ওয়েব ডেস্ক; ০৩ জুলাই : দেশ জুড়ে রোড অ্যাম্বুলেন্সের নিরাপত্তা ও চিকিৎসা সংক্রান্ত ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য সড়ক, পরিবহণ ও মহাসড়ক মন্ত্রক গাড়ি শিল্পের নিয়মাবলীতে কিছু সংশোধনের প্রস্তাব করেছে। রোড অ্যাম্বুলেন্সগুলি জরুরি পরিস্থিতিতে মানুষের জীবন বাঁচানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রতি বছর ভারতে প্রচুর সংখ্যায় সড়ক দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়। এইসব দুর্ঘটনার ফলে বহু মানুষের প্রাণ যায়। কিন্তু যথাযথ সময়ে দুর্ঘটনাগ্রস্ত ব্যক্তি বা কোনও রোগীর চিকিৎসা শুরু হলে তাদের প্রাণ বেঁচে যায়। যদি দুর্ঘটনার ১ ঘণ্টার মধ্যে দুর্ঘটনাগ্রস্তদের হাসপাতালে ভর্তি করা সম্ভব হয়, সমীক্ষা অনুসারে সেক্ষেত্রে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রায় ৫০ শতাংশ জীবনহানি রোধ করা যায়।

“প্রাইম মিনিস্টার- রোড অ্যাক্সিডেন্ট ভিক্টিম্স হসপিটালাইজেশন অ্যান্ড অ্যাসিওর্ড ট্রিটমেন্ট” বা পিএম- রাহাত প্রকল্পে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া নিশ্চিত করা হয়। এক্ষেত্রে রোড অ্যাম্বুলেন্স পাওয়া অত্যন্ত জরুরি। এর মাধ্যমে দুর্ঘটনাগ্রস্তদের যথাযথভাবে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়।

সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক মন্ত্রক ২০১৬ সালের ৮ সেপ্টেম্বর রোড অ্যাম্বুলেন্স তৈরির সময় বেশ কিছু নিয়মের কথা জানিয়েছিল। অ্যাম্বুলেন্সে কী ধরনের চিকিৎসা সরঞ্জাম রাখতে হবে সে বিষয়টি ওই নির্দেশিকায় স্পষ্ট করে বলা আছে।

বর্তমানে এই নির্দেশিকায় কিছু পরিবর্তন আনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর ফলে রোড অ্যাম্বুলেন্সগুলিতে আরও যথাযথভাবে দুর্ঘটনাগ্রস্তদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে। নিওনাটাল রোড অ্যাম্বুলেন্সে নির্দিষ্ট সময়ের আগে জন্ম নেওয়া শিশুদের বা অসুস্থ শিশুদের এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য কিছু অতিরিক্ত ব্যবস্থা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মাল্টিস্ট্রেচার রোড অ্যাম্বুলেন্সের ক্ষেত্রেও নতুন কিছু ব্যবস্থাপনা যুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও সব ধরনের রোড অ্যাম্বুলেন্সে জরুরি অবস্থার মোকাবিলার জন্য আরও কিছু চিকিৎসার সরঞ্জাম রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

রোগীদের যথাযথভাবে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে ই-অ্যাম্বুলেন্সে নির্দিষ্ট জ্বালানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত খসড়া প্রস্তাবটি ১৪ মে প্রকাশ করা হয়েছে। বর্তমানে এটি মন্ত্রকের ওয়েবসাইটে রয়েছে। সকলকে এই প্রস্তাবগুলির বিষয়ে মতামত জানাতে বলা হয়েছে। এই মতামতগুলি বিবেচনার পর চূড়ান্ত নির্দেশিকা প্রকাশ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *