ওয়েব ডেস্ক; ৩ জুলাই : রাশিয়ার কালিনিনগ্রাড থেকে জলে ভাসল ভারতীয় নৌ-বাহিনীর অত্যাধুনিক যুদ্ধ জাহাজ আইএনএস-তমাল (এফ-৭১)। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমাঞ্চলীয় নৌ-কমান্ডের ফ্ল্যাগ অফিসার কমান্ডিং ইন চিফ ভাইস অ্যাডমিরাল সঞ্জয় যশজিৎ সিং। এছাড়াও ছিলেন ভারত ও রাশিয়ার নৌ-বাহিনী এবং বিভিন্ন উচ্চ পদস্থ আধিকারিকরা।
আইএনএস তমাল ‘তলোয়ার শ্রেণি’র রণতরী। ভারতীয় নৌবাহিনীর পক্ষে বিদেশ থেকে আমদানি করা এটিই এই শ্রেণির সর্বশেষ রণতরী এবং রাশিয়া থেকে আমদানি করা চতুর্থ যুদ্ধ জাহাজ। ২০১৬ সালে ভারত-রাশিয়ার চুক্তি হয়েছিল চারটি রণতরীর জন্য। সেই চুক্তির শেষ রণতরী হল আইএনএস তমাল।
এটির সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ৩০ নটিকাল মাইলের বেশি। আইএনএস তমাল থেকে ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া যাবে। এছাড়া স্থিল-১ স্যাম এয়ার ডিফেন্সও ব্যবহার করা যাবে এই রণতরী থেকে। এই রণতরীতে ১০০ এমএম বন্দুক রয়েছে। এছাড়া রয়েছে একে-৬৩০ সিআইডব্লুএস, টর্পিডো এবং আরবিইউ-৬০০০ অ্যান্টি সাবমেরিন রকেট।
আইএনএস তমালের ৮ ধরনের কার্যক্ষমতা রয়েছে। এর আগে তুশিল শ্রেণীর প্রথম যুদ্ধ জাহাজটি (আইএনএস-তুশিল) গত বছরের ৯ ডিসেম্বর প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর উপস্থিতিতে জলে ভাসানো হয়েছিল। অনুষ্ঠানে ভাইস অ্যাডমিরাল সঞ্জয় যশজিৎ সিং বলেন, ভারতীয় নৌ বাহিনীতে তমালের অন্তর্ভুক্তি দেশের সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে এক উল্লেখযোগ্য মাইলফলক। এই যুদ্ধ জাহাজের ২৬ শতাংশ যন্ত্রাংশ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি। এর মধ্যে রয়েছে, দূরপাল্লার ব্রহ্মোস ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রও।
জাহাজটি ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২২ তারিখে জলে নামানো হয়। ২০২৪-এর নভেম্বরে সমুদ্রে এটির প্রথম পরীক্ষার জন্য যাত্রার সূচনা হয় এবং ২০২৫ সালের জুন মাসের মধ্যে বন্দর এবং সমুদ্র উভয় স্থানেই বিস্তারিত পরীক্ষা চালানো হয়।
জাহাজটিতে থাকা রুশ অস্ত্র ব্যবস্থার পরীক্ষাও সম্পন্ন হয়েছে।
এতে রয়েছে রাডার-নজরদারি ফাঁকি দেওয়ার প্রযুক্তিও। এই রণতরীতে প্রায় ২৫০ জন নাবিক এবং ২৬ জন আধিকারিক থাকবেন। খুব শীঘ্রই জাহাজটি কর্ণাটকের কারওয়ার বন্দরে পৌঁছবে।
