃঢ় করা নয়, এটি হুগলী নদীর তীরে অবস্থিত এই মনোরম উপশহরের সমগ্র অঞ্চলের নান্দনিক মূল্য বৃদ্ধি করার ক্ষেত্রেও কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রাচীরে নান্দনিক চিত্রকর্মগুলির বিষয়বস্তু ব্যাপক পরিসরে বিস্তৃত। স্বাধীনতা সংগ্রামের স্মরণীয় ঘটনাগুলির চিত্রায়ন থেকে শুরু করে আমাদের সমৃদ্ধ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ক্রমিক বিবর্তনের চিত্রায়ন পর্যন্ত বিস্তৃত। উল্লেখ্য, ব্যারাকপুরকে ইতিমধ্যেই ‘অমৃত ভারত স্টেশন’ হিসাবে গড়ে তোলার জন্য নির্বাচন করা হয়েছে ফলে অতি দ্রুত গতিতে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম শুরু হওয়ার সাথে সাথে এটি সামগ্রিকভাবে রূপান্তরিত হচ্ছে।

৭৫০ মিটার দীর্ঘ রেলের প্রাচীর, বারাকপুর রেলওয়ে স্টেশনের পাশে ঐতিহাসিক কাহিনীর এক অপূর্ব ক্যানভাসে পরিণত হয়েছে। এই চিত্রকর্মগুলি আমাদের জাতির গৌরবময় অতীতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাকে জীবন্ত করে তুলেছে। ব্রিটিশ রাজের বিরুদ্ধে মঙ্গল পাণ্ডে’র বিদ্রোহ এবং স্বাধীনতা আন্দোলনে গান্ধীজির অবদান-এর মতো ঐতিহাসিক ঘটনাগুলি এই চিত্রকর্মগুলিতে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। সিপাহী বিদ্রোহ-এর অমর কাহিনী এবং স্বামী বিবেকানন্দ, ক্ষুদিরাম বসু, নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু-র মতো জাতীয় বীরদের সম্মান জানিয়ে তাদের চিত্রকর্ম দেওয়ালগুলিকে আরও মহিমান্বিত করে তুলেছে। এই প্রকল্প বারাকপুর রেলওয়ে স্টেশনকে কেবল একটি যাত্রাবিরতির স্থান থেকে বদলে করে তুলেছে ইতিহাসের এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি।

এছাড়াও, এই উদ্যোগটি কেবল ঐতিহাসিক স্মৃতিচারণেই সীমাবদ্ধ থাকে না বরং এটি বিনোদন এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের উপাদানগুলিকেও অন্তর্ভুক্ত করে। দুর্গাপূজার মতো উৎসবের আনন্দময় মুহূর্তের চিত্রায়ন ও চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী রেলওয়ে প্রাঙ্গণে এক আকর্ষনীয় চমক প্রদান করবে। এছাড়াও, বাংলা সাহিত্য ও চলচ্চিত্র থেকে অনুপ্রাণিত চিত্রকলা পরিবেশকে আরও সমৃদ্ধ করে, যাত্রী এবং দর্শকদের জন্য আসলেই এক অপূর্ব অভিজ্ঞতার সঞ্চার করবে।

এই প্রকল্পের ধারাবাহিক ক্রমবিকাশের সঙ্গে সঙ্গে এটি কেবলমাত্র সেই অঞ্চলের সমৃদ্ধ ঐতিহাসিক ঐতিহ্যের স্মারক হিসাবেই স্বীকৃতি লাভ করছে না, বরং শিল্পের অভিব্যক্তি এবং সাংস্কৃতিক একাত্মকরণের ক্ষেত্রেও একটি প্রশংসনীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির জীবন্ত সাক্ষী হিসেবে বারাকপুর স্টেশনের দেওয়ালগুলির নান্দনিক রূপান্তর সীমানা অতিক্রম করে সাংস্কৃতিক সংযুক্তিকরণের ক্ষেত্রে শিল্পের এক কার্যকারিতার স্বাক্ষর ও একই সঙ্গে অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যতের মধ্যে এক সু-সম্পর্ক গড়ে তুলবে।

পূর্ব রেলের প্রধান জনসংযোগ আধিকারিক কৌশিক মিত্র এই প্রশংসনীয় উদ্যোগের প্রতি তাঁর মতামত প্রকাশ করে বলেন, “ব্যারাকপুর এলাকা স্বাধীনতা সংগ্রামের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত এবং এই ইতিহাস, সঙ্গে বাংলার বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক ধারা ও স্টেশনের দেয়ালে চিত্রিত প্রেরণামূলক চিত্রকলার মাধ্যমে জীবন্ত রূপ লাভ করেছে। “