ওয়েব ডেস্ক; ২১ ফেব্রুয়ারি : কৃষি ও কৃষক কল্যাণ দফতরের কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী রাম নাথ ঠাকুর কলকাতায় অবস্থিত আইসিএআর–ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ন্যাচারাল ফাইবার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি (ICAR-NINFET) পরিদর্শন করেন এবং প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞানী ও জ্যেষ্ঠ আধিকারিকদের সঙ্গে তাদের সাফল্য, চলমান গবেষণা এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
পর্যালোচনা বৈঠকে মন্ত্রী প্রাকৃতিক তন্তু উৎপাদনে প্রযুক্তিগত হস্তক্ষেপ, উন্নত উৎপাদন পদ্ধতি এবং মূল্য সংযোজনের মাধ্যমে কৃষকদের সহায়তায় প্রতিষ্ঠানের অবদানের খতিয়ান নেন। এ পর্যন্ত কতজন কৃষক উপকৃত হয়েছেন, প্রযুক্তির প্রসার কতদূর বিস্তৃত হয়েছে এবং প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগের ফলে, কৃষকদের আয় কতটা বৃদ্ধি পেয়েছে—সে বিষয়ে তিনি বিশদভাবে জানতে চান।
ঠাকুর পুনরায় উল্লেখ করেন যে, কৃষকদের সমৃদ্ধি ভারত সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার, যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আত্মনির্ভর ও অর্থনৈতিকভাবে সক্ষম কৃষক গঠনের ভাবনার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। তিনি প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশ দেন, কৃষকদের আয় বৃদ্ধি, সম্প্রসারণ ব্যবস্থার শক্তিশালীকরণ এবং তৃণমূল স্তরে প্রযুক্তির বিস্তৃত প্রচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তাদের অবদান নিয়ে একটি প্রামান্য প্রতিবেদন জমা দিতে।
মন্ত্রীকে জানানো হয় যে, সরকার “নিউ এজ ন্যাচারাল ফাইবার্স” যেমন ফ্ল্যাক্স, র্যামি, সিসাল ও কদলিজাত তন্তুর প্রসারে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। আগামী পাঁচ বছরে প্রতিষ্ঠানটি ব্যাপক গবেষণা পরিচালনা এবং বৃহৎ পরিসরে কৃষকদের মধ্যে প্রযুক্তি হস্তান্তর নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করবে।
কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহানের ভাবনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে “ওয়ান টিম, ওয়ান টাস্ক” পদ্ধতির অধীনে দেশের বিভিন্ন আইসিএআর প্রতিষ্ঠান জাতীয় স্তরে সমন্বিতভাবে কাজ করছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে আইসিএআর–নিনফেট “প্রোডাকশন, প্রসেসিং অ্যান্ড ভ্যালু অ্যাডিশন অফ নিউ এজ ন্যাচারাল ফাইবার্স” শীর্ষক একটি সমন্বিত প্রকল্প প্রণয়ন করেছে। এই প্রকল্পের লক্ষ্য উৎপাদন বৃদ্ধি, কৃষিপ্রাঙ্গন পর্যায়ের সমস্যার সমাধান এবং প্রক্রিয়াকরণ ও মূল্য শৃঙ্খলকে শক্তিশালী করা।
সফরের সময় “ওয়েস্ট টু ওয়েলথ” উদ্যোগটিও বিশেষ গুরুত্ব পায়। কলার ছদ্মকাণ্ড (সিউডো-স্টেম) এবং অন্যান্য উদ্ভিজ্জ বর্জ্য, যা সাধারণত পরিত্যক্ত হয়, সেখান থেকেও তন্তু আহরণের প্রচেষ্টা পর্যালোচনা করেন মন্ত্রী। এই উদ্যোগের সাহায্যে বর্জ্যকে মূল্যবান তন্তু–ভিত্তিক পণ্যে রূপান্তর করে কৃষকদের অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ সৃষ্টি এবং সুস্থায়ী সম্পদ ব্যবহারের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
ঠাকুর বিজ্ঞানীদের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন এবং গবেষণা, শিল্প–সহযোগিতা ও কৃষক–সংযোগ আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান, যাতে প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন গ্রামীণ সম্প্রদায়ের জন্য বাস্তব অর্থনৈতিক সুফলে পরিণত হয়।
এই সফরে কেন্দ্রীয় কৃষি ও কৃষক কল্যাণ মন্ত্রক এবং আইসিএআর–এর ঊর্ধতন আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন।
