ওয়েব ডেস্ক; ১ আগষ্ট : কেন্দ্রীয় যোগাযোগ মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য এম সিন্ধিয়া সঞ্চার সাথী উদ্যোগের আওতায় সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের সঙ্গে বৈঠকে পৌরোহিত্য করেছেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন টেলি যোগাযোগ বিভাগের সচিব ডঃ নিরজ মিত্তল। টেলি যোগাযোগ সংক্রান্ত সাইবার জালিয়াতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা জোরদার করতে এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়ন, সচেতনতা বৃদ্ধি ও জনভাগিদারি বিষয়ে উৎসাহ জোগানোর লক্ষ্যে এই বৈঠক।
নাগরিক কেন্দ্রিক ডিজিটাল নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্যোগ হল সঞ্চার সাথী। চুরি হওয়া বা হারিয়ে যাওয়া ফোন ব্লক করার জন্য সেন্ট্রাল ইক্যুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রিজিস্টার (সিইআইআর), ডিজিটাল ইন্টেলিজেন্স প্ল্যাটফর্ম (ডিআইটি), জাল নথিতে নেওয়া সংযোগ শনাক্ত করার জন্য এএসটিআর এবং ফিনানসিয়াল ফ্রড রিস্ক ইন্ডিকেটর (এফআরআই)-এর মতো অত্যাধুনিক সরঞ্জামগুলি রয়েছে এই সঞ্চার সাথীতে। ভারতের টেলিকম ব্যবস্থাপনা সুরক্ষিত করার ক্ষেত্রে এক উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি লক্ষ্য করা গেছে।
এখনও পর্যন্ত ৮২ লক্ষেরও বেশি ভুয়ো মোবাইল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। ৩৫ লক্ষেরও বেশি হারিয়ে যাওয়া বা চুরি হওয়া ফোন ব্লক করা হয়েছে। এই উদ্যোগের আওতায় এ ধরনের ব্যবস্থাপনা চালু হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১.৩৫ কোটি ভুয়ো আন্তর্জাতিক কল সফলভাবে প্রতিরোধ করা গেছে। এই ব্যবস্থাপনা এ ধরনের কলের সংখ্যা ৯৭% হ্রাস করেছে।
সঞ্চার সাথী পোর্টালে ব্যাপকভাবে জনসাধারণের অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা গেছে। প্রতিদিন গড়ে ২ লক্ষ মানুষ এই পোর্টাল খুলে দেখেছেন। এই উদ্যোগের ফলে ৫.১ লক্ষ মোবাইল হ্যান্ডসেট ব্লক করা হয়েছে। এমনকি ২৪.৪৬ লক্ষ হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। প্রতারণামূলক কার্যকলাপে যুক্ত ২০,০০০ বাল্ক এসএমএস প্রেরককে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
সঞ্চার সাথীর সিইআরআই ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ৩৫.৪৯ লক্ষ চুরি হওয়া বা হারিয়ে যাওয়া ডিভাইস ব্লক করা হয়েছে। দেশে সাইবার হুমকি মোকাবিলায় এবং টেলিকম জালিয়াতি রুখতে একটি শক্তিশালী সহযোগী নেটওয়ার্ক তৈরি করতে সঞ্চার সাথী বিভিন্ন কেন্দ্রীয় সংস্থা, রাজ্য পুলিশ বাহিনী, টেলিকম পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থা সহ ৬২০টি সংস্থার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হিন্দি এবং ২১টি আঞ্চলিক ভাষায় সঞ্চার সাথী অ্যাপের সূচনা করেন। এটি এখন অ্যান্ড্রয়েড ও আইওএস উভয় প্ল্যাটফর্মেই পাওয়া যাবে। এদিনের আলোচনায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, টেলিকম পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং সুশীল সমাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদাররা উপস্থিত ছিলেন। হরিয়ানা এবং উত্তর প্রদেশের নাগরিকরাও সঞ্চার সাথী উদ্যোগের বিষয়ে তাঁদের অভিজ্ঞতার কথা ভাগ করে নেন। সঞ্চার সাথী একটি শক্তিশালী, অন্তর্ভুক্তিমূলক মঞ্চ হিসেবে উঠে এসেছে, যা নাগরিকদের টেলিকম জালিয়াতি থেকে নিরাপদ থাকার পথ দেখিয়েছে। আঞ্চলিক ভাষায় এই অ্যাপটির সম্প্রসারণ সকলের জন্য ডিজিটাল নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
