ওয়েব ডেস্ক; ২৮ মার্চ : অসম, কেরালা, পুদুচেরি, তামিলনাডু ও পশ্চিমবঙ্গে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন এইসব রাজ্য/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল জুড়ে ভোটার সচেতনতামূলক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। রাজ্যগুলির মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক ও জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের সঙ্গে সমন্বয় সাধন করে এর রূপায়ণ করা হচ্ছে।
এর অঙ্গ হিসেবে হাওড়ায় ২৭ মার্চ সিস্টেমেটিক ভোটার এডুকেশন অ্যান্ড ইলেকটোরাল পার্টিসিপেশন- SVEEP কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় মানুষ যাতে উৎসাহের সাথে যোগ দেন এবং ভোটদান যাতে অবাধ, মুক্ত ও উৎসবের পরিবেশে হতে পারে তা নিয়ে জনসচেতনতা গড়ে তোলার লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। হাওড়ার পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের অন্য জেলাগুলিতেও এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
হাওড়া জেলায় এই কর্মসূচি শুরু হয় একটি সাইক্লোথনের মাধ্যমে। স্কুল ও কলেজের বিপুল সংখ্যক ছাত্রছাত্রী, প্রথমবারের ভোটাররা এতে যোগ দেন। সকাল ৭টায় হাওড়া ব্রিজ চেক পোস্ট থেকে শুরু হয়ে রেল মিউজিয়াম হয়ে এই যাত্রা শেষ হয় রামকৃষ্ণপুর ফেরি ঘাটে। এরপর সেখানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। লোকগান, নৃত্য ও নাটকের মাধ্যমে ভোটদানের গুরুত্ব এবং নির্বাচনের উৎসব মুখর পরিবেশ তুলে ধরা হয়। নৌকার মাধ্যমেও চালানো হয় প্রচার।
এই অনুষ্ঠানে ছোটা ভিম আর ছুটকি- এই দুটি অ্যানিমেশন চরিত্রের উপস্থিতি সকলের নজর কাড়ে।
এইসব উদ্যোগের উদ্দেশ্য হল, ভোটারদের ভোটদানের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন করে তোলা। সেইসঙ্গে তাঁদের ভোটকেন্দ্রের অবস্থান ও ভোট গ্রহনের সময়সূচির মতো প্রয়োজনীয় বিষয়গুলি জানানো।
ভোটার সচেতনতামূলক প্রচারে কালীঘাটের চিত্রকলা, পটচিত্র, ছৌ নৃত্য, যাত্রার মতো পশ্চিমবঙ্গের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যগুলিকে বিশেষভাবে তুলে ধরা হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশন ভোট কেন্দ্রের বাইরে মোবাইল জমা রাখার ব্যবস্থা, ইসিআই নেট অ্যাপ, ১০০ শতাংশ ওয়েব কাস্টিং, উন্নত ভোটার তথ্য স্লিপের মতো যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে, সেগুলি সম্পর্কেও এইসব কর্মসূচিতে জানানো হচ্ছে।
প্রথমবারের ভোটার ও তরুণ ভোটারদের উৎসাহিত করার জন্য রাজ্য জুড়ে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে নির্বাচনী সাক্ষরতা ক্লাব খোলা হয়েছে। এর সঙ্গেই চলছে সোস্যাল মিডিয়ায় জোরদার প্রচারাভিযান।
সরকারি দপ্তর ও কর্পোরেট সংস্থাগুলির সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে এই জনসংযোগ কর্মসূচিকে আরও জোরদার করে তোলা হচ্ছে।
এর লক্ষ্য হল, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় ভয়মুক্ত, প্রলোভনমুক্ত ও সচেতন অংশগ্রহণকে আরও শক্তিশালী করে তোলা। এর মূল ভাবনা “চুনাও কা পর্ব, পশ্চিম বঙ্গাল কা গর্ব”
