ওয়েব ডেস্ক; ২৩ মার্চ : কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান ও কর্মসূচি রূপায়ণ মন্ত্রকের (MoSPI) অধীন জাতীয় পরিসংখ্যান সংস্থার (NSO) ফিল্ড অপারেশনস ডিভিশন (FOD) শহরে ‘বার্ষিক শিল্প সমীক্ষা (ASI) ২০২৪-২৫’ নিয়ে একটি প্রচার এবং সক্ষমতা বৃদ্ধি (Capacity-building) শিবিরের আয়োজন করেছে।

আঞ্চলিক প্রধানের সভাপতিত্বে এই শিবিরটি পরিচালিত হয়। ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল সুপ্রিয়া রায় নিকটবর্তী শিল্পাঞ্চলের উৎপাদনকারী ইউনিটগুলির প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য ছিল বার্ষিক শিল্প সমীক্ষার (ASI) গুরুত্ব পুনরুল্লেখ করা এবং সমীক্ষার তথ্য সময়মতো ও নির্ভুলভাবে জমা দেওয়ার ওপর জোর দেওয়া।

জাতীয় পরিসংখ্যান কার্যালয় (NSO) দ্বারা পরিচালিত এই বার্ষিক শিল্প সমীক্ষা (ASI) হল, ভারতের নিবন্ধিত এবং সংগঠিত উৎপাদন ক্ষেত্রের (Manufacturing sector) শিল্প পরিসংখ্যানের প্রধান উৎস। এটি শিল্প প্রবৃদ্ধি, কাঠামোগত গঠন, উৎপাদন, মূল্য সংযোজন (Value addition), কর্মসংস্থান এবং পুঁজির গতিশীলতা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ধারণা প্রদান করে। এই সমীক্ষাটি জাতীয় ও রাজ্য স্তরে ‘জাতীয় আয় পরিসংখ্যান’ (National Accounts Statistics) সংকলনের ক্ষেত্রে একটি অত্যাবশ্যকীয় উপাদান হিসাবে কাজ করে।

বার্ষিক শিল্প সমীক্ষার (ASI) আওতাভুক্ত ক্ষেত্রসমূহ:

কারখানা আইন (Factories Act), ১৯৪৮-এর ধারা ২m(i) এবং ২m(ii)-এর অধীনে নিবন্ধিত কারখানা।

বিড়ি ও চুরুট শ্রমিক (নিযুক্তির শর্তাবলি) আইন, ১৯৬৬-এর অধীনে নিবন্ধিত বিড়ি ও চুরুট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান।

কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের (Central Electricity Authority) কাছে নিবন্ধিত নয় এমন বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী সংস্থা।

রাজ্য সরকার কর্তৃক প্রদত্ত বিজনেস রেজিস্টার অফ এস্টাবলিশমেন্ট (BRE)-এর তালিকাভুক্ত ১০০ বা তার বেশি কর্মী বিশিষ্ট ইউনিটসমূহ।

এই সমীক্ষার তথ্য ‘পরিসংখ্যান সংগ্রহ আইন (Collection of Statistics Act), ২০০৮ (২০১৭ সালে সংশোধিত)’-এর বিধান অনুযায়ী সংগ্রহ করা হয়, যা তথ্যের গোপনীয়তা নিশ্চিত করে।

অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশে রায় তথ্য-ভিত্তিক নীতি নির্ধারণ, শিল্প পরিকল্পনা এবং অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে ASI তথ্যের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি অংশগ্রহণকারী ইউনিটগুলিকে সময়মতো নির্ভুল তথ্য জমা দিতে এবং ডেডিকেটেড অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে ধীরে ধীরে স্ব-সংকলন (Self-compilation) পদ্ধতি গ্রহণ করার আহ্বান জানান।

শিবিরটি ASI শিডিউল এবং ওয়েব-ভিত্তিক তথ্য জমা দেওয়ার ব্যবস্থা সম্পর্কিত ধারণাগত ও প্রযুক্তিগত জিজ্ঞাসার সমাধানের জন্য একটি ইন্টারেক্টিভ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করেছে। ভারতীয় পরিসংখ্যান পরিষেবা (ISS) এবং অধীনস্থ পরিসংখ্যান পরিষেবা (SSS)-এর কর্মকর্তারা অংশগ্রহণকারী ইউনিটগুলিকে হাতে-কলমে নির্দেশিকা প্রদানের জন্য উপস্থিত ছিলেন।

২০১৩-১৪ সালে থেকে ASI সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ একটি অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে, যা বর্তমান সমীক্ষা চক্রের (ASI ২০২৪-২৫) জন্য আরও উন্নত করা হয়েছে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য হল, প্রতিবেদন জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং তথ্যের গুণমান উন্নত করা।

কলকাতা আঞ্চলিক কার্যালয়ের লক্ষ্য:

২০২৪-২৫ চক্রের জন্য, কলকাতা আঞ্চলিক কার্যালয় উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, কলকাতা এবং হাওড়া জেলা জুড়ে ১,৬০০টিরও বেশি (১,৬৩৫টি) উৎপাদনকারী ইউনিটকে কভার করছে। এই সমীক্ষায় সেন্সাস ইউনিট (১০০ বা তার বেশি শ্রমিক বিশিষ্ট বড় প্রতিষ্ঠান) এবং বৈজ্ঞানিকভাবে নির্বাচিত স্যাম্পল ইউনিট—উভয়ই অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

সমীক্ষার এই স্যাম্পলিং ফ্রেমটি মূলত পশ্চিমবঙ্গ সরকারের চিফ ইন্সপেক্টর অফ ফ্যাক্টরিজ-এর অফিস থেকে প্রাপ্ত নিবন্ধিত কারখানাগুলির তালিকা থেকে তৈরি করা হয়েছে।

জাতীয় পরিসংখ্যান সংস্থার কর্তাব্যক্তিরা জানিয়েছেন, শিল্প ইউনিটগুলির মাধ্যমে ASI রিটার্নের স্ব-সংকলনের (Self-compilation) হার বর্তমানে বেশ কম (গত বছরগুলিতে প্রায় ১০%)। বর্তমান এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য হলো সক্ষমতা বৃদ্ধি করা, রিটার্ন দাখিলে উৎসাহিত করা এবং আগামী বছরগুলিতে স্ব-সংকলনের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা।

জাতীয় পরিসংখ্যান সংস্থার অংশীদারদের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ভারতের পরিসংখ্যান ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে, যাতে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য উচ্চ-মানের এবং নির্ভরযোগ্য শিল্প তথ্য প্রদান করা যায়।