ওয়েব ডেস্ক; ৭ এপ্রিল : ভারতের সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের নথিতে এক গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন ঘটল। Zoological Survey of India (ZSI) বা ভারতীয় প্রণী সরবেক্ষণ সংস্থার গবেষকরা তামিলনাড়ু উপকূল সংলগ্ন সমুদ্রাঞ্চলে মুক্তভাবে বসবাসকারী সামুদ্রিক নিমাটোডের দুটি নতুন প্রজাতি খুঁজে পেয়েছেন। এবছর ২৫ মার্চ আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শ্রেণীবিন্যাস সংক্রান্ত সাময়িক পত্রিকা Zootaxa-এ প্রকাশিত এই আবিস্কার উপকূলীয় বাস্তুতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখা অদৃশ্য অথচ গুরুত্বপূর্ণ জীববৈচিত্র্য নিয়ে নতুনভাবে আলোকপাত করা হয়েছে।
এই গবেষণাপত্রটি রচনা করেছেন গবেষক ঋতিকা দত্ত এবং আনজুম রিজভি। তাঁদের এই গবেষণার মাধ্যমে বৈজ্ঞানিক মহলে দুটি নতুন প্রজাতি, Corononema dhriti এবং Epacanthion indica, উপস্থাপিত হয়েছে। এই অণুজীবগুলি ক্ষুদ্র হলেও সামুদ্রিক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
আবিষ্কার- বাস্তুতন্ত্রের অদৃশ্য শক্তি
এই দুটি প্রজাতি সামুদ্রিক তলদেশের ভিন্ন ভিন্ন পরিবেশগত স্তরে অবস্থান করে:
Corononema dhriti (Datta & Rizvi, 2026): এটি একটি অত্যন্ত বিরল আবিষ্কার, যা বিশ্বব্যাপী উপলব্ধ এই গোত্রের মাত্র চতুর্থ পরিচিত প্রজাতি। এর আগে অস্ট্রেলিয়া, থাইল্যান্ড এবং ভিয়েতনামে এই গোত্রের উপস্থিতি নথিভুক্ত ছিল। ভারতীয় জলসীমায় এর সন্ধান সামুদ্রিক জীব-ভৌগোলিক গবেষণায় একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক।
নামকরণ- এই প্রজাতির নামকরণ করা হয়েছে ডঃ ধৃতি ব্যানার্জী-র সম্মানে, যিনি ট্যাক্সোনমি বা শ্রেণীবিন্যাসবিদ্যা ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন এবং ভারতের প্রাণীবৈচিত্র্য নথিবদ্ধকরণে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
Epacanthion indica: ভারতের নামানুসারে নামকরণ করা এই প্রজাতিটি তার জটিল শারীরিক গঠনের জন্য বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। অনেক নিমাটোড যেখানে অণুজীবভোজী, সেখানে E. indica-র বিশেষায়িত ম্যান্ডিবল ও “দাঁত” রয়েছে, যা তাকে সামুদ্রিক তলদেশের খাদ্যজালে একটি অণুবীক্ষণিক শিকারীতে পরিণত করেছে।
কেন এই ক্ষুদ্র জীবগুলি গুরুত্বপূর্ণ-
চোখে দেখা না গেলেও, সামুদ্রিক নিমাটোড সমুদ্রতলের প্রকৃত “নিঃশব্দ নায়ক”। এরা গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশগত ভূমিকা পালন করে, যেমন:
১) পুষ্টিচক্র বজায় রাখা: জৈব বর্জ্য ভেঙে এবং সমুদ্রে প্রয়োজনীয় পুষ্টি পুনর্ব্যবহার করে
২) পলিমাটির স্বাস্থ্য রক্ষা করা- উপকূলীয় পলিমাটির স্থিতিশীলতা ও উৎপাদনশীলতা বজায় রাখা
৩) জৈব-নির্দেশক হিসাবে ভূমিকা- পরিবেশের স্বাস্থ্য ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে নির্ণায়ক ভূমিকা নেওয়া
এই গুরুত্বপূর্ণ আবিস্কার সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে ডঃ ধৃতী ব্যানার্জী বলেন, “এই আবিস্কার আমাদের অনুধাবন করায় যে, সমুদ্রের জগৎ এখনও কতটা অজানা রয়ে গিয়েছে। বস্তুত, এই ক্ষুদ্র জীবগুলি সামুদ্রিক খাদ্যশৃঙ্খলের ভিত্তি। এই ‘অদৃশ্য’ জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে গভীরভাবে জানা কার্যকর সংরক্ষণ কৌশল প্রণয়ন এবং বৈশ্বিক পরিবেশগত পরিবর্তনের প্রেক্ষিতে উপকূলীয় উৎপাদনশীলতার দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্ব নিশ্চিত করার জন্য অত্যন্ত জরুরি।”
