ডিজিটাল ডেস্ক; ৬ মার্চ: গত ৫ মার্চ দক্ষিণবঙ্গ সীমান্তের অধীনে বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের জওয়ানরা আবারও চোরাকারবারিদের পরিকল্পনা ব্যর্থ করে ৭.৪৮০ কেজি রূপার গহনা সহ ১ জন চোরাকারবারীকে হাতেনাতে ধরে। বিবৃতি অনুসারে, বাজেয়াপ্ত রূপার আনুমানিক মূল্য ৩,৩৫,২৬০/- টাকা। চোরাকারবারীর এসব রুপার গহনা ভারত থেকে বাংলাদেশে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল।
চোরাকারবারীরা আন্তর্জাতিক সীমান্তে সীমান্তবর্তী গ্রামবাসী এবং বয়স্ক ব্যক্তিদের ব্যবহার করছে
বর্ডার ফাঁড়ি গোবর্ধা, ১৫৩ ব্যাটালিয়ন সেক্টর কলকাতার জওয়ানরা আন্তর্জাতিক সীমান্তে তত্পরতার সাথে তাদের রুটিন ডিউটিতে ছিল। জওয়ানরা একজন ব্যক্তির সন্দেহজনক গতিবিধি লক্ষ্য করেন, সেই ব্যক্তি গোবর্ধা বাজার থেকে মন্ডলপাড়া গ্রামের (সীমান্ত গ্রাম) দিকে যাচ্ছিল। তল্লাশির জন্য জওয়ানরা এই ব্যক্তিকে থামানোর চেষ্টা করলে ওই ব্যক্তি ঘটনাস্থল থেকে পালানোর চেষ্টা করলেও প্রস্তুত জওয়ানরা তাকে ধরে ফেলে। যখন বিএসএফ কর্মীরা তাকে তল্লাশি করে, তখন লোকটির ডান পায়ের উপরের অংশ থেকে তিনটি প্যাকেট উদ্ধার করা হয়, যেগুলি শক্তভাবে বাদামী প্লাস্টিকের টেপ দিয়ে বাঁধা ছিল, যার ভিতর থেকে ৭.৪৮০ কেজি রূপার গয়না উদ্ধার করা হয়। জওয়ানরা তিনটি প্যাকেট বাজেয়াপ্ত করেছে এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাচারকারীকে হেফাজতে নিয়েছে। গ্রেফতারকৃত পাচারকারীর নাম সুবল মন্ডল (৫৭বছর)।
জিজ্ঞাসাবাদে ধৃত পাচারকারী সুবল মন্ডল জানায়, সে গত ছয় মাস ধরে চোরাকারবারী হিসেবে কাজ করে আসছিল। ৫ মার্চ সকালে সে কৈজুরী বাজারের সমরেশ মন্ডল (গ্রাম- কৈজুরী, থানা- স্বরূপনগর) নামে এক চোরাকারবারীর কাছ থেকে এই ৩টি প্যাকেট রূপার গহনা নেয়, যা বিএসএফ ডিউটি লাইন অতিক্রম করার পর বাংলাদেশি চোরাকারবারী রহমান মোল্লা (গ্রাম- কল্যাণী, জেলা- সাতক্ষীরা, বাংলাদেশ) কে দেওয়ার কথা ছিল। সে আরও জানায়, উদয় মন্ডল নামে আরেক চোরাকারবারিও এ কাজে জড়িত ছিল যে তার লাইন ম্যান (সহকারী) হিসেবে কাজ করত।
আন্তর্জাতিক সীমান্তে সোনা-রূপা চোরাচালানের বড় সিন্ডিকেটর পর্দা ফাঁস
জিজ্ঞাসাবাদে আটক চোরাকারবারী সুবল মন্ডল জানায়, আদিত্য তরফদার (৪৫), জস্তিরাম মন্ডল (৪৩), বোলিয়া মন্ডল (৪৪) , লখন মণ্ডল (৪৫) এই এলাকায় সোনা-রূপা পাচারের সঙ্গে জড়িত।
এরা সব গ্রাম কৈজুরী ও গোবর্ধা, থানা-স্বরূপনগরের বাসিন্দা। এই প্রধান চোরাকারবারিরা অন্য ছোট চোরাকারবারিদের সঙ্গে বড় সিন্ডিকেট হিসেবে কাজ করছে।
গ্রেফতারকৃত চোরাকারবারী ও বাজেয়াপ্ত রুপার গহনা পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কাস্টম অফিস তেঁতুলিয়ায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
দক্ষিণবঙ্গ সীমান্তের জনসংযোগ কর্মকর্তা এবং ডিআইজি সুরজিত সিং গুলেরিয়া বলেছেন যে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে চোরাচালান বন্ধ করতে সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনী কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে। যার কারণে এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িতরা চরম বিপাকে পড়ছে। ভুল উদ্দেশ্য থাকা চোরাকারবারিদের ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, বিএসএফ সদস্যদের চোরাকারবারিদের প্রতিটি মোডস অপারেন্ডি সম্পর্কে যথাযথ প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, যাতে চোরাকারবারিদের ফাঁদ ভাঙা যায়। গ্রেফতারকৃত চোরাকারবারী যেই সিন্ডিকেটের নাম বলেছে বিএসএফ তাদের ধরতে জোরদার কাজ করেছে।
