কলকাতা ; ১৪ জুলাই : অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের (ABVP) ৭৮তম প্রতিষ্ঠা দিবস, ৯ জুলাই জাতীয় ছাত্র দিবস, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত “বন্দে মাতরম”-এর সার্ধশতবর্ষ এবং ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির ১২৫তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আজ কলকাতায় এবিভিপির উদ্যোগে এক বিশাল মিছিল ও ছাত্রসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

এই কার্যক্রমে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এবিভিপির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ড. বীরেন্দ্র সিং সোলাঙ্কি। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কার্যসমিতির সদস্য শুভব্রত অধিকারী, রাজ্য সম্পাদক নীলকণ্ঠ ভট্টাচার্য, রাজ্য সহ-সম্পাদিকা সুনীতা মণ্ডল এবং কলকাতা মহানগর সম্পাদক স্বাধীন হালদার-সহ সংগঠনের অন্যান্য কার্যকর্তারা।

এদিন দুটি পৃথক মিছিলের আয়োজন করা হয়। একটি মিছিল শিয়ালদা থেকে এবং অপরটি শ্যামবাজার পাঁচমাথা মোড় থেকে শুরু হয়। পরবর্তীতে স্বামী বিবেকানন্দের জন্মভিটার সামনে দুই মিছিল একত্রিত হয়ে কলেজ স্ট্রিটে অনুষ্ঠিত ছাত্রসমাবেশে যোগ দেয়।

শ্যামবাজার থেকে শুরু হওয়া মূল মিছিলে নেতৃত্ব দেন এবিভিপির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ড. বীরেন্দ্র সিং সোলাঙ্কি, রাজ্য সম্পাদক নীলকণ্ঠ ভট্টাচার্য এবং কলকাতা মহানগর সম্পাদক স্বাধীন হালদার। অপরদিকে শিয়ালদা থেকে শুরু হওয়া মহামিছিলে নেতৃত্ব দেন কেন্দ্রীয় কার্যসমিতির সদস্য শুভব্রত অধিকারী, রাজ্য সহ-সম্পাদিকা সুনীতা মণ্ডল ।

সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ড. বীরেন্দ্র সিং সোলাঙ্কি বলেন, “৪ঠা মে বাংলার রাজনৈতিক পরিবর্তনের মাধ্যমে শিক্ষা ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তনের যে সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে, সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বাংলার প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে আদর্শ শিক্ষাকেন্দ্রে পরিণত করার লক্ষ্যে এবিভিপি কাজ করবে। সুস্থ, নিরাপদ ও শিক্ষাবান্ধব ক্যাম্পাস গড়ে তুলতে ছাত্রসমাজকে সঙ্গে নিয়ে ধারাবাহিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।”

তিনি আরও বলেন, “‘বন্দে মাতরম’ কেবল একটি গান নয়, এটি ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রাণশক্তি এবং জাতীয় ঐক্যের চেতনার প্রতীক। স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় এই মন্ত্র সমগ্র দেশকে একসূত্রে বেঁধেছিল। আজও সেই আদর্শ আমাদের জাতীয় ঐক্য ও আত্মপরিচয়ের ভিত্তি।”

ড. সোলাঙ্কি সাম্প্রতিক সময়ে কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দেশবিরোধী স্লোগান এবং ভারতীয় ঋষি-মুনি ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অবমাননার তীব্র নিন্দা জানান। তিনি বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জাতীয়তাবোধ, সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ ও চরিত্র গঠনের পরিবেশ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

তিনি তাঁর বক্তব্যের শেষে বলেন, “বিকশিত ভারত গড়ার স্বপ্ন তখনই বাস্তবায়িত হবে, যখন বাংলা বিকশিত হবে এবং বাংলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি জ্ঞান, চরিত্র ও জাতীয় চেতনার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে। এবিভিপি সেই লক্ষ্যেই ছাত্রসমাজকে সঙ্গে নিয়ে নিরন্তর কাজ করে যাবে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *