কলকাতা; ১৯ সেপ্টেম্বর : প্রতি বছর ২১শে থেকে ২৭শে সেপ্টেম্বর বিশ্ব বধিরতা সপ্তাহ হিসাবে পালিত হয় ও এই সপ্তাহের শেষ রবিবারকে বিশ্ব বধিরতা দিবস হিসাবে পালন করা হয়। এই উপলক্ষে, অ্যাসোসিয়েশন অফ অটোল্যারিঙ্গোলজিস্টস অফ ইন্ডিয়া (AOI), কলকাতা শাখার পক্ষ থেকে প্রাথমিক পর্যায়ে শ্রবণশক্তি হ্রাসের সনাক্তকরণ, প্রতিরোধ এবং সময়মতো চিকিৎসা সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির একটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শ্রবণশক্তি যোগাযোগ, শিক্ষা, পেশাগত উন্নয়ন এবং সামাজিক অংশগ্রহণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। AOI, পশ্চিমবঙ্গের সদ্য প্রাক্তন সভাপতি ডা উৎপল জানা বলেন, “শ্রবণশক্তি হ্রাস প্রায় ক্ষেত্রে বোঝা যায় না, কিন্তু এর পরিণতি হয় সুদূরপ্রসারী। প্রাথমিক পর্যায়ে সনাক্তকরণ, বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে, একজন মানুষের পুরো জীবনই বদলে দিতে পারে। কিন্তু বাস্তবে, শিশুদের মধ্যেু অনেক সময়েই শ্রবণশক্তি হ্রাস প্রায়ই অসনাক্ত বা চিকিৎসাহীন থেকে যায়।”

“প্রাথমিক পর্যায়ে কম শুনতে পাওয়ার বিষয়টা ধরতে পারলে জীবন বদলে যেতে পারে,” বললেন অ্যাসোসিয়েশন অফ অটোল্যারিঙ্গোলজিস্টস অফ ইন্ডিয়া (AOI)-এর সর্বভারতীয় সদ্য প্রাক্তন সভাপতি ডাঃ দ্বৈপায়ন মুখার্জি ।

ডাঃ মুখার্জির মতে, শিশুদের ক্ষেত্রে জন্মের সময় এবং শৈশবকালে শ্রবণশক্তি পরীক্ষা করা অপরিহার্য, কারণ সনাক্ত না হওয়া শ্রবণশক্তি হ্রাস বাকশক্তি, ভাষা এবং শিক্ষাগত বিকাশকে বিরূপভাবে প্রভাবিত করতে পারে। প্রাপ্তবয়স্ক এবং বয়স্কদের ক্ষেত্রে, সময়মতো মূল্যায়ন যোগাযোগের অসুবিধা, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা এবং জীবনের মান হ্রাস রোধ করতে পারে।

AOI পশ্চিমবঙ্গের নবনির্বাচিত সভাপতি ডাঃ শুভেন্দু কর বলেন যে, AOI, পশ্চিমবঙ্গ, সাধারণ মানুষকে উচ্চস্বরে গান শোনা, হেডফোন ব্যবহার, যানবাহনের শব্দ, শিল্প-কারখানার শব্দ এবং বাজির শব্দের অতিরিক্ত সংস্পর্শ সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানাচ্ছে। শব্দদূষনজনিত শ্রবণশক্তি হ্রাস অনেকাংশেই প্রতিরোধযোগ্য। মানুষের অপ্রয়োজনীয়ভাবে উচ্চ ভলিউমে শোনা এড়ানো উচিত এবং কোলাহলপূর্ণ পরিবেশে উপযুক্ত শ্রবণ সুরক্ষা ব্যবহার করা উচিত।

AOI পশ্চিমবঙ্গের সম্পাদক ডাঃ অজয় খাওয়াস বলেন, “আমরা শ্রবণযন্ত্র এবং শ্রবণ পুনর্বাসনের সাথে যুক্ত সামাজিক কুসংস্কার দূর করতে চাই। শ্রবণযন্ত্র দুর্বলতা বা বার্ধক্যের লক্ষণ নয়; এটি যোগাযোগ, আত্মবিশ্বাস এবং উন্নত জীবনের একটি সেতু।” এটি এমন একটি সরঞ্জাম যা মানুষকে পরিবার, সমাজ এবং দৈনন্দিন জীবনের সাথে পুনরায় সংযুক্ত হতে সাহায্য করে। কক্লিয়ার ইমপ্লান্টের মতো আধুনিক শ্রবণ সমাধান এবং অন্যান্য পুনর্বাসন বিকল্পগুলি উল্লেখযোগ্য শ্রবণ প্রতিবন্ধকতাযুক্ত অনেক মানুষের জীবন বদলে দিয়েছে।

AOI পশ্চিমবঙ্গের পক্ষ থেকে ডাঃ সৌমেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় অভিভাবকদের কাছে আবেদন জানিয়েছেন যে, শিশুর শব্দে সাড়া না দেওয়া, কথা বলতে দেরি হওয়া, বারবার একই কথা শুনতে চাওয়া বা টেলিভিশনের ভলিউম বাড়িয়ে দেওয়ার মতো অভ্যাছসগুলি তাঁরা যেন উপেক্ষা না করেন। একইভাবে, প্রাপ্তবয়স্করা কথোপকথন শুনতে অসুবিধা অনুভব করলে, বিশেষ করে কোলাহলপূর্ণ পরিবেশে, তাদের শ্রবণশক্তি হ্রাসকে বার্ধক্যের স্বাভাবিক অংশ হিসাবে মেনে না নিয়ে একজন নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *