ওয়েব ডেস্ক; ৪ জুলাই : সরকার ‘মূল্য স্থিতিশীলকরণ অতিরিক্ত সংগ্রহ’ (প্রাইস স্ট্যাবিলাইজেশন বাফার)-এর লক্ষ্যে পেঁয়াজ সংগ্রহের মূল্য ১৩% বৃদ্ধি করেছে—কুইন্টাল প্রতি ১,৮৭৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২,১২৫ টাকা করা হয়েছে। এই সংশোধিত সংগ্রহের মূল্য ৪ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে। সরকারের মূল্য স্থিতিশীলকরণ অতিরিক্ত সংগ্রহের জন্য নাফেড এবং এনসিসিএফ-এর মাধ্যমে পেঁয়াজ সংগ্রহের কাজ চলছে। এই সংশোধিত মূল্য পেঁয়াজ চাষিদের ভালো আয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাফার সংগ্রহের প্রচেষ্টাকেও সহায়তা করবে।

কৃষি ও কৃষক কল্যাণ বিভাগের ২০২৫-২৬ সালের দ্বিতীয় অগ্রিম প্রাক্কলন অনুযায়ী, পেঁয়াজ উৎপাদনের পরিমাণ ৩০৭.৩৭ লক্ষ মেট্রিক টন হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা ২০২৪-২৫ সালের ৩০৭.৬৭ লক্ষ মেট্রিক টন উৎপাদনের প্রায় সমান। উৎপাদনের এই হিসাব অনুযায়ী, এই পর্যায়ে পেঁয়াজের সামগ্রিক সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের কোনো কারণ নেই; তবে স্বাভাবিক ঋতুভিত্তিক প্রবণতা অনুযায়ী দাম কিছুটা বাড়তে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

মহারাষ্ট্র, মধ্যপ্রদেশ এবং গুজরাটে বর্তমানে পেঁয়াজের মজুত পর্যাপ্ত রয়েছে। এই মুহূর্তে মজুত পেঁয়াজের কোনো ঘাটতির ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।

সমগ্র ভারতে প্রতিদিন ‘মান্ডি’ বা পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ ৫০,০০০ মেট্রিক টনের বেশি রয়েছে; এর মধ্যে মহারাষ্ট্রেই সরবরাহ ৩০,০০০ মেট্রিক টনের বেশি এবং সেখানে গড় ‘মোডাল’ মূল্য (সবচেয়ে বেশি লেনদেন হওয়া দাম) প্রতি কেজিতে প্রায় ১৮ টাকা। ভালো মানের পেঁয়াজ মজুত রাখা হয়েছে এবং বছরের যে সময়ে সরবরাহ কম থাকে, তখন তা বাজারে ছাড়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সারা দেশে খুচরা বাজারে পেঁয়াজের গড় দাম প্রতি কেজিতে ৩১ টাকা।

বর্ষা আসতে দেরি হওয়া এবং কিছু অঞ্চলে স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টিপাতের কারণে এক শ্রেণীর ব্যবসায়ী অনুমান-নির্ভর বা ফাটকা কেনাকাটা শুরু করেছে। যদিও প্রধান ভোক্তা কেন্দ্রগুলোতে বর্তমান দামে উল্লেখযোগ্য কোনো চাহিদা নেই। ভোক্তা বাজারের এই মনোভাব সত্ত্বেও, নাসিক এবং মধ্যপ্রদেশের কিছু অংশের মতো উৎপাদন কেন্দ্রগুলোতে ফাটকা বা অনুমান-নির্ভর ব্যবসার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। মূলত ভবিষ্যতের বাজার পরিস্থিতির উন্নতির প্রত্যাশা থেকেই এই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, কোনো জোরালো প্রকৃত চাহিদার কারণে নয়। পেঁয়াজ রপ্তানি স্বাভাবিক রয়েছে এবং ২০২৬ সালের জুন মাসে প্রায় ১.৫০ লক্ষ মেট্রিক টন পেঁয়াজ রপ্তানি করা হয়েছে। তবে ব্যবসায়ীদের ধারণা, স্বল্প সময়ের জন্য পেঁয়াজ রপ্তানির গতি কিছুটা মন্থর হতে পারে; এর মূল কারণ হলো—উপসাগরীয় দেশ, শ্রীলঙ্কা ও দূর প্রাচ্যের মতো প্রধান রপ্তানি গন্তব্যগুলোতে পাকিস্তান ও চীন থেকে প্রতিযোগিতামূলক দরে নতুন ফসল পাওয়া যাচ্ছে।

মহারাষ্ট্রের নাসিক অঞ্চলে খরিফ শস্য বোনার কাজে প্রায় ১৫ দিনের বিলম্বের খবর পাওয়া গেলেও, কর্ণাটকের চিত্রদুর্গ ও চাল্লাকেরে এলাকায় বীজ বপনের অগ্রগতি স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ৬০ শতাংশ বলে ধারণা করা হচ্ছে।
(পি আই বি)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *