স্টেট ফোরাম অফ হেডমাস্টার্স এন্ড হেডমিস্ট্রেসদের সংগঠন একটি সাংবাদিক সম্মেলনে তাদের দীর্ঘ সময়ব্যাপী ক্ষোভ এবং বঞ্চনা উগরে দিলেন।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক চন্দন মাইতি বলেন, করোনা আবহে প্রধান শিক্ষকরা শিক্ষাদান করতে গিয়ে, স্কুল চালাতে গিয়ে মৃত্যু মুখে পতিত হয়েছিলেন। কিন্তু তাদের করণা যোদ্ধার স্বীকৃতি জোটেনি, এটি দুর্ভাগ্যজনক। তিনি বলেন, আজ প্রধান শিক্ষকদের মাসিক মাহিনা প্রাথমিক শিক্ষকদের মাসিক মাহিনা থেকেও কম বলে নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া প্রধান শিক্ষকদের বর্তমানে non-teaching ক্যাটাগরিতে নামিয়ে আনা হয়েছে। এটি প্রধান শিক্ষক পদের পক্ষে অবমাননা জনক।

সারা রাজ্যে প্রায় ৫৫০০ প্রধান শিক্ষক এই সংগঠনের সাথে রয়েছে। তারা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে ২২ নভেম্বর মিটিং করার জন্য একটি আবেদন করেন। কিন্তু সে আবেদনের মুখ্যমন্ত্রী সাড়া দেননি। তার আগে এই শিক্ষক সংগঠন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রীর হাতে ছয় লাখ টাকা করোণা মোকাবিলার জন্য তহবিলে দান করেন। তিনি ঘোষণা করেন, আগামী ১০ তারিখ তারা একদিনের একটি প্রতীকী ধরনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন লবণহ্রদ, বিকাশ ভবনের কাছে। সেইদিন তারা বিকাশ ভবনে দাবি সমন্বিত মেমোরেন্ডাম জমা দেবেন।

শিক্ষক সংগঠনের পক্ষে অপর এক বক্তা পার্থ সারথি বলেন, মাইনার অবনতি এমন দাঁড়িয়েছে যে গ্রেট পে যেটি ৫৬০০ টাকা ছিল, সেটা কমিয়ে ৫৪০০ টাকা করা হয়েছে। পাশাপাশি তিনি বলেন, যে মাদ্রাসা শিক্ষাকে পরিষদের “শিক্ষা পোর্টালে” এখনো রাজ্য সরকার যুক্ত করে নি। শিক্ষা দান করা ছাড়া অন্য কাজ করার প্রসঙ্গে তিনি বলেন,২০১৮ সালের কলকাতা হাইকোর্টের রায় অনুযায়ী কোন শিক্ষককে শিক্ষাদান ছাড়া অন্য কাজে নিযুক্ত করা যাবে না। কিন্তু সবুজসাথী এবং কন্যাশ্রী প্রকল্পে শিক্ষকরা অক্লান্ত পরিশ্রম করে তাকে সফল করেছেন। তবে তার স্বীকৃতি পেয়েছেন রাজ্য এবং রাজ্যের আমলারা। যদি ১০ তারিখে আগেই রাজ্য সরকার তাদের সাথে আলোচনায় বসতে চান, তবে এই অবস্থান কর্মসূচি তারা করবেন না। না হলে পরবর্তীকালে তারা আইনি পথেও যাবেন বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, অবিলম্বে ছাত্র-ছাত্রীদের স্বার্থে মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক এর দিন ঘোষণা করতে হবে রাজ্য সরকারকে।

এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট শান্তনু মন্ডল, সভাপতি হরিদাস ঘটক, আন্ত জেলা আহবায়ক আলতাফ শেখ প্রমুখ।