ওয়েব ডেস্ক; ২ জানুয়ারি : সংবাদ মাধ্যমের কিছু অংশে প্রকাশিত খবরে বলা হচ্ছে যে, বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১১১ টাকা বাড়ানো হয়েছে। এটি লক্ষ্য করা যায় যে, বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাজার নির্ধারিত ও আন্তর্জাতিক মানদন্ডের সঙ্গে সম্পর্কিত। বাণিজ্যিক এলপিজি দামের সংশোধন বিশ্বব্যাপী এলপিজি-র দাম এবং সংশ্লিষ্ট খরচের পরিবর্তনকে প্রতিফলিত করে। দেশীয় এলপিজি-র দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
ভারত তার এলপিজি-র চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশ আমদানি করে। অভ্যন্তরীণ এলপিজি-র দাম আন্তর্জাতিক মূল্যের সঙ্গে সম্পর্ক যুক্ত। ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে বাণিজ্যিক এলপিজি-র দাম প্রতি মেট্রিকটন ৪৬৬ মার্কিন ডলার হয়েছে। ২০২৩ সালের তুলনায় এই দামে প্রায় ২১ শতাংশ বৃদ্ধি হয়েছে। অন্যদিকে ঘরোয়া বাজারে এলপিজি-র দাম প্রায় ২২ শতাংশ কমেছে। ২০২৩ সালে গৃহস্থালির কাজে ব্যবহৃত এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ছিল ১১০৩ টাকা যা ২০২৫-এর নভেম্বর মাসে কমে হয়েছে ৮৫৩ টাকা।
ঘরোয়া বাজারে উপভোক্তাদের সুরক্ষার জন্য গৃহস্থালির কাজে ব্যবহৃত ১৪.২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৮৫৩ টাকা এবং পিএমইউওয়াই-য়ের সুবিধাভোগীদের জন্য ৫৫৩ টাকা।
২০২৫-২৬ অর্থ বছরের জন্য সরকার প্রতি ১৪.২ কেজি সিলিন্ডারের জন্য ৩০০ টাকা ভর্তুকি অব্যাহত রাখার অনুমোদন দিয়েছে। এই পদক্ষেপ দেশের দরিদ্র শ্রেণীর পরিবারগুলির জন্য স্বচ্ছ রান্নার জ্বালানি ব্যয়সাশ্রয়ী মূল্যে দিতে সরকারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে।
২০২৪-২৫ সালে আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজি-র দাম বেড়েছে। বর্তমানেও তা ঊর্ধ্বমুখী। তা সত্ত্বেও বিশ্বব্যাপী দামের অস্থিরতা থেকে দেশের গ্রাহকদের রক্ষা করতে এই ব্যয়বৃদ্ধির প্রভাব দেশের এলপিজি-র দামের ওপর চাপানো হয়নি। এর ফলে তেল বিপণন সংস্থাগুলি (ওএমসি) ৪০,০০০ কোটি টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।
বাণিজ্যিক এলপিজি-র দামের প্রেক্ষাপটে এটি লক্ষ্যণীয় যে এ ধরনের সিলিন্ডার ব্যবহারকারীর সংখ্যা অনেক কম, প্রায় ৩০ লক্ষ। অন্যদিকে গার্হস্থ এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহারকারী গ্রাহকের সংখ্যা ৩৩ কোটিরও বেশি। সারা দেশে গৃহস্থালির কাজে ব্যবহৃত এলপিজি সিলিন্ডারের দামে কোনও পরিবর্তন হয়নি। এটি গ্রাহক সুরক্ষার জন্য সরকারের প্রতিশ্রুতির পরিচায়ক।
