কলকাতা; ২৪ মে : শিক্ষাই পারে জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে, এই বিশ্বাসকে সামনে রেখেই দীর্ঘদিন ধরে সমাজের পিছিয়ে পড়া ছাত্রছাত্রীদের পাশে দাঁড়িয়ে কাজ করে চলেছে শারদীয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট। তাদের ‘বিদ্যারত্ন স্কলারশিপ’ উদ্যোগ এ বছরও পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন অনাথ আশ্রম ও আবাসিক হোমের বহু ছাত্রছাত্রীর শিক্ষাজীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। চলতি বছরের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় সেই স্কলারশিপপ্রাপ্ত বহু ছাত্রছাত্রীর উল্লেখযোগ্য সাফল্য নতুন করে আশার আলো দেখিয়েছে।

পুরুলিয়ার সিধু কানু মিশনের ছাত্রছাত্রী পূর্ণিমা মুর্মু, সোমনাথ হাঁসদা, ধরতি হাঁসদা ও মার্শাল হাঁসদা কৃতিত্বের সঙ্গে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও তাদের এই সাফল্য প্রশংসিত হয়েছে বিভিন্ন মহলে। মিশনের প্রতিষ্ঠাতা নরেন হাঁসদা বলেন, “যে ছাত্রছাত্রীরা একসময় পড়াশোনা ছেড়ে দেওয়ার অবস্থায় ছিল, তারাই আজ এত ভালো ফল করেছে। এদের প্রত্যেকেই উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখছে এবং আমরা সবসময় তাদের পাশে থাকব।”

অন্যদিকে, মেদিনীপুরের অন্ত্যোদয় অনাথ আশ্রমের সুভাষ বিশ্বকর্মা, দিপিকা সেন, সিয়া দাস ও দেবশ্রী পতি উচ্চমাধ্যমিকে ৮০ শতাংশের বেশি নম্বর অর্জন করেছে। আশ্রমের প্রতিষ্ঠাতা বলরাম করন জানান, ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত আশ্রমের পক্ষ থেকে এই ছাত্রছাত্রীদের পাশে থাকার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

এছাড়াও দ্যা রেফিউজ, ইউনিভার্সাল স্মাইল, লাইট হাউস ফর দ্য ব্লাইন্ড এবং জঙ্গলপুর সারদা আশ্রমের ছাত্রছাত্রীরাও এবারের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকে উল্লেখযোগ্য ফলাফল করেছে।

শারদীয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের পক্ষ থেকে সুমা বিশ্বাস জানান, “সমাজের পিছিয়ে পড়া ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনার জন্য আমরা ‘বিদ্যারত্ন স্কলারশিপ’ চালু করেছিলাম। এই উদ্যোগ যে এত ছাত্রছাত্রীর শিক্ষার পথে সহায়ক হয়েছে এবং তাদের এই সাফল্য আমাদের আগামী দিনে আরও বেশি মানবিক কাজ করতে অনুপ্রাণিত করবে। যারা আমাদের পাশে থেকেছেন, তাঁদের সকলের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।”