কলকাতা, ২৪ এপ্রিল :২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে বিবিধ আয়ে (Sundry Earnings) অভাবনীয় প্রবৃদ্ধি নথিভুক্ত করে রেল-ভাড়া বহির্ভূত রাজস্ব (Non-Fare Revenue) বৃদ্ধিতে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক অর্জন করেছে পূর্ব রেলওয়ে। এই সাফল্য মূলত উদ্ভাবনী উপায়ে রাজস্ব সৃষ্টি এবং রেলের সম্পদের যথাযথ ব্যবহারের প্রতি জোনটির নিরন্তর প্রচেষ্টাকেই প্রতিফলিত করে।
২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে পূর্ব রেলওয়ে মোট ২০৪.৭২ কোটি টাকা বিবিধ আয় করেছে, যা ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষের ১৫৩.৫৫ কোটি টাকার তুলনায় ৩৩.৩২ শতাংশ বেশি।
মূল ক্ষেত্রগুলিতে উল্লেখযোগ্য উন্নতির মাধ্যমেই এই প্রবৃদ্ধি সম্ভব হয়েছে। বিজ্ঞাপন ও প্রচার (Advertising & Publicity) থেকে আয় ৩১.২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, আর ক্যাটারিং বা খাদ্য সরবরাহ পরিষেবা থেকে আয় ৯৭.২৯ শতাংশের এক অভূতপূর্ব বৃদ্ধি প্রত্যক্ষ করেছে। অন্যান্য ক্ষেত্রগুলির মধ্যে রয়েছে NINFRIS (৪৩.৬৫ শতাংশ), পে-অ্যান্ড-ইউজ টয়লেট (১৭.০৭ শতাংশ) এবং পার্কিং (৭.৫৫ শতাংশ), যার সবকটিই ধারাবাহিক উন্নতির ধারা বজায় রেখেছে।
বাণিজ্যিক ব্যবহার প্রসারের লক্ষ্যে পূর্ব রেলওয়ে ‘বিবিধ স্ট্যাটিক সার্ভিস’ (Miscellaneous Static Services)-এর অধীনে বেশ কিছু নতুন উদ্যোগ সফলভাবে চূড়ান্ত করেছে। এর মধ্যে রয়েছে:
- স্টেশনগুলিতে ওষুধের দোকানের (Medical Stores) জন্য ৬১টি চুক্তি
- মোবাইল ফুড ভ্যান-এর জন্য ২০টি চুক্তি
- মোবাইল ও অ্যাক্সেসরিজ কিয়স্ক-এর জন্য ১৩টি চুক্তি
- খুচরা বিক্রয় কেন্দ্রের (Retail Stores) জন্য ১১টি চুক্তি
- অন্যান্য বিভিন্ন পরিষেবার ক্ষেত্রে ৫৮টি চুক্তি
এই চুক্তিগুলি সম্মিলিতভাবে ৪১.৩১ কোটি টাকার বিশাল চুক্তিমূল্য নির্দেশ করে, যা রেল-ভাড়া বহির্ভূত রাজস্বের ভাণ্ডারকে আরও শক্তিশালী করেছে।
অসামান্য আর্থিক পারফরম্যান্সের প্রমাণ দিয়ে পূর্ব রেলওয়ে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে তার বার্ষিক বিবিধ আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ১৪.৫৫ শতাংশ ছাড়িয়ে গিয়েছে।
সুসংহত বিপণন উদ্যোগ, দ্রুত চুক্তি সম্পাদন, ইন্ডিয়ান রেলওয়ে ই-প্রকিউরমেন্ট সিস্টেম (IREPS)-এর মাধ্যমে স্বচ্ছ ই-নিলাম প্রক্রিয়া এবং রাজস্বের নতুন উৎসগুলি চিহ্নিত করতে বাণিজ্যিক ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের ফলেই এই প্রশংসনীয় সাফল্য অর্জিত হয়েছে।
যাত্রী ও পণ্য পরিবহণ থেকে প্রাপ্ত আয়ের পরিপূরক হিসেবে বিবিধ আয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সম্পদের নগদীকরণ এবং উদ্ভাবনী বাণিজ্যিক কৌশলের ওপর ক্রমাগত গুরুত্বারোপ করার ফলে পূর্ব রেলওয়ে উন্নত যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্য এবং পরিকাঠামো উন্নয়নে আরও বেশি বিনিয়োগ করতে সক্ষম হচ্ছে।
ভারতীয় রেলওয়ের বৃহত্তর লক্ষ্য ও আদর্শের সাথে সামঞ্জস্য রেখে রেল-ভাড়া বহির্ভূত রাজস্ব বাড়ানোর জন্য নতুন নতুন পথ অন্বেষণে পূর্ব রেলওয়ে সর্বদা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
