অনেকেই ভুলে যান যে মায়ের দুধইশিশুর আসল খাদ্য। জন্মের পর প্রথম কয়েক মাস স্তন্যপানের কোনও বিকল্প হয় না। মায়ের দুধই কোভিড অতিমারি থেকে সদ্যজাতকে রক্ষা করতে পারে। কোভিডের তৃতীয় ঢেউ থেকে সদ্যোজাতকে কী ভাবে রক্ষা করতে পারে মায়ের দুধ, জানালেন স্ত্রীরোগ চিকিৎসক বাসুদেব মুখোপাধ্যায়।
সন্তানের জন্মের পরে প্রায় সঙ্গেসঙ্গেই মায়ের স্তনবৃন্ত থেকে ঈষৎ হলদেটে ঘন দুধ নিঃসৃত হয়। এই দুধকেই বলা হয় কোলস্ট্রাম। কোলোস্ট্রামে আছে IgA নামক এক বিশেষ ধরনের অ্যান্টিবডি যেটি সদ্যোজাতর মুখ, গলা, থেকে শুরু করে ফুসফুস ও অন্ত্র প্রতিটি অঙ্গের রক্ষাকারী আবরণ মিউকাস মেমব্রেনের সুরক্ষা কবচের কাজ করে। মিউকাস স্তর সুরক্ষিত থাকলে বাইরের সংক্রমণ চট করে শিশুকে কাবু করতে পারে না । অন্য অসুখের সঙ্গে সঙ্গে এই সুরক্ষা বলয় সদ্যজাতকে কোভিড থেকেও রক্ষা করে। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, জন্মের ১ ঘণ্টার মধ্যেই শিশুকে স্তন্যপান করালে ভবিষ্যতে নানা অসুখ থেকে তাকে দূরে রাখা যায়। তাই জন্মের পর যত তাড়াতাড়ি সম্ভব শিশুকে স্তন্যপান করানো উচিত কোলোস্ট্রামের জন্যে।
পুষ্টিবিদরা এই দুধকে বলেন তরল সোনা। প্রথম দুধে আছে এমন কিছু পুষ্টিকর উপাদান যা শিশুকে দিলে তার জীবনভর সুরক্ষা প্রায় সুনিশ্চিত। সদ্য মায়ের প্রথম দুধ কোলোস্ট্রাম গ্রোথ ফ্যাক্টরে পরিপূর্ন। এটি শিশুর ত্বক, পেশি, কার্টিলেজ, নার্ভ টিস্যু ও হাড় গঠনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন ভুমিকা নেয়।
অনেকে বলেন যে প্রসবের প্রায় সঙ্গেসঙ্গে মা কি দুধ খাওয়ানোর মতো সুস্থ থাকেন না। কিন্তু সদ্যোজাতকে দুধ খাওয়ানোটা খুব কষ্টকর কাজ নয়। তাই প্রসূতির যতই শারীরিক কষ্ট থাকুক না কেন, সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে তাকে কোলোস্ট্রাম দেওয়া জরুরি। বিশেষ করে যে সব শিশু নির্ধারিত সময়ের আগে জন্মেছে, তাদের শ্বাসনালী ও ফুসফুসের সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি। জন্মের সঙ্গে সঙ্গে কোলোস্ট্রাম খাওয়ালে সংক্রমণের ঝুঁকি অনেক কমে যায়।
ম্যামারি গ্ল্যান্ডে জমে থাকা ঘন কোলোস্ট্রাম স্বাভাবিক মাতৃদুগ্ধের থেকে প্রায় ১০ গুণ ঘন। প্রসবের পর মোটে ২–৩ দিন এই দুধ নিঃসৃত হয়। এই দুধের পরিমাণ তো অত্যন্ত কম, অনেকে ভাবেন এতে শিশুর পেট ভরে না। সত্যিই এই দূধ সারা দিনে মাত্র কয়েক চামচ হয়। তবে তা নিয়ে চিন্তা করার কোনও কারণ নেই। কারন সদ্যোজাতর পাকস্থলির আকার একটি মার্বেলের গুলির মতো। (যদিও প্রতি মুহূর্তে পাকস্থলী আকারে বাড়ে) তাই প্রথম দু’-তিন দিন যৎসামান্য দুধেই তার পেট ভরে যায়। এত কম খেলে শিশুর পুষ্টির ঘাটতিও হয় না। তাই সব সময়ে শিশুকে সুস্থ রাখার জন্য কোলোস্ট্রাম দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
প্রোটিন রিচ পলিপেপটাইড বা পিআরপিএস সমৃদ্ধ কোলোস্ট্রাম নিয়ে গবেষণায় জানা গেছে ইকোলাই, রোটা ভাইরাস, সিগেলার মতো মারাত্মক সংক্রমণের হাত থেকে এটি সদ্যজাতকে আজীবন সুরক্ষা দিতে পারে। উন্নয়নশীল দেশে রোটা ভাইরাসের সংক্রমণে বহু শিশুর মৃত্যু হয়। মায়েরা সন্তানকে কোলোস্ট্রাম খাওয়ানোর অভ্যাস গড়ে তুললে শিশুমৃত্যু অনেকটাই প্রতিরোধ করা যায়। এই কারনেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ এবং ওয়ার্ল্ড অ্যালায়েন্স ফর ব্রেস্ট ফিডিং অ্যাকশন জন্মের এক ঘণ্টার মধ্যেই মায়ের দুধ খাওয়ানোর পরামর্শ দিচ্ছেন।
যোগাযোগঃ 07604075551-55
