ওয়েব ডেস্ক, ১৭ আগস্ট : উত্তর-পূর্ব ভারতে উদ্ভাবন, উদ্যোগ এবং প্রযুক্তিনির্ভর বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে ত্রিপুরাকে গড়ে তোলার পথে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এই লক্ষ্যেই ত্রিপুরা সরকারের তথ্যপ্রযুক্তি অধিদপ্তর (DIT), হায়দরাবাদের T-Hub-এর সঙ্গে যৌথভাবে আজ আগরতলার প্রজ্ঞা ভবনে “Building a Unicorn in Tripura” শীর্ষক কর্মশালার আয়োজন করে। T-Hub ভারতের অন্যতম প্রধান ইনোভেশন সংস্থা, যা স্টার্টআপ গড়ে তোলা ও তাদের এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। “Building a Unicorn in Tripura”-এর মূল লক্ষ্য হল রাজ্যের নতুন ও সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করা এবং বড় পরিসরে ব্যবসা গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও সহায়তা প্রদান করা। “ইউনিকর্ন” বলতে এমন একটি বেসরকারি স্টার্টআপকে বোঝায়, যার মূল্যায়ন US$1 billion-এর বেশি। এই উদ্যোগের মাধ্যমে ত্রিপুরা থেকে ভবিষ্যতের উচ্চ-বৃদ্ধির ও সফল ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান তৈরি করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানে T-RISE (Tripura Registry & Integration for Startup Ecosystem) Portal চালু করা হয়। পাশাপাশি রাজ্যে স্টার্টআপের বৃদ্ধি, উদ্ভাবন এবং বিনিয়োগকে আরও এগিয়ে নিতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শিল্প সংস্থার সঙ্গে কৌশলগত Memorandam of Understanding (MoUs) বিনিময় করা হয়।

এই উদ্যোগটি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর স্টার্টআপকে উদ্ভাবন, কর্মসংস্থান ও Viksit Bharat গঠনের অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে গড়ে তোলার ভাবনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। Startup India উদ্যোগের আওতায় ত্রিপুরা সরকারও উন্নত নীতি, প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা এবং বিভিন্ন কৌশলগত অংশীদারিত্বের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী স্টার্টআপ পরিবেশ তৈরি করছে।
এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে, ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ড.) মানিক সাহা-র নেতৃত্বে এবং তথ্যপ্রযুক্তি, অর্থ ও পরিকল্পনা ও সমন্বয় দপ্তরের মন্ত্রী শ্রী প্রণজিৎ সিংহ রায়-এর নির্দেশনায় সরকার নতুন Sector-Agnostic Tripura Startup Policy চালু করেছে। এই নীতির মাধ্যমে বিভিন্ন ক্ষেত্রে উদ্ভাবন, উদ্যোগ এবং কর্মসংস্থানকে উৎসাহ দেওয়া হবে।

এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে DIT হাপানিয়ার International Business Centre-এ T-NEST, একটি রাজ্যস্তরের ইনকিউবেশন সেন্টার তৈরি করেছে। এখানে স্টার্টআপগুলিকে ইনকিউবেশন, মেন্টরশিপ, প্রযুক্তিগত পরামর্শ ও বাজারের সঙ্গে সংযোগের মতো বিভিন্ন সহায়তা দেওয়া হবে। স্টার্টআপ নীতি বাস্তবায়নে সহায়তার জন্য DIT, T-Hub-এর সঙ্গে একটি কৌশলগত অংশীদারিত্বও করেছে।
কর্মশালার উদ্বোধন করেন তথ্যপ্রযুক্তি, অর্থ ও পরিকল্পনা ও সমন্বয় দপ্তরের মন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহ রায়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কিরণ গিত্তে, IAS, মুখ্যমন্ত্রীর সচিব, GA (Good Governance); ড. পি. কে. গোয়েল, IAS, তথ্যপ্রযুক্তি ও অর্থ দপ্তরের সচিব; জেয়া রাগুল গেশন বি, IFS, তথ্যপ্রযুক্তি দপ্তরের অধিকর্তা; পাশাপাশি সরকারের উচ্চপদস্থ আধিকারিক, শিল্পপতি, বিনিয়োগকারী, স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠাতা এবং শিক্ষা ও উদ্ভাবন ক্ষেত্রের প্রতিনিধিরা।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী বলেন, উদ্ভাবননির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলা এবং যুবসমাজকে উদ্যোক্তা, কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ তৈরি করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। উন্নত নীতি, ডিজিটাল পরিকাঠামো এবং কৌশলগত অংশীদারিত্বের মাধ্যমে ত্রিপুরায় বিনিয়োগ, উদ্ভাবন এবং উচ্চমানের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।
নতুন Sector-Agnostic Tripura Startup Policy চালুর পর থেকে ইতিমধ্যেই ১৮৫টিরও বেশি স্টার্টআপ আবেদন পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১৪০টি রেজিস্ট্রেশন অনুমোদিত হয়েছে এবং ৭০টি স্টার্টআপ স্বীকৃতি পেয়েছে। Tri-Seed Fund, Proof of Concept (PoC) সহ বিভিন্ন সহায়তার মাধ্যমে ইতিমধ্যে ২.৭২ কোটি টাকার বেশি আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এর ফলে উদ্যোক্তারা তাঁদের নতুন ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায়িক উদ্যোগে পরিণত করার সুযোগ পাচ্ছেন।

অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল T-RISE Portal-এর উদ্বোধন। এটি একটি একক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, যেখানে স্টার্টআপ, উদ্যোক্তা, ইনকিউবেটর, মেন্টর, বিনিয়োগকারী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি দপ্তরগুলি একসঙ্গে যুক্ত হতে পারবে।

এই পোর্টালের মাধ্যমে প্রযুক্তি, অর্থ, মার্কেটিং, আইনি বিষয় এবং ব্যবসা পরিচালনা-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ২০টিরও বেশি মেন্টর, ১০টিরও বেশি বিনিয়োগকারী, ১০টিরও বেশি কর্পোরেট সংস্থা, ইনকিউবেটর এবং বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ থাকবে। ত্রিপুরার বাইরে থাকা রাজ্যের পেশাদার, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও উদ্যোক্তাদেরও এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে রাজ্যের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমের সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *