ওয়েব ডেস্ক; ৩১ জুলাই: দীন দয়াল উপাধ্যায় যোজনা- জাতীয় গ্রামীন জীবিকা মিশন (ডিএওয়াই-এনআরএলএম)-এ গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রক উল্লেখযোগ্য মাইল ফলক অর্জন করেছে। প্রথাগত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলি মারফৎ মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলিকে (এসএইচজিএস) ঋণ দানের পরিমাণ ১১ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।

ব্যাঙ্কিং ক্ষেত্রের সম্মিলিত সমর্থনে এই উল্লেখযোগ্য মাইল ফলক অর্জনে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের ক্ষেত্রে সরকারের অবিচল দায়বদ্ধতা প্রতিফলিত হয়। মহিলাদের ক্ষমতায়ণ এবং তৃণমূল স্তরে আর্থিক স্থিতিশীলতাও এর মধ্যে দিয়ে সম্ভব হয়েছে।

ডিএওয়াই-এনআরএলএম-এর মূল লক্ষ্য হল গ্রামীন দারিদ্র দূরীকরণে এক প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ গড়ে তোলার মধ্যে দিয়ে মহিলাদের জীবিকা অর্জনে সহায়তা প্রদান। স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলি গ্রামাঞ্চলে ঋণ সহায়তায় সদর্থক আর্থিক অন্তর্ভুক্তিকরণের পথকে প্রশস্ত করে মহিলা চালিত উদ্যোগ বিকাশলাভ করছে। ঋণের এই সুস্থায়ী ধারার ফলে গ্রামীন মহিলাদের নানা উদ্যোগ একদিকে যেমন গড়ে উঠছে, তার পাশাপাশি আর্থিক উপাজর্নের পথও তৈরি হচ্ছে।

এই অসাধারণ সাফল্য ব্যাঙ্কিং ক্ষেত্রের সাহায্য ছাড়া সম্ভব হতো না। তারা কোটি কোটি মহিলার উচ্চাকাঙ্খাকে উন্নত জীবিকা অর্জনের পথ করে দিয়েছে। তাদের এই অবদানের ফলে স্বনির্ভরগোষ্ঠী আন্দোলন যেমন সঙ্ঘবদ্ধ রূপ পেয়েছে, ঠিক তেমনিই যৌথ স্বপ্নকে আর্থিক স্বনির্ভরতা অর্জনেরও পথ করে দিয়েছে।

ব্যাঙ্ক সখী হিসেবে এসএইচজি-র মহিলা সদস্যরা ব্যাঙ্কিং এজেন্ট হিসেবে নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করেন। তাদের যৌথ উদ্যোগের ফলে ঋণদান যেমন প্রসারিত হয়েছে, ঠিক তেমনি ঋণ পরিশোধের পরিমানও উল্লেখযোগ্য সাফল্যের পথ দেখিয়েছে।

ডিএওয়াই-এনআরএলএম এবং লাখপতি দিদি প্রকল্পের মতো উদ্যোগের মাধ্যমে স্বনির্ভর গোষ্ঠী আন্দোলনে লক্ষ লক্ষ মহিলার স্বশক্তিকরণ সম্ভব হয়েছে।

সমান্তরাল জামিন মুক্ত ঋণদান উদ্যোগের এই সাফল্য বিশেষ লক্ষণীয়। ঋণ পরিশোধের পরিমান এক্ষেত্রে ৯৮ শতাংশেরও বেশি।

ব্যাঙ্কিং লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় ঋণ সংক্রান্ত আবেদনকে ঘিরে আর্থিক সাক্ষরতার প্রসারলাভের পাশাপাশি বীমা, পেনশন এবং ব্যাঙ্ক আমানতের আধার সংযুক্তিকরণ ও মোবাইল নম্বর সংযোগের ব্যাপারে সচেতনতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। আবার সঙ্ঘবদ্ধ উদ্যোগের ফলে সময়মতো ঋণ পরিশোধও হচ্ছে।

এটি কেবলমাত্র পরিসংখ্যানগত সাফল্যই নয়, নির্ভরযোগ্য বিশ্বস্ত এবং সুযোগ সম্প্রসারণের ক্ষেত্র হিসেবে মহিলা পরিচালিত উদ্যোগ নজির গড়েছে। এর মধ্যে দিয়েই অন্তর্ভুক্তিমূলক ও স্থিতিস্থাপক গ্রামীন ভারত গড়ে তোলার পথ প্রশস্ত হচ্ছে।