ওয়েব ডেস্ক; ১২ সেপ্টেম্বর : বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও ভূ-বিজ্ঞান মন্ত্রকের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত এবং প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর, কর্ম, জন-অভিযোগ ও পেনশন, পারমাণবিক শক্তি ও মহাকাশ প্রতিমন্ত্রী ডঃ জিতেন্দ্র সিং বলেছেন, ভারতের উপকূলকে বাস্তুতন্ত্র, নিরাপত্তা, অর্থনীতি, প্রযুক্তি এবং মানব উন্নয়নের এক সমন্বিত ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। তিনি উপকূল অঞ্চলের বাস্তুতন্ত্র, নিরাপত্তা ও সুস্থায়ী উন্নয়নের এক জাতীয় সম্মেলনে ভার্চ্যুয়ালি বক্তব্য রাখছিলেন। ডঃ সিং বলেন, ভারতের ১১ হাজার থেকে ১২ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ উপকূল অঞ্চলকে সমুদ্রসম্পদ এবং নীল অর্থনীতি (ব্লু ইকনমি)-র জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করা হয়। তিনি মহাসাগর এবং উপকূলীয় অঞ্চলের আরও উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে বলেন, সংশ্লিষ্ট অঞ্চলগুলির সঙ্গে ভারতীয় সভ্যতার নিবিড় যোগাযোগ প্রাচীন যুগ থেকেই রয়েছে।
গভীর সমুদ্রের জন্য ডিপ ওশন মিশনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ভারত সমুদ্রের গভীরে উত্তোলন করা হয়নি, এ ধরনের সম্পদের উত্তোলনে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে ওআরভি সাগর মন্থন নৌ-যান তৈরি করা হয়েছে। অতি সম্প্রতি গবেষণার জন্য এই জলযান তার কাজ শুরু করেছে। পাশাপাশি, গভীর সমুদ্রে কাজ করার জন্য রোবোট এবং অন্যান্য যন্ত্রের উদ্ভাবন করা হচ্ছে।
ডঃ সিং বলেন, সমুদ্রের সম্পদকে কাজে লাগিয়ে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন যেমন ঘটাতে হবে, পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখারও প্রয়োজন রয়েছে। ব্ল্যাক সালফাইট এবং অন্যান্য খনিজ সম্পদের গবেষণালব্ধ তথ্যের সাহায্যে দেশের উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করতে হবে। এই প্রসঙ্গে তিনি মৎস্যসম্পদের আর্থিক সম্ভাবনার দিকটিও উল্লেখ করেন। মন্ত্রী বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য উন্নত প্রযুক্তিকে কাজে লাগাতে হবে। এক্ষেত্রে দূরসঞ্চার ব্যবস্থাপনাকে কাজে লাগিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি সরকারের পক্ষ থেকে একটি সর্বাঙ্গীণ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলের বাস্তুতন্ত্র এবং নিরাপত্তাকে আলাদাভাবে বিবেচনা করলে হবে না। এই অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নের জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকায় বসবাসরত সম্প্রদায়গুলিকে বিভিন্ন তথ্য সরবরাহের পাশাপাশি বিজ্ঞানসম্মতভাবে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। গত পাঁচ বছর ধরে ‘স্বচ্ছ সাগর, সুরক্ষিত সাগর’ কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। ২০২২ সালে ৭৫ দিন ধরে এই কর্মসূচি পালিত হয়। সে বছর উপকূলবর্তী রাজ্যগুলির নাগরিকরা ছাড়াও সমুদ্রের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন সংস্থাও অংশগ্রহণ করে। এ বছর ১২ সেপ্টেম্বর থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর এই কর্মসূচি পালিত হবে। এর আওতায় বিভিন্ন অসামরিক সংগঠন পরিচ্ছন্নতা অভিযানে যোগ দেবে। ভারতের সমুদ্র সৈকতকে পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য সকলকে অঙ্গীকারবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। একটি সুরক্ষিত এবং সমৃদ্ধ উপকূলবর্তী অঞ্চল গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বিজ্ঞানসম্মতভাবে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। এর জন্য প্রয়োজনীয় গবেষণার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
