ওয়েব ডেস্ক; ২৯ ডিসেম্বর : ২০২৫–২৬ অর্থবর্ষের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে ভারতের যথাযথ জিডিপি বৃদ্ধির হার ছিল ৮.২%, যা এবছরের প্রথম ত্রৈমাসিকের ৭.৮% এবং ২০২৪–২৫- অর্থবর্ষের চতুর্থ ত্রৈমাসিকের ৭.৪%-এর তুলনায় বেশি।

২০২৫ সালের নভেম্বরে বেকারত্বের হার কমে ৪.৭%-এ নেমে এসেছে, যা অক্টোবরের ৫.২%-এর তুলনায় কম এবং এপ্রিল ২০২৫-এর পর সর্বনিম্ন।

CPI অনুযায়ী মুদ্রাস্ফীতি ২০২৫ সালের জানুয়ারির ৪.২৬% থেকে কমে নভেম্বর ২০২৫-এ ০.৭১%-এ পৌঁছেছে।

২০২৫ সালের নভেম্বরে পণ্য রপ্তানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৮.১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে, যেখানে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তা ছিল ৩৬.৪৩ বিলিয়ন ডলার।

২০২৫ সালে ভারত এমন এক “গোল্ডিলকস” পর্যায়ে প্রবেশ করেছে, যেখানে উচ্চ বৃদ্ধির হার বজায় থাকলেও মুদ্রাস্ফীতির চাপ দেখা যায়নি। অর্থনৈতিক সূচকগুলি ধারাবাহিকভাবে গতিশীল ছিল।

বৃদ্ধি, স্থিতিশীলতা ও আস্থা: ভারতের অর্থনীতির তিন স্তম্ভ

২০২৫ সালে ভারত ৪.১৮ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের জিডিপির সাথে জাপানকে অতিক্রম করে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে। অনুকূল আর্থিক পরিস্থিতি এবং পরিকাঠামোগত সংস্কার ভারতের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালি করেছে এবং অদূর ভবিষ্যতে তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হওয়ার পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

বৃদ্ধির গতি আরও মজবুত হয়েছে

২০২৫–২৬ অর্থবর্ষে অর্থনৈতিক সম্প্রসারণ আরও ত্বরান্বিত হয়েছে। এর পেছনে রয়েছে শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ চাহিদা, শিল্প ও পরিষেবা ক্ষেত্রের উন্নয়ন এবং সহায়ক মুদ্রানীতি। এর প্রতিফলন দেখা যায় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার জিডিপি বা মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বৃদ্ধির পূর্বাভাসে।

বেকারত্বের হার ক্রমাগত হ্রাস পাওয়া

কর্মসংস্থানের পরিস্থিতিতে ধারাবাহিক উন্নতি লক্ষ্য করা গেছে, যা উৎপাদনমুখী কর্মকাণ্ডে শ্রমশক্তির আরও ভালো অন্তর্ভুক্তিকে নির্দেশ করে। ভারতের জনসংখ্যাগত সুবিধা এবং অর্থনৈতিক সম্প্রসারণ মিলিয়ে গ্রামীণ ও শহরাঞ্চলে কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি পেয়েছে।

বেকারত্বের হার নিম্নমুখী হওয়ার প্রবণতা

২০২৫ সালের নভেম্বরে বেকারত্বের হার বহু মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরে পৌঁছেছে। বিশেষত, গ্রামীণ শ্রমশক্তির মধ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি লক্ষ্য করা গেছে, যা বৃদ্ধি, উৎপাদন এবং কর্মসংস্থানের মধ্যে ইতিবাচক সম্পর্ককে প্রমাণ করে।

শ্রমশক্তি ও কর্মসংস্থানে অংশগ্রহণ বৃদ্ধি

শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণের হার এবং কর্মরত জনসংখ্যার অনুপাত উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে গ্রামীণ কর্মসংস্থানের প্রসার শ্রমবাজারকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং শক্তিশালী করেছে।

২০২৫ সালে মুদ্রাস্ফীতি হ্রাস পাওয়া

২০২৫ সালে মুদ্রাস্ফীতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে এবং বছরের বেশিরভাগ সময় এটি আরবিআই-এর নির্ধারিত সীমার নিচে ছিল। খাদ্যদ্রব্যের দাম সীমার মধ্যে থাকা এবং কার্যকর মুদ্রানীতি অর্থনৈতিক বৃদ্ধিকে সহায়তা করেছে।

বাণিজ্যে উন্নতি

২০২৫ সালে ভারতের রপ্তানি ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে। ভারত বৈদ্যুতিন, ওষুধ এবং পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য রপ্তানিতে গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা পালন করেছে, যা আন্তর্জাতিক স্তরে ভারতের অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করেছে।

বহির্বাণিজ্য ক্ষেত্রে স্থিতিশীলতা

পরিষেবা ক্ষেত্রে রপ্তানি বৃদ্ধি পাওয়া, প্রবাসীদের প্ররিত অর্থ বা রেমিট্যান্সে বৃদ্ধি এবং শক্তিশালী বৈদেশিক মুদ্রা ভাণ্ডার ভারতের বহির্বাণিজ্য ক্ষেত্রকে স্থিতিশীল রেখেছে। প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ভারতীয় অর্থনীতির উপর আন্তর্জাতিক আস্থার প্রতিফলন।

গতিশীল অর্থনীতি ভারতের অগ্রগতির মূল মন্ত্র

দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলি ভারতের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির পূর্বাভাস উন্নীত করেছে, যার পেছনে রয়েছে শক্তিশালী চাহিদা, কম বেকারত্ব, নিয়ন্ত্রিত মুদ্রাস্ফীতি এবং স্থিতিশীল বহির্বাণিজ্য। পর্যাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রাভাণ্ডার ও ধারাবাহিক সংস্কারের জোরে ভারত ২০৪৭ সালের উন্নত ভারতের লক্ষ্যের দিকে দৃঢ় পদক্ষেপে এগিয়ে চলেছে।

সূত্র : পি আই বি