গত ৩ ডিসেম্বর সীমান্ত মুখ্যালয় দক্ষিণবঙ্গের অধীন ১৫৩ ব্যাটালিয়নের সীমা চৌকি কৈজুরির মানব পাচারবিরোধী দল সঠিক তথ্য পায় যে সীমা চৌকি কৈজুরির এলাকায় মানব পাচারের সম্ভাবনা রয়েছে । ওই দিন কর্তব্যরত জওয়ানরা লক্ষ্য করেন যে ১ জন মহিলা ভারত থেকে বাংলাদেশ যাওয়ার জন্য সীমান্ত অতিক্রম করার চেষ্টা করছে। জোয়ানরা সঙ্গে সঙ্গে মহিলাটিকে ধাওয়া করে ধরে ফেলে। গ্রেফতার হওয়া বাংলাদেশী মহিলা তার নাম শিল্পী বেগম (কাল্পনিক নাম) জেলা- ঢাকা (বাংলাদেশ) বলে জানিয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায়, প্রায় ০২ বছর আগে সে তার প্রেমিক সলমান বয়স ২২ বছর, গ্রাম শেয়ারপুর, বাংলাদেশের সাথে অজানা স্থান হয়ে ভারতে আসে। তার প্রেমিকা তাকে বাসে করে হাওড়া স্টেশনে নিয়ে আসে এবং ট্রেনে করে তাকে মুম্বাই নিয়ে যায়। তার প্রেমিকা তাকে মুম্বাইয়ের কামাটিপুরা লালবাজারে একটি পতিতালয়ের মালিক আইসার কাছে বিক্রি করে দেয়। সে আরও জানায়, সে পতিতালয়ে ৭ দিন পতিতা হিসেবে কাজ করেছে। ০৭ দিন পর আইসা তাকে বেঙ্গালুরুর জেপি নগর পতিতালয়ে নিয়ে আসে। সে জানায় যে , সেখানেও সে প্রায় ০২ বছর পতিতা হিসেবে কাজ করে। এই সময়ে নীতেশ নামে এক খদ্দের তার কাছে আসে এবং তাকে পতিতালয় থেকে মুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দেয়। ৩০ নভেম্বর ২০২১-এ, সে নিতেশের সহায়তায় বেঙ্গালুরুর জেপি নগর পতিতালয় থেকে পালিয়ে যায়। এর পরে, ০২ নভেম্বর ২০২১ তারিখে সে ট্রেনে কলকাতা পৌঁছেছিল। তার বোন কলকাতা থেকে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত পাড়ি দেওয়ার জন্য ভারতীয় দালালের যোগাযোগ নম্বর দেয়। ওই ভারতীয় দালালের নাম রবিউল সরদার, কলকাতার বাসিন্দা।
বিএসএফের হাতে আটক বাংলাদেশি নারী তার করুন কাহিনী শুনায়। বি এস এফ ওই মহিলার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সংলাপ এনজিও সাহায্য নেয়। মহিলার কাছে যে স্মার্ট ফোন পাওয়া যায়, তার সাহায্য আরো কিছু জানা যেতে পারে। পুরা জিজ্ঞাসাবাদের পর মহিলা কে স্বরূপনগর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে, যাতে নিয়মানুসারে ছানবিন করা যায়।
বিএসএফ-এর মুখপাত্র বলেছেন যে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে মানব পাচার (Human trafficking) বন্ধ করতে সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনী কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে। আন্তর্জাতিক সীমান্ত দিয়ে মানব পাচারের সকল প্রচেষ্টা যেভাবেই হোক নস্যাৎ করা হবে।
