ওয়েব ডেস্ক; ১৯ সেপ্টেম্বর : কেন্দ্রের কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগের অংশ হিসাবে, আয়কর বিভাগ, পশ্চিমবঙ্গ ও সিকিম, জাতীয় রোজগার মেলা ২০২৬-এর ২০তম পর্বের কলকাতা অধ্যায়ের আয়োজন করল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কর্মী, জন-অভিযোগ ও পেনশন মন্ত্রকের কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী ড. জিতেন্দ্র সিং ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই কর্মসূচিতে যুক্ত হন।
কেন্দ্রীয় শিক্ষা এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চল অঞ্চল উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী ড. সুকান্ত মজুমদার, আয়কর বিভাগের (পশ্চিমবঙ্গ ও সিকিম) মুখ্য প্রধান কমিশনার সুরভি ভার্মা গর্গ, আইআরএস এবং ডিজিআইটি (তদন্ত), পশ্চিমবঙ্গ, সিকিম ও উত্তর-পূর্ব অঞ্চল, যোগেশ কুমার ভার্মা, আইআরএস-এর সঙ্গে এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ড. মজুমদার আইগট কর্মযোগীর (iGOT Karmayogi) গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং নবনিযুক্ত কর্মচারীদের আজীবন শিক্ষা গ্রহণ ও ধারাবাহিক আত্মোন্নয়নকে গ্রহণ করার আহ্বান জানান।
দেশসেবার সুযোগ পাওয়ার জন্য নবনিযুক্তদের অভিনন্দন জানিয়ে মন্ত্রী রোজগার মেলার মাধ্যমে স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত নিয়োগের তাৎপর্য তুলে ধরেন।
ড. মজুমদার বলেন, রোজগার মেলার মাধ্যমে বিভিন্ন বিভাগ এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানে দেশের যুবসমাজের কাছে প্রায় ১২.৭৫ লক্ষ নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হয়েছে। তিনি তাঁর ভাষণে আরও মন্তব্য করেন যে, কেন্দ্রীয় সরকার ২০৪৭ সালের মধ্যে বিকশিত ভারত গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং তাই প্রতিটি নাগরিকের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন। তিনি নবনিযুক্ত কর্মীদের তাঁদের নিজ নিজ বিভাগ ও কর্মক্ষেত্রে ছোট কিন্তু অর্থপূর্ণ এবং ইতিবাচক পরিবর্তনের মাধ্যমে জাতি গঠনে অবদান রাখার আহ্বান জানান।
গর্গ বলেন, এই পর্বে সারা দেশের ৪৫টি স্থানে একযোগে রোজগার মেলা পরিচালিত হচ্ছে, যেখানে নির্বাচিত প্রার্থীদের মধ্যে প্রায় ৫১,০০০ নিয়োগপত্র বিতরণ করা হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই উদ্যোগটি যুবসমাজকে বিভিন্ন বিভাগ ও সরকারি সংস্থায় যোগ দেওয়ার এবং জনসেবায় অবদান রাখার সুযোগ করে দিয়েছে।
কলকাতা কেন্দ্র থেকে সেন্ট্রাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিকিউরিটি ফোর্স (CISF), ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিক্যাল অফিস (NSO) বা জাতীয় পরিসংখ্যান দফতর, সেন্ট্রাল গ্রাউন্ড ওয়াটার বোর্ড, গার্ডেন রিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স (GRSE), ভারতীয় রেল এবং অন্যান্য সরকারি সংস্থা-সহ বিভিন্ন সংস্থায় যোগদানকারী নির্বাচিত প্রার্থীদের নিয়োগপত্র প্রদান করা হয়।
গর্গ বলেন, সততা, সহানুভূতি এবং কর্তব্যনিষ্ঠা জনসেবার অত্যন্ত প্রয়োজনীয় স্তম্ভ এবং তিনি নবনিযুক্ত কর্মচারীদের তাঁদের দায়িত্ব পালনে এই মূল্যবোধগুলি সমুন্নত রাখার আহ্বান জানান।
যুবসমাজকে অর্থপূর্ণ কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেওয়া এবং বিভিন্ন সরকারি বিভাগ ও সংস্থায় তাঁদের অন্তর্ভুক্তিকে সহজতর করার প্রেক্ষিতে সারা দেশে জাতীয় রোজগার মেলার আয়োজন করা হচ্ছে। এই উদ্যোগটি দক্ষ, স্বচ্ছ ও নাগরিক-কেন্দ্রিক জনসেবার প্রতি সরকারি প্রচেষ্টার প্রতিফলন।
