ওয়েব ডেস্ক; ২৮ জুলাই : রাজ্যসভায় সাংসদ শমিক ভট্টাচার্যের এক অনতিদীর্ঘ প্রশ্নের লিখিত উত্তরে, রেল, তথ্য ও সম্প্রচার এবং বৈদ্যুতিন ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব সোননগর–অন্ডাল মাল্টিট্র্যাকিং প্রকল্প এবং অন্ডাল–ডানকুনি মাল্টিট্র্যাকিং প্রকল্পের প্রস্তাব সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করেন।

মন্ত্রী জানান, সোননগর–অন্ডাল মাল্টিট্র্যাকিং প্রকল্প (৩৭৫ কিমি), ₹১২,৩৩৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ইতিমধ্যেই অনুমোদিত হয়েছে এবং প্রকল্পটির জন্য প্রয়োজনীয় ৯৭৭.৬ হেক্টর জমির মধ্যে ৯৫%-এর বেশি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। যে পরিমাণ জমি পাওয়া গেছে, সেখানে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়ে গেছে। তবে, প্রকল্পের পরবর্তী অগ্রগতি নির্ভর করছে নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র এবং অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয়ের উপর।

অন্ডাল–ডানকুনি রুট (১৬০ কিমি) সম্পর্কে মন্ত্রী জানান, এই রুটটি ইতিমধ্যেই চার লাইনের, শুধু চন্দনপুর–শক্তিগড় অংশ (৪৩ কিমি) বর্তমানে তিন লাইনের। এই অংশে চতুর্থ লাইন নির্মাণের কাজ ₹৭০০ কোটি টাকা ব্যয়ে অনুমোদিত হয়েছে।

মন্ত্রী আরও জানান, অন্ডাল থেকে শক্তিগড় পর্যন্ত (৯১ কিমি) পঞ্চম ও ষষ্ঠ লাইন নির্মাণের জন্য ফাইনাল লোকেশন সার্ভে (এফএলএস) অনুমোদিত হয়েছে, যা বিস্তারিত প্রকল্প প্রতিবেদন (ডিপিআর) তৈরির পূর্ব প্রস্তুতি। এই ডিপিআর এখনো প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং রেল বোর্ডে জমা দেওয়া হয়নি।

বৈষ্ণব পুনরায় উল্লেখ করেন, রেল প্রকল্পগুলি সাধারণত অপারেশনাল চাহিদা, ট্র্যাফিক প্রক্ষেপণ, আর্থিক সম্ভাব্যতা, সংযোগের ঘাটতি এবং জনগণের প্রতিনিধিদের ও রাজ্য সরকারের দাবির ভিত্তিতে অনুমোদিত হয়। নতুন রেললাইন অনুমোদনের জন্য বিভিন্ন মন্ত্রকের মধ্যে পরামর্শ এবং নীতি আয়োগ ও অর্থ মন্ত্রকের অনুমোদন প্রয়োজন হয়।

মন্ত্রী আরও বলেন, যেকোনো রেল প্রকল্পের সমাপ্তির সময় নির্ভর করে বিভিন্ন বিষয়ের উপর — যেমন সময়মতো জমি অধিগ্রহণ, পরিবেশগত ছাড়পত্র, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য পরিষেবার স্থানান্তর, আইন-শৃঙ্খলার অবস্থা, ভৌগোলিক ও আবহাওয়াগত পরিস্থিতি এবং প্রকল্প এলাকায় কার্যকরী মাসের প্রাপ্যতা। এই সমস্ত চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও, এই দুই প্রকল্প দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য সক্রিয় প্রচেষ্টা চলছে বলে তিনি জানান।