ওয়েব ডেস্ক; ১ জুন : অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি)-এর রাষ্ট্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের বৈঠক ২৯ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত ভুবনেশ্বরে অনুষ্ঠিত হয়। দেশের ৪৬টি প্রদেশ থেকে চার শতাধিক প্রতিনিধি ও কার্যকর্তা এই গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন। বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে চারটি প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে— ‘শিক্ষা সংস্কারকে ফলপ্রসূ করতে কার্যকর বাস্তবায়ন অপরিহার্য’, ‘সশস্ত্র মাওবাদের অবসানকালে শহুরে মাওবাদ একটি গুরুতর চ্যালেঞ্জ’, ‘সংগঠিত অপরাধ ও জিহাদি মানসিকতার মাধ্যমে নারীদের শোষণ ও ধর্মান্তরণের ওপর লাগাম টানা হোক’ এবং ‘বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার সময়ে সংযম ও সতর্কতার সম্মিলিত রাষ্ট্রীয় সংকল্পই সময়ের দাবি’।

রাষ্ট্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের বৈঠকের পূর্বে, ২৭ মে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় কার্যসমিতির বৈঠকে ‘গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য পশ্চিমবঙ্গের জনমানসকে অভিনন্দন’ শীর্ষক একটি অভিনন্দন প্রস্তাব গৃহীত হয়। একইসঙ্গে, এবিভিপি দেশের শিল্পজগতের কাছে গবেষণা ও উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে, যাতে ‘বিকশিত ভারত’-এর স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে আরও গতি সঞ্চারিত হয়।

বৈঠকে রাষ্ট্রীয় পরিস্থিতি, শিক্ষা ব্যবস্থা, যুবসমাজের ভূমিকা, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা, সামাজিক-অর্থনৈতিক বিষয় এবং সমসাময়িক চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়। পাশাপাশি, সর্বভারতীয় চিন্তন বৈঠক ও সাংগঠনিক চিন্তন বৈঠকের সিদ্ধান্তসমূহের পর্যালোচনা, বিভিন্ন অভিযানভিত্তিক, কার্যক্রমভিত্তিক ও সাংগঠনিক কাজের মূল্যায়ন এবং আগামী বছরের বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনাও নির্ধারণ করা হয়।

আন্তঃরাজ্য ছাত্র জীবন দর্শন (SEIL)-এর গৌরবময় রাষ্ট্রীয় একাত্মতা যাত্রার ৬০ বছর পূর্তি উপলক্ষে সারা দেশে ‘SEIL@60’ কার্যক্রম আয়োজিত হবে। এছাড়াও ‘স্ক্রিন টাইম টু অ্যাক্টিভিটি টাইম’, ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর, জরুরি অবস্থার ৫০ বছর, শ্রী গুরু তেগবাহাদুরের বলিদানের ৩৫০ বছর এবং সন্ত রবিদাসজির ৬৫০তম আবির্ভাব জয়ন্তী উপলক্ষে সারা বছর দেশব্যাপী বিভিন্ন অভিযান পরিচালিত হবে।

এবিভিপির রাষ্ট্রীয় মহামন্ত্রী ডাঃ বীরেন্দ্র সিং সোলাঙ্কি বলেন, “রাষ্ট্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের বৈঠকে গৃহীত প্রস্তাবগুলি কেবল বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলির প্রতি এবিভিপির প্রতিক্রিয়া নয়, বরং একটি বিকশিত, নিরাপদ ও আত্মনির্ভর ভারত গড়ার আমাদের বৃহত্তর দৃষ্টিভঙ্গিরও প্রতিফলন। শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও ফলপ্রসূ ও বিদ্যার্থী কেন্দ্রিক করে তোলা, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার সামনে উপস্থিত শহুরে মাওবাদের মতো চ্যালেঞ্জের কার্যকর সমাধান, নারীদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধ ও ধর্মান্তকরণের ষড়যন্ত্র রোধ এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও রাষ্ট্রীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার সম্মিলিত সংকল্প এই বৈঠকের মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। ভারতকে বৈশ্বিক উদ্ভাবন ও জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতির নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত করতে যুবশক্তি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং শিল্পক্ষেত্রের মধ্যে শক্তিশালী সমন্বয় অপরিহার্য। এবিভিপি দেশের শিল্পজগতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, তারা যেন গবেষণা ও উন্নয়নে আরও বেশি বিনিয়োগ করে এবং যুবসমাজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলির সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্ব গড়ে তোলে। আমরা বিশ্বাস করি, ভারতের যুবসমাজ তাদের প্রতিভা, উদ্ভাবনী ক্ষমতা এবং রাষ্ট্রীয় চেতনার শক্তিতে দেশকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেবে এবং এবিভিপির এই রাষ্ট্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের বৈঠক সেই লক্ষ্যে ধারাবাহিক নেতৃত্ব প্রদান করবে।”