ওয়েব ডেস্ক; ৫ মার্চ : লগ্নি সংক্রান্ত প্রতারণা হল আর্থিক অপরাধের সবচেয়ে চতুর ধরনগুলোর অন্যতম, যা প্রায়শই এমন সামাজিক প্রকৌশল ব্যবহার করে করা হয় যা মানুষকে হতভম্ব করে দেয়। প্রতারকরা আর্থিক ব্যাপারের বিশেষজ্ঞ সেজে, নামকরা সংগঠনগুলোর পরিচয়পত্র জাল করে অথবা অনেকসময় সোশাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারদের ভুয়ো ভিডিও ব্যবহার করে মানুষের বিশ্বাস অর্জন করে।
তারা লগ্নি থেকে অস্বাভাবিক রিটার্ন, এক্সক্লুসিভ লগ্নির সুযোগ বা সীমিত সময়ের ডিলের প্রতিশ্রুতি দেয়। ফলে একজন ব্যক্তি যথেষ্ট মনোযোগ না দিয়ে লগ্নি করে ফেলতে উদ্বুদ্ধ হন। একবার একজন ব্যক্তি লগ্নি করে ফেললে প্রতারকরা বেমালুম উধাও হয়ে যায় অথবা যতক্ষণ না ওই ব্যক্তি উপলব্ধি করছেন যে তিনি ঠকে গেছেন, ততক্ষণ তাঁর থেকে টাকা আদায় করে চলে। যেহেতু এই ধরনের কেলেংকারিগুলো প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে চরিত্র পালটাচ্ছে, সেহেতু এইসব মনস্তাত্ত্বিক কৌশলের বিরুদ্ধে সচেতনতাই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ।
লগ্নি প্রতারণার বিভিন্ন ধরন
ভুয়ো ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম ও অ্যাপ: ঠগরা ভুয়ো লগ্নি অ্যাপ বা ওয়েবসাইট তৈরি করে যেগুলো দেখে বৈধ ব্রোকার, ফান্ড হাউস বা এক্সচেঞ্জের তৈরি বলে মনে হয়। ব্যবহারকারীদের প্রথম দিকে ভার্চুয়াল মুনাফা বা ভুয়ো স্ক্রিন দেখিয়ে টাকা জমা দিতে উদ্বুদ্ধ করা হয়। একবার বেশকিছু পরিমাণ টাকা লগ্নি করা হয়ে গেলে তাঁদের টাকা তুলতে বাধা দেওয়া হয়।
বিশেষ ছাড়ে স্টক পাইয়ে দেওয়া: প্রতারকরা স্বল্প পরিচিত, কম ভলিউমের স্টকের প্রচার করে এবং কিছু বাছাই ক্লায়েন্টকে গোড়ার দিকেই বিপুল ছাড়ে সেইসব স্টক পাইয়ে দেয়। এরা লগ্নিকারীদের টাকা এদের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে পাঠাতে বলে, এক্সচেঞ্জ বা ব্রোকিং হাউসের অ্যাকাউন্টে নয়। এ থেকেই তাদের প্রতারণার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। এই ধরনের কেলেংকারিতে সাধারণত এরা প্রচুর টাকার, সাধারণত কয়েক লাখ টাকার, তহবিল তৈরি করে। ভান করে শেয়ার কেনাবেচার মাধ্যমে সম্পদ তৈরি করছে।
ভুয়ো চাকরি কেলেংকারি: বিশ্বাস অর্জন করার জন্যে প্রতারকরা কর্মদাতার ছদ্মবেশ ধারণ করে এমন সব চাকরির অফার দেয়, যাতে কিছু সোশাল মিডিয়া পেজে লাইক দেওয়া বা রিভিউ লেখার মত সহজ কাজ করতে হয় সামান্য একটা ফি দিয়ে। ফলে একজন ব্যক্তি ছোট ছোট কেনাকাটা করে ফেলেন, যেগুলো প্রাথমিক লগ্নি হিসাবে তাঁর সামনে তুলে ধরা হয়, যতক্ষণ না তিনি বুঝে উঠতে পারেন যে স্কিমগুলোর মাধ্যমে আসলে প্রতারিত হয়েছেন।
পনজি ও পিরামিড স্কিম: এই কেলেংকারিগুলো করা হয় লগ্নিতে প্রচুর রিটার্ন দিয়ে, কিন্তু সেই টাকার উৎস হল নতুন লগ্নিকারীরা। তাঁদের টাকা দিয়ে প্রথম দিককার লগ্নিকারীদের টাকা দেওয়া হয়, আসল মুনাফা থেকে নয়। ফলে নতুন লগ্নিকারীদের টাকা আসা বন্ধ হয়ে গেলেই এই স্কিম ভেঙে পড়ে।
লগ্নি কেলেংকারির হাত থেকে সুরক্ষিত থাকবেন কী করে
লগ্নি করার আগে যাচাই করুন: সর্বদা সেবি, আরবিআই বা অন্যান্য নিয়ামক সংস্থার ওয়েবসাইটে নথিভুক্ত ফার্মগুলোর নাম যাচাই করে নিন
খুব বেশি রিটার্ন দেওয়া হচ্ছে দেখলেই সাবধান হোন: যদি কোনো লগ্নি স্বাভাবিকের চেয়ে খুব বেশি লোভনীয় বলে মনে হয়, তাহলে সম্ভবত ওটা একটা কেলেংকারি ছাড়া কিছুই নয়।
চাপ দেওয়ার কৌশল দেখলে এড়িয়ে যান: বৈধ লগ্নিতে চটজলদি সিদ্ধান্ত নেওয়ার দরকার হয় না
কোনো ওয়েবসাইট আর ইমেল সঠিক কিনা তা যাচাই করুন: HTTPS, অফিশিয়াল ডোমেন নেম আছে কিনা লক্ষ করুন এবং যে সে লিংকে ক্লিক করা এড়িয়ে যান
কখনো ব্যক্তিগত বা ব্যাংকিং তথ্য জানাবেন না: প্রতারকরা এগুলো ব্যবহার করে ফান্ড নয়ছয় করতে এবং চুরি করতে।
লগ্নি কেলেংকারির বিরুদ্ধে সেরা প্রতিরোধ হল সাবধান থাকা এবং যতদূর সম্ভব সমস্ত তথ্য জানা। লগ্নি করার আগে সর্বদা ছানবিন চালান আর কখনো অযাচিত লগ্নি প্রস্তাবকে বিশ্বাস করবেন না। ১৯৩০ ডায়াল করে সন্দেহজনক নম্বরগুলোকে জাতীয় সাইবার ক্রাইম হেল্পলাইন বা টেলিকমিউনিকেশন বিভাগে রিপোর্ট করুন sancharsaathi ডট gov ডট in/sfc/)। মেসেজ, স্ক্রিনশট আর আদানপ্রদানের নথিপত্র সেভ করে রাখুন।
