ওয়েব ডেস্ক; ২১ সেপ্টেম্বর : কেন্দ্রীয় বস্ত্র মন্ত্রী গিরিরাজ সিং এবং কেন্দ্রীয় ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী শোভা করন্দলাজে বেঙ্গালুরুর ইউএএস-জিকেভিকে অডিটোরিয়ামে সেন্ট্রাল সিল্ক বোর্ডের ৭৭তম প্রতিষ্ঠা দিবস অনুষ্ঠান এবং রেশমজাত পণ্য ও প্রযুক্তির প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেছেন।

এই অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য ও সিএসবি বোর্ড সদস্য জি. লক্ষ্মীনারায়ণ, বস্ত্র মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব (রেশম) এবং সিএসবি-র ভাইস চেয়ারপার্সন পদ্মিনী সিংগলা, বোর্ডের সদস্য সচিব পি. শিবকুমার, কর্ণাটক সরকারের উদ্যানপালন ও রেশম বিভাগের সচিব গিরিশ আর এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। কর্ণাটক, অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলেঙ্গানা এবং তামিলনাড়ুর রেশম চাষী ও তাঁতিরা অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে গিরিরাজ সিং বলেন যে, কেন্দ্রীয় সরকার দেশের রেশম চাষ ক্ষেত্রের সম্প্রসারণ এবং রেশম চাষিদের অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ২০১৪ সালে দেশের রেশম উৎপাদন যেখানে ২৬,০০০ মেট্রিক টন ছিল বর্তমানে তা বেড়ে ৪২,০০০ মেট্রিক টনে দাঁড়িয়েছে। ২০৩০-৩১ সালের মধ্যে এটিকে ৬০,০০০ মেট্রিক টনে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। ২০২৮-২৯ সালের মধ্যে রেশম উৎপাদনে ভারতকে সমগ্র বিশ্বে এক নম্বর স্থানে উন্নীত করার সংকল্প নেওয়া হয়েছে। এই লক্ষ্যে, তুঁত পাতার ফলন বৃদ্ধি এবং গুটি প্রতিপালনের চক্র বাড়ানোর মাধ্যমে কৃষকদের বার্ষিক আয় ১০ লক্ষ থেকে ১২ লক্ষ টাকায় উন্নীত করার চেষ্টা চলছে বলে তিনি জানান।

রেশম চাষিদের মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব গড়ে তোলার জন্য জেলা, রাজ্য ও জাতীয় পর্যায়ে ‘শ্রেষ্ঠ রেশম চাষি’ পুরস্কার প্রতিযোগিতা আয়োজনের আহ্বান জানান মন্ত্রী। বিজ্ঞানীদের নতুন উদ্ভাবনের লক্ষ্যে কাজ করার আহ্বান জানান। আধুনিক যন্ত্রপাতি সরাসরি কৃষকদের কাছে পৌঁছানোর উপ জোর দেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, চীনের উৎপাদন যখন কমছে, ঠিক সেই সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতীয় রেশমের চাহিদা বাড়ছে। রেশম চাষ থেকে শুরু করে রিলিং ও বয়ন পর্যন্ত সমগ্র মূল্য শৃঙ্খলকে শক্তিশালী করা, দেশের বস্ত্র বাজারকে ৩০০ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাওয়া এবং তাঁতি ও শ্রমজীবী মানুষের জন্য ন্যূনতম অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার বলে জানান তিনি।

শোভা করন্দলাজে বলেন যে, দেশের মোট রেশম উৎপাদনে কর্ণাটক শীর্ষস্থানে রয়েছে। তিনি বলেন এই ক্ষেত্রকে আরও শক্তিশালী করার জন্য সরকার পরিকাঠামো উন্নয়ন ও শিল্পোন্নয়নের দিকে বিশেষ মনোযোগ দিচ্ছে। আধুনিক প্রযুক্তি এবং উচ্চ-ঘনত্বের উৎপাদন পদ্ধতি গ্রহণের মাধ্যমে বিশ্বমানের রপ্তানিযোগ্য রেশম উৎপাদনে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এটি দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধি করবে এবং আমদানির উপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করবে। বিপুল সংখ্যক উদ্যোক্তা এমএসএমই কাঠামোর আওতায় নিবন্ধন করছেন এবং সরকার তাদের সহায়তা করার জন্য ক্রমাগত ভর্তুকি ও মানোন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। মন্ত্রী বলেন যে, সরকারের প্রধান উদ্দেশ্য হলো স্থানীয় উৎপাদকদের জন্য উপযুক্ত বাজারের সুযোগ তৈরি করা এবং রেশম চাষ ও বস্ত্র শিল্প ক্ষেত্রে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা।

বস্ত্র মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব (রেশম) পদ্মিনী সিংগলা, রেশম চাষ ক্ষেত্রের কৌশলগত অগ্রগতির ওপর আলোকপাত করেন। তিনি বলেন যে, ২০৩০-৩১ সালের মধ্যে দেশে ৬০,০০০ মেট্রিক টন রেশম উৎপাদনের একটি উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য, উচ্চ ফলনশীল রেশম পোকার সংকর জাত ও যন্ত্রপাতি প্রবর্তনের পাশাপাশি গুণমান যাচাই এবং উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য এআই, জিআইএস ও মেশিন লার্নিং প্রযুক্তি একীভূত করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠান, সিল্ক পর্ষদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সংস্থার সংগে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বিনিময় করা হয়। এছাড়া, ২৮ জন বিজ্ঞানীকে নিয়োগপত্র বিতরণ, বিশিষ্ট কর্মচারী ও অংশীদারদের পুরস্কার প্রদান এবং বোর্ডের বিভিন্ন প্রকাশনা ও সাময়িকী উন্মোচনও করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *