ওয়েব ডেস্ক; ১৪ এপ্রিল : ভারত সরকারের ইলেকট্রনিক্স ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রকের অধীনস্থ সংস্থা হায়দরাবাদের সি-ড্যাক এবং রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন ‘e-SafeHER’ নামে একটি সাইবার নিরাপত্তা সচেতনতা প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালুর কথা ঘোষণা করেছে। এই কর্মসূচির লক্ষ্য হল, গ্রামীণ ভারতের ১০ লক্ষ নারীকে ডিজিটাল পরিমণ্ডলে আত্মবিশ্বাসী করে তোলা।

এই উদ্যোগটি তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের ‘তথ্য নিরাপত্তা শিক্ষা ও সচেতনতা’ (আইএসইএ) কর্মসূচির অধীনে হায়দরাবাদে অবস্থিত C-DAC-এর মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন গোটা ভারতের গ্রামীণ জনপদে এই প্রচার ও প্রসারের কাজকে ত্বরান্বিত করবে, বিশেষত নারীদের স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলির মাধ্যমে তারা এই কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করবে। নারীদের ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তিকে আরও জোরদার করার লক্ষ্যে এই উদ্যোগটি একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ। ‘e-SafeHER’ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হল, সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ক সচেতনতাকে একেবারে তৃণমূল স্তর পর্যন্ত, বিশেষ করে গ্রামীণ ভারতের নারীদের সক্ষম করে তোলা। মহিলারা এখন আর্থিক লেনদেন, জীবিকা নির্বাহ এবং অত্যাবশ্যকীয় পরিষেবাগুলি গ্রহণের উদ্দেশ্যে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলির সঙ্গে ক্রমশ বেশি সংখ্যায় যুক্ত হচ্ছেন। সাইবার নিরাপত্তা সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে হায়দরাবাদের C-DAC এবং রিলায়েন্স ফাউন্ডেশনের মধ্যে এই কৌশলগত সহযোগিতায় সুপরিকল্পিত প্রশিক্ষণ এবং কমিউনিটি-ভিত্তিক বিভিন্ন কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এই উদ্যোগের সূচনা প্রসঙ্গে তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের সচিব এস. কৃষ্ণান বলেন, “এমন এক সময়ে ভারত সরকার যখন দেশের আনাচে-কানাচে একটি ‘সাইবার সুরক্ষিত ভারত’ গড়ে তোলার লক্ষ্যে সক্ষমতা বৃদ্ধি, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং সুস্থায়িত্বের ওপর জোর দিচ্ছে, তখন ‘e-SafeHER’ একটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় সুযোগ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের তথ্য নিরাপত্তা শিক্ষা ও সচেতনতা কর্মসূচির পাঠক্রম এবং জ্ঞানভাণ্ডারকে একত্রিত করব।”

রিলায়েন্স ফাউন্ডেশনের ডিরেক্টর ইশা আম্বানি উল্লেখ করেন যে, ভারতের গ্রামাঞ্চলের নারীরা এখন আগের তুলনায় অনেক দ্রুতগতিতে অনলাইন জগতের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হল, নারীদের অনলাইনে নিরাপদ থাকার প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও জ্ঞান অর্জনে সহায়তা করা, যাতে তারা ডিজিটাল প্রযুক্তির শক্তিকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের জীবন ও জীবিকাকে আরও সুদৃঢ় করতে পারেন।”

এই উদ্যোগের সূচনা পর্বে মধ্যপ্রদেশ ও ওড়িশার ‘সাইবার সখী’দের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। এরপর বিভিন্ন অংশীদারদের সহযোগিতায় ২০২৯ সালের মধ্যে এই কর্মসূচি মোট দশ লক্ষ নারীর কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *