ওয়েব ডেস্ক; ৬ এপ্রিলঃ ভারত সরকার অ্যানিমিয়া-মুক্ত ভারত গঠনের লক্ষ্যে গর্ভবতী মহিলা, স্তন্যদায়িনী মা ও শিশুদের মধ্যে রক্তাল্পতার প্রাদুর্ভাব কমাতে ৬টি উদ্যোগ নিয়েছে। ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের সপ্তাহে দু-বার করে প্রোফাইল্যাক্টিক আয়রন অ্যান্ড ফলিক অ্যাসিড (আইএফএ) সাপ্লিমেন্টেশন সিরাপ, ৫ থেকে ৯ বছর বয়সী শিশুদের আইএফএ গোলাপী ট্যাবলেট, ১০ থেকে ১৯ বছর বয়সীদের আইএফএ নীল ট্যাবলেট দেওয়া হয়। প্রজননক্ষম মহিলাদের সপ্তাহে একবার দেওয়া হয় আইএফএ লাল ট্যাবলেট। এছাড়া গর্ভবতী মহিলা ও স্তন্যদায়িনী মায়েদের ১৮০ দিনের জন্য আইএফএল লাল ট্যাবলেট দেওয়া হয়। দেওয়া হয় কৃমিনাশক ওষুধ। অ্যানিমিয়া ম্যানেজমেন্ট প্রোটোকল অনুযায়ী নিয়মিত ভাবে রক্তাল্পতা পরীক্ষা করা হয়। পুষ্টির অভাব ছাড়া ম্যালেরিয়া, ফ্লুরোসিস, হিমোগ্লোবিনোপ্যাথি প্রভৃতি অন্য যেসব কারণে রক্তাল্পতা হতে পারে, প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে তার চিকিৎসা করা হয়।
জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের আওতায় রাজ্যগুলিকে তাদের বার্ষিক কর্মসূচি রূপায়ণ পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রাপ্ত প্রস্তাবের ভিত্তিতে অর্থ সাহায্য করা হয়। ২০২৪-২৫ আর্থিক বছরে জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের আওতায় অ্যানিমিয়া-মুক্ত ভারত কর্মসূচিতে রাজ্য/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির জন্য মোট ৮০৫.৯১ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
খাদ্য ও গণবন্টন দপ্তরের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুসারে সরকার লোহা, ফলিক অ্যাসিড, ভিটামিন বি ১২-এর মতো ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট সমৃদ্ধ পুষ্টিকর চাল, সব রাজ্য/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে সুনির্দিষ্ট গণবন্টন ব্যবস্থা (টিপিডিএস), প্রধানমন্ত্রী পোষণ শক্তি নির্মাণ প্রকল্প (পিএম-পোষণ), সুসংহত শিশু বিকাশ প্রকল্প (আইসিডিএস) এবং অন্যান্য কল্যাণমূলক প্রকল্পের মাধ্যমে সরবরাহ করে। ২০২৪ সালের মার্চ মাসের মধ্যে সরকারের প্রতিটি প্রকল্পে শক্তিবর্ধক চাল সরবরাহ সুনিশ্চিত করা হবে।
এই সব চালের গুণমান পরীক্ষার জন্য খাদ্য সুরক্ষা ও নিয়ামক সংস্থা (এফএসএসএআই) অনুমোদিত পরীক্ষাগারগুলির একটি তালিকা প্রকাশ করেছে।
রাজ্যসভায় এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী শ্রীমতী অনুপ্রিয়া প্যাটেল এই তথ্য জানিয়েছেন।
