কলকাতা; ৫ সেপ্টেম্বর : কলকাতার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হোমিওপ্যাথি ৩ সেপ্টেম্বর তার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন করছে। ৫০ বছর ধরে এই প্রতিষ্ঠান হোমিওপ্যাথিক শিক্ষা, গবেষণা এবং রোগীর সেবায় নিয়োজিত। এই উদযাপনের অঙ্গ হিসেবে, একটি অত্যাধুনিক মডুলার অপারেশন থিয়েটার এবং একটি সেন্টার অফ এক্সেলেন্স-এর উদ্বোধন করা হয়েছে। এর ফলে প্রতিষ্ঠানের ক্লিনিক্যাল, বৌদ্ধিক এবং গবেষণা পরিকাঠামো আরো শক্তিশালী হয়য়ে উঠেছে।

অনুষ্ঠানে আয়ুষ মন্ত্রকের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী ও স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী প্রতাপরাও যাদব, কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার, সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো ও শমীক ভট্টাচার্য, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিধায়ক সুমনা সরকার, আয়ুষ মন্ত্রকের সচিব বৈদ্য রাজেশ কোটেচা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

প্রতাপরাও যাদব বলেন, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হোমিওপ্যাথি, কলকাতার যাত্রাপথে ৫০ বছর পূর্তি এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এই সুবর্ণ জয়ন্তী শুধু প্রতিষ্ঠানের কৃতিত্বকে স্বীকৃতি দেওয়ার উপলক্ষই নয়, আগামী দশকে এর অগ্রাধিকারগুলি নির্ধারণ করার একটি সুযোগও বটে।

যাদব বলেন, নবনির্মিত সুবিধাগুলি আধুনিক পরিকাঠামো, মানসম্মত শিক্ষা, উন্নত গবেষণা সক্ষমতা এবং উন্নত রোগী-সেবা সুবিধার মাধ্যমে আয়ুষ প্রতিষ্ঠানগুলিকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে সরকারের অঙ্গীকার প্রতিফলিত করে। উদীয়মান স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা মেটাতে তিনি ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসা পদ্ধতির সঙ্গে সমসাময়িক প্রযুক্তি, গবেষণা এবং উদ্ভাবনের সমন্বয় সাধনের প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন।

যাদব হোমিওপ্যাথিক শিক্ষা ও গবেষণাকে শক্তিশালী করা এবং ছাত্র, গবেষক ও তরুণ পেশাজীবীদের জন্য আরও বেশি সুযোগ তৈরির গুরুত্বের উপরও জোর দেন। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হোমিওপ্যাথি, কলকাতা হোমিওপ্যাথিক শিক্ষা, গবেষণা এবং রোগী সেবায় একটি অগ্রণী প্রতিষ্ঠান হিসেবে তার অবস্থানকে আরও সুসংহত করবে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হোমিওপ্যাথি, কলকাতার পাঁচ দশকের অবদানের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, নতুন ব্যবস্থাগুলি এই প্রতিষ্ঠানকে একটি শিক্ষাগত ও পেশাদার কেন্দ্র হিসেবে আরও শক্তিশালী করবে এবং শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও উদ্ভাবনের উন্নততর সুযোগ তৈরি করবে।

জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো বলেন, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হোমিওপ্যাথি, কলকাতার এই সম্প্রসারণ কলকাতা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার মানুষের জন্য উন্নত ক্লিনিক্যাল পরিষেবা এবং স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তিতে বিশেষ ভূমিকা গ্রহণ করবে।

রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য বলেন, নতুন সুবিধাগুলি ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হোমিওপ্যাথি, কলকাতাকে তার শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি আরও মজবুত করতে এবং ভবিষ্যতের শিক্ষাগত ও স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত চাহিদা কার্যকরভাবে মেটাতে সক্ষম করবে।

নতুন মডুলার অপারেশন থিয়েটারটি প্রতিষ্ঠানের ক্লিনিক্যাল পরিকাঠামোতে এক গুরুত্বপূর্ণ মাত্রা যোগ করেছে। সমসাময়িক স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা অনুযায়ী নকশা করা এবং আধুনিক ব্যবস্থায় সজ্জিত এই সুবিধাটি উন্নত ক্লিনিক্যাল পরিষেবা প্রদানের ক্ষেত্রে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হোমিওপ্যাথি, কলকাতার সক্ষমতা বাড়াবে এবং একই সঙ্গে প্রশিক্ষণ ও পেশাগত উন্নয়নে সহায়তা করবে।

সেন্টার অফ এক্সেলেন্স গবেষণার অগ্রগতি, প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও স্বাস্থ্যসেবা পেশাজীবীদের জন্য উন্নত সুযোগ তৈরির একটি প্ল্যাটফর্ম প্রদান করবে।

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হোমিওপ্যাথি, কলকাতার পরিচালক ডঃ প্রলয় শর্মা বলেন, নতুন এই সুবিধাগুলি প্রতিষ্ঠানের পরিকাঠামো আরো শক্তিশালী করার পাশাপাশি হোমিওপ্যাথিক শিক্ষা, গবেষণা ও রোগী সেবার ক্ষেত্রে অগ্রগতির পরবর্তী পর্যায়ের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণের অঙ্গীকারের প্রমাণ দেয়।

প্রতাপরাও যাদব, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হোমিওপ্যাথি পরিদর্শন করে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।