ওয়েব ডেস্ক; ২৪ জানুয়ারি :
মূল বিষয়বস্তু
● জাতীয় কন্যা শিশু দিবস ২০০৮ সাল থেকে প্রতি বছর ২৪ জানুয়ারি পালন করা হয়, যার লক্ষ্য ভারতে কন্যাশিশুর অধিকার, ক্ষমতায়ন ও সমান সুযোগ প্রদান সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা।
● সারা দেশের ৯৭.৫ শতাংশ স্কুলে মেয়েদের জন্য শৌচাগারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
● UDISE রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৪–২৫ সালে মাধ্যমিক স্তরে কন্যাদের মোট ভর্তির হার (GER) বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮০.২ শতাংশ।
● কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৫–২৬-এ মিশন শক্তি প্রকল্পের জন্য ₹৩,১৫০ কোটি বরাদ্দ করা হয়েছে।
● জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত সারা দেশে মোট ২,১৫৩-টি বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করা হয়েছে এবং ৬০,২৬২ জন বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ আধিকারিক নিয়োগ করা হয়েছে।
ভূমিকা
জাতীয় কন্যা শিশু দিবস, যেটি ২০০৮ সাল থেকে প্রতি বছর ২৪ জানুয়ারি পালিত হয়ে আসছে, কন্যাশিশুর অধিকার, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও সার্বিক কল্যাণের ওপর আলোকপাত করে। মহিলা ও শিশু উন্নয়ন মন্ত্রকের উদ্যোগে শুরু হওয়া এই দিনটি দেশের কন্যা শিশুদের উন্নয়ন এবং ২০৪৭ সালের মধ্যে বিকশিত ভারত গড়ার লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
কন্যাশিশুর ক্ষমতায়নের পক্ষে উদ্যোগ
এই দিনটি লিঙ্গ বৈষম্য, বাল্যবিবাহ, কন্যাভ্রূণ হত্যা এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতার মতো দীর্ঘস্থায়ী সামাজিক সমস্যাগুলির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে। এটি উদযাপনের মাধ্যমে সমাজের মানসিকতা পরিবর্তন, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি, STEM শিক্ষায় অংশগ্রহণ, নিরাপত্তা, মানসিক স্বাস্থ্য এবং নেতৃত্ব প্রদানের সুযোগ বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হয়।
কন্যাশিশুর শিক্ষা ও অংশগ্রহণ
বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও-এর মতো উদ্যোগের ফলে সারা দেশে লিঙ্গ অনুপাতের উন্নতি হয়েছে এবং মাধ্যমিক স্তরে কন্যাদের ভর্তির হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর ফলে ২০২৪–২৫ সালে GER ৮০.২ শতাংশে পৌঁছেছে।
সরকারি উদ্যোগ ও সাফল্য
নারী ও কন্যাদের নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও ক্ষমতায়নের জন্য সরকার একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। শক্তিশালী আইনি কাঠামোর মাধ্যমে লিঙ্গভিত্তিক নির্যাতন প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
মিশন শক্তি
২০২২ সালে চালু হওয়া মিশন শক্তি নারীদের নিরাপত্তা ও ক্ষমতায়নকে বাস্তবায়িত করেছে। এর দুটি উপ-প্রকল্প, সম্বল ও সামর্থ্য—এর আওতায় হেল্পলাইন, ওয়ান স্টপ সেন্টার, বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও, মাতৃত্বকালীন সহায়তা, আশ্রয় কেন্দ্র ও দক্ষতা উন্নয়নের মত কর্মসূচিগুলিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৫–২৬-এ এর জন্য ₹৩,১৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন
সমগ্র শিক্ষা, কস্তুরবা গান্ধী বালিকা বিদ্যালয়, বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও, UDAAN, NAVYA এবং বিজ্ঞান জ্যোতির মতো প্রকল্পগুলি শিক্ষা ক্ষেত্রে পরিকাঠামো উন্নত করা, STEM শিক্ষায় লিঙ্গ ব্যবধান কমানো এবং কিশোরীদের আধুনিক ও ভবিষ্যৎমুখী দক্ষতা অর্জনের সহায়তা করেছে।
বৃত্তি ও উচ্চশিক্ষা
বৃত্তি প্রদান, IIT ও NIT-তে সুপারনিউমেরারি আসন, UGC-NET JRF, স্নাতকোত্তর বৃত্তি এবং AICTE প্রগতি প্রকল্প উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় নারীদের অংশগ্রহণ বাড়িয়েছে এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে লিঙ্গসমতা উন্নত করেছে।
নিরাপত্তা
জুভেনাইল জাস্টিস অ্যাক্ট, POCSO অ্যাক্ট এবং বাল্যবিবাহ নিষেধ আইন-এর মতো শক্তিশালী আইন কন্যাশিশুর অধিকার রক্ষায় সহায়ক হয়েছে। ‘বাল বিবাহ মুক্ত ভারত’ অভিযানের মাধ্যমে সচেতনতা, আইনের যথাযথ প্রয়োগ এবং সমাজের সকল স্তরের মানুষের অংশগ্রহণ জোরদার করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও সুরক্ষা
কিশোরী শক্তি যোজনা, মাসিক স্বাস্থ্যবিধি প্রকল্প, পোষণ অভিযান এবং মিশন বাৎসল্য কন্যাশিশুদের পুষ্টি, স্বাস্থ্য, সুরক্ষা এবং ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের যত্নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে।
আর্থিক অন্তর্ভুক্তি
সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনা কন্যাশিশুর শিক্ষা ও ভবিষ্যতের জন্য দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করেছে। এই প্রকল্পের আওতায় সারা দেশে ৪.২ কোটিরও বেশি অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে।
উপসংহার
জাতীয় কন্যা শিশু দিবস ২০২৬ কন্যাশিশুর শিক্ষা, নিরাপত্তা ও ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে ভারতের ধারাবাহিক অগ্রগতিকে তুলে ধরে। সমন্বিত উদ্যোগ, আইনের কার্যকর প্রয়োগ এবং সমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে ভারত একটি ন্যায়সঙ্গত সমাজ গঠনের পথে এগিয়ে চলেছে—যেখানে প্রতিটি কন্যাশিশু সম্মানিত, সুরক্ষিত ও পূর্ণরূপে বিকাশে সক্ষম।
