ওয়েব ডেস্ক; ১৪ জুলাই : ক্যাচ দ্য রেইন’ কর্মসূচির আওতায় ৯০০-এরও বেশি শহরের স্থানীয় সংস্থাকে (ইউ এল বি) যুক্ত করা হয়েছে: ১.২১ লক্ষ একর জলাশয় এবং ১২,৭৫০ একর সবুজ এলাকা পুনরুদ্ধারের কাজ চলছে।
“ক্যাচ দ্য রেইন – হোয়্যার ইট ফলস, হোয়েন ইট ফলস” অর্থাৎ বৃষ্টির জল যখন যেখানে পড়ে, সেখানেই তাকে ধরে রাখা অভিযানের গতি বজায় রাখতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়েছে আবাসন ও নগর বিষয়ক মন্ত্রক। ‘অমৃত ২.০’ এর আওতায় সারা দেশের শহরগুলিতে জল সংরক্ষণ, ভূগর্ভস্থ জলস্তর পুনর্ভরণ এবং জলাশয় পুনরুদ্ধারের বিভিন্ন পদক্ষেপের মাধ্যমে মন্ত্রক দেশব্যাপী এই উদ্যোগের লক্ষ্যগুলি এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
অমৃত ২.০-এর আওতায়, জল-নিরাপত্তা ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলার ক্ষমতা জোরদার করতে সারা দেশের শহরগুলিতে বৃষ্টির জল সংরক্ষণ, ভূগর্ভস্থ জলস্তর পুনর্ভরণ এবং সুস্থায়ী জল ব্যবস্থাপনার কাজ এগিয়ে চলেছে। এই অভিযানে ২৭টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের প্রায় ৯০০টি শহুরে স্থানীয় সংস্থা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছে।

‘জল শক্তি অভিযান–জন ভাগিদারী (জেএসজেবি) ২.০’-এর আওতায় আবাসন ও নগর বিষয়ক মন্ত্রক এবং জল শক্তি মন্ত্রকের যৌথ উদ্যোগে, ৭৯টি পৌর নিগমের মাধ্যমে ১,৯৯,২৭৮টি পুনর্ভরণ কাঠামো তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও ৭৩৮টি নগর স্থানীয় সংস্থার অধীনে ৭৩,০৩৬টি পুনর্ভরণ কাঠামো বাস্তবায়নের কাজ চলছে। এগুলি শহরাঞ্চলে ভূগর্ভস্থ জলস্তর পুনর্ভরণ ও জল সংরক্ষণের প্রচেষ্টায় উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে।
এই প্রচেষ্টাগুলিকে আরও জোরদার করতে, বৈজ্ঞানিক অ্যাকুইফার ম্যাপিং এবং লক্ষ্য-ভিত্তিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ জল পুনর্ভরণ বাড়ানোর জন্য অমৃত ২.০-এর আওতায় শ্যালো অ্যাকুইফার ম্যানেজমেন্ট (স্যাম) কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে। এই কর্মসূচিটি শহরজুড়ে উল্লেখযোগ্য ও বাস্তব ফল দিচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান এবং অন্ধ্রপ্রদেশের বিজয়নগরম -এ, ইনজেকশন বোরওয়েলের সঙ্গে সমন্বিত রিচার্জ পিটগুলো বৃষ্টির জলকে গভীরতর অ্যাকুইফারে প্রবাহিত করছে। অরুণাচল প্রদেশের ইটানগর -এ, জল সংরক্ষণের সুবিধাসহ ছাদের উপর বৃষ্টির জল সংগ্রহের ব্যবস্থা জল সংরক্ষণ এবং ভূগর্ভস্থ জল পুনর্ভরণ উভয়কেই সহায়তা করছে। এদিকে, ছত্তিশগড়ের কোরবা এবং তেলেঙ্গানার ওয়ারাঙ্গল বর্ষার আগেই রিচার্জ কাঠামো চালু করেছে।এই ব্যবস্থা মৌসুমী বৃষ্টিপাত যে কার্যকরভাবে সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং অ্যাকুইফার পুনর্ভরণের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে তা নিশ্চিত করছে।
পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান এবং অন্ধ্রপ্রদেশের বিজয়নগরম-এ ইনজেকশন বোর-ওয়েল সহ রিচার্জ পিট নির্মাণ করা হয়েছে।
ছত্তিশগড়ের কোরবা এবং তেলেঙ্গানার ওয়ারঙ্গলে বর্ষার আগে ভূগর্ভস্থ জল পুনর্ভরণ কাঠামো নির্মাণের কাজ চলছে।
ইটানগরে ছাদের বৃষ্টির জল সংগ্রহের সুবিধাসহ রিচার্জ পিট ও স্টোরেজ ট্যাঙ্ক।
অমৃত২.০-এর ‘জলাশয় পুনরুদ্ধার’ কর্মসূচির আওতায় প্রায় ১.২১ লক্ষ একর এলাকার জলাশয় পুনরুদ্ধারের কাজ চলছে। এর লক্ষ্য হলো জল ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি, ভূগর্ভস্থ জলস্তর পুনর্ভরণ এবং শহরাঞ্চলে বন্যা মোকাবিলার ক্ষমতা জোরদার করা। এই উদ্যোগগুলোর মধ্যে রয়েছে পলি অপসারণ, জলের প্রবেশ ও নির্গম পথের উন্নয়ন, তীরবর্তী এলাকার সুরক্ষা, ল্যান্ডস্কেপিং বা ভূ-দৃশ্য উন্নয়ন এবং জীববৈচিত্র্য বৃদ্ধি।
এই প্রচেষ্টার পাশাপাশি, ভারতের শহরাঞ্চলে প্রায় ১,৮০০ একর এলাকা জুড়ে পার্ক ও সবুজায়ন প্রকল্প গড়ে তোলা হচ্ছে। এই প্রকল্পগুলো পরিবেশগত স্থায়িত্ব বৃদ্ধি, ভূগর্ভস্থ জলস্তর পুনর্ভরণে সহায়তা এবং শহরের তাপজনিত সমস্যা প্রশমনে ভূমিকা রাখছে। এছাড়া, সহজলভ্য ও প্রাণবন্ত জনপরিসর সৃষ্টির মাধ্যমে নাগরিকদের জীবনযাত্রার মানও উন্নত করা হচ্ছে।

এই উদ্যোগগুলোর মাধ্যমে আবাসন ও নগর বিষয়ক মন্ত্রক “ক্যাচ দ্য রেইন – হোয়্যার ইট ফলস, হোয়েন ইট ফলস” অর্থাৎ যেখানে ও যখন বৃষ্টি পড়ে, সেখানেই তা ধরে রাখার লক্ষ্য বাস্তবায়নে বিশেষ অবদান রাখছে।
“আজকের সঞ্চয় করা প্রতিটি জলের ফোঁটা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জল-নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এক বিনিয়োগ।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *