ওয়েব ডেস্ক; ১৮ এপ্রিল : এখনো আপনি টিকিট কাটেন নি ? যদি এখনো না কেটে থাকেন, তাহলে তাড়াতাড়ি করুন। কারণ, পূর্ব রেলে সামার স্পেশাল ট্রেনগুলির চলাচল শুরু হয়ে গেছে। গরমের ছুটিতে হিমালয়ের শীতলতার আমেজ নিতে নিউ জলপাইগুড়ি বা উত্তর ভারতের উদ্দেশ্যে সপরিবার যাত্রায় বাঙালি এখন উন্মুখ। রোজ চলা টাইম টেবিল ট্রেনগুলিতে ইতিমধ্যেই দীর্ঘ ওয়েট লিস্ট। এই পরিস্থিতিতে রেল এগিয়ে এসেছে স্পেশাল ট্রেনের ঝুলি নিয়ে। গ্রীষ্মকালীন যাত্রার জন্য টিকিটের অতিরিক্ত চাহিদার সামাল দিচ্ছে এই স্পেশাল ট্রেন গুলি। পূর্ব রেল ইতিমধ্যেই যেসমস্ত স্পেশাল ট্রেনগুলি চালাচ্ছে সেগুলি হল হাওড়া – হিসার (১ জোড়া), হাওড়া – নিউ জলপাইগুড়ি (১১ জোড়া), হাওড়া – রক্সৌল (১০ জোড়া), শিয়ালদহ – জাগি রোড (১২ জোড়া), কলকাতা – জয়নগর (১০ জোড়া), মালদা টাউন – নিউ দিল্লী (১৫ জোড়া), মালদা টাউন – আনন্দ বিহার (১১ জোড়া), ভাগলপুর – নিউ দিল্লী (১৪ জোড়া), আসানসোল – আনন্দ বিহার (১১ জোড়া), শিয়ালদহ – লখনৌ (১১ জোড়া), আসানসোল – জয়পুর (১১ জোড়া), ভাগলপুর – উধনা (১ জোড়া) ইত্যাদি।
কিছু কিছু সেগমেন্টে ১০০% এর বেশি রিজার্ভেশন হচ্ছে , অর্থাৎ একটি বার্থ একাধিকবার রিজার্ভেশন করা হচ্ছে। এর থেকেই এই স্পেশাল ট্রেনগুলির প্রতি যাত্রীদের বিপুল চাহিদাও অনুভব করা যাচ্ছে।
সমস্ত ট্রেনেই পরিচ্ছন্নতা , জলসরবরাহ এবং অন্যান্য হাউসকিপিং এর উপর জোর দেওয়া হয়েছে যাতে যাত্রীদের ভ্রমণ স্বচ্ছন্দ হয়ে ওঠে। স্টেশনে স্টেশনে ওয়াটার কুলার বা জলের ট্যাঙ্ক বসানো হয়েছে। প্লাটফর্মের শেষের প্রান্তের দিকে জলের ট্যাঙ্ক বসানোর উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে যাতে যাত্রীরা বিশেষত সাধারণ দ্বিতীয় শ্রেণী ও স্লিপার ক্লাসের যাত্রীরা সহজেই পানীয় জল পেতে পারেন। এছাড়াও IRCTC জনতা মিল সরবরাহের জন্য বিভিন্ন স্টেশনে KIOSK স্থাপন করেছে যাতে যাত্রীদের সস্তায় ভালো মানের খাবার দেওয়া যায়।
RPF বিভিন্ন স্টেশনে ক্রাউড ম্যানেজমেন্ট করছে যাতে ট্রেন চলার তাড়াহুড়োয় কেউ আঘাতপ্রাপ্ত না হন, এছাড়াও RPF ট্রেনে চোরা যাত্রীদের উদ্দেশ্যে জনসচেতনতার প্রচার চালাচ্ছে যাতে তারা বন্ধুবেশী মাদক প্রয়োগকারীদের খপ্পরে না পরেন ও অন্যান্য অসাধু ব্যক্তি বা টিকিট দালালদের থেকে দূরে থাকেন। এছাড়াও রেলওয়ে আধিকারিকরা কন্ট্রোল রুমে বসে ২৪ X ৭ ভিত্তিতে দিনভর সামার স্পেশাল ট্রেনগুলির পরিচালনার নিয়মানুবর্তিতা সুনিশ্চিত করছেন এবং বিভিন্ন স্টেশনের পরিস্থিতিতে উপর নজর রাখছেন।
তবে এই গ্রীষ্মকালীন স্পেশাল ট্রেনগুলির জনপ্রিয়তা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই চাহিদাও বাড়তে শুরু করেছে। অনেক ট্রেনেই প্রায় আসন সংখ্যা পূর্ণ। যেমন হাওড়া – রক্সৌল স্পেশাল ও কলকাতা – জয়নগর স্পেশালে ১৩ ই এপ্রিল থেকে ২০ শে এপ্রিল অবধি যাত্রার প্রায় সবকটি দিনেই ১০০% এর বেশি অকুপেন্সি (occupancy ) আছে।
তাই আর দেরী নয়। যারা এখনো গ্রীষ্মকালীন ভ্রমণযাত্রার পরিকল্পনা পাকা করেননি কিন্তু যাওয়ার ইচ্ছে রয়েছে, তারা যত দ্রুত সম্ভব তাদের যাত্রীসূচী তৈরী করে ফেলুন। কারণ দেরি হলে রোজ চলার ট্রেনগুলি তো দূর , গ্রীষ্মকালীন স্পেশাল ট্রেনগুলিতে আসন সংখ্যা পূর্ণ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।নিশ্চিত ও নিরাপদ যাত্রা ভ্রমণ করতে যাত্রীদের অনুরোধ করা হচ্ছে তারা IRCTC ওয়েবসাইট বা রেলের কাউন্টার থেকে টিকিট কাটুন। টিকিট দালালদের শিকার হবেন না। টিকিট দালালচক্রের শিকার হলে ভূয়ো টিকিটের জন্য আপনার যাত্রা পন্ড হতে পারে , তাছাড়া জেল – জরিমানা হবারও সম্ভাবনা আছে। তাই আর দেরি নয়, যাত্রীসাধারণের কাছে অনুরোধ তারা IRCTC ওয়েবসাইট থেকে সামার স্পেশাল ট্রেনগুলির বিবরণ দেখে নিয়ে যত শীঘ্র সম্ভব আসন সংরক্ষণ করুন।
