শুভাবরি ওয়েব ডেস্ক, ১৫ মার্চ, কলকাতা: নির্বাচনের দামামা বাজতেই রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা সংশ্লিষ্ট বিধানসভায় পায়ে হেঁটে বা গাড়িতে জনসংযোগ শুরু করে দিয়েছেন। যাদবপুর অঞ্চলের পরিচিত মুখ এবং কাজের মানুষ বলে পরিচিত দেবব্রত মজুমদার বহু বছর আগেই “মলয় দা” বলে মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন। রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের যাদবপুর বিধানসভা প্রার্থী দেবব্রত মজুমদার পদব্রজে বিভিন্ন ওয়ার্ডে ঘুরছেন।

উল্লেখ করা যেতে পারে, যাদবপুর বিধানসভার অন্তর্গত কলকাতা পৌরসভা ওয়ার্ড রয়েছে দশটি। দেবব্রত মজুমদার মেয়র পরিষদ থাকাকালীন তার নিজের ওয়ার্ড ৯৬ নম্বর ওয়ার্ডকে যেমন স্বপ্নের মত করে সাজিয়ে দিয়েছেন। একইভাবে কলকাতা শহরকে জঞ্জালমুক্ত করে রাখতে একনিষ্ঠ ভাবে কাজ করে গিয়েছেন। তার ফলে যাদবপুর অঞ্চল এক নতুন রূপ নিয়েছে।

কমিউনিস্ট পার্টির গতবারের নির্বাচিত প্রতিনিধি ছিলেন সুজন চক্রবর্তী। যাদবপুর বিধানসভার বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডে কোথাও সিপিএমের শক্তি যথেষ্ট বেশি রয়েছে। কোথাও কোথাও আবার তৃণমূলের সমানে সমানে রয়েছে। সে ক্ষেত্রে তবে এবারে তার লড়াইটা যে খুব সহজ হবে না সেটা মাঠে-ময়দানে ঘুরলেই বোঝা যাচ্ছে। সেইসাথে পুরনো সিপিএমের কাউন্সিলর রিঙ্কু নস্করকে বিজেপি যাদবপুর কেন্দ্র থেকে টিকিট দিয়েছে। দলীয় কোন্দল এখানে কিন্তু সমস্যায় ফেলতে পারে দুই পক্ষকেই। তার সম্ভাবনা যেমন রয়েছে তেমনি রয়েছে সুজন চক্রবর্তীর তৃণমূল স্তরে রাজনীতি করার অভিজ্ঞতা।
অন্যদিকে পোড়খাওয়া রাজনীতিবিদ ব্যক্তির মানুষ দেবব্রত মজুমদার বহু বছর আগে থেকে বয়স্ক, যুবক এবং মহিলাদের জন্য পৃথক পৃথকভাবে সমাজসেবার কাজ করে সমাজের বিভিন্ন অংশের সাথে নিজেকে যুক্ত করে রেখেছেন। সে ক্ষেত্রে লড়াইয়ে কার দিকে পাল্লা ভারি হবে সেটা একটু চিন্তা-ভাবনা করতেই হবে।
আজ সকালে মলয় মজুমদারের জনসংযোগের জায়গা ছিল ১০৫ নম্বর ওয়ার্ড। যেখানে তৃণমূল কংগ্রেস ২০১৫ সালে পুরসভা নির্বাচনে ১৯% ভোট বাড়াতে সক্ষম হয়েছিল। অন্যদিকে বামফ্রন্টের কমেছিল ১৮% , ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের কমেছিল ৫% । খুব কম শতাংশ হিসেবে হলেও বিজেপি বাড়িয়েছিল ২%।
এবারে কিন্তু ওয়ার্ডের বিশ্লেষণ বলছে বিজেপি ১০৫ ১০৬ তাদের শক্তি বৃদ্ধি করতে পেরেছে অনেকটাই। তবে কতটা করেছে, তৃণমূল কংগ্রেস ১৯% এরপরে আরো কতটা বৃদ্ধি পেয়েছে, জোট তাদের ক্রমহ্রাসমান জনসমর্থনকে সামলে নিতে পেরেছেন কিনা, সেটি কিন্তু জানা যাবে ২ মে তারিখে। তবে জনসংযোগের ক্ষেত্রে যাদবপুর বিধানসভার মানুষ কিন্তু দেবব্রত মজুমদারকেই বেশি দেখতে পাচ্ছেন মাঠে ময়দানে।
