ওয়েব ডেস্ক; ৭ নভেম্বর: দেশে বেকারত্ব সমস্যা নিয়ে সবসময়ই কথা বলেছেন অনেকেই কিন্তু তার সমাধান প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে সঞ্জয় বলেন দেশের কোণে কোণে সরকারি ব্যাংকের শাখা খুলে কর্মী নিয়োগ করলেই অনেক টা আসু সমাধান হতে পারে।সেই বেকারত্ব সমস্যাকে সমাধানের জন্য দাবি তুললেন ফেডারেশন অফ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সর্বভারতীয় চেয়ারম্যান সঞ্জয় দাস। সোমবার কলকাতায় ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন ( ইস্টার্ন ইন্ডিয়া ব্রাঞ্চেস্ ) এর পক্ষ থেকে ফেডারেশন অফ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের ৫৯ তম প্রতিষ্ঠা দিবস ধুম ধাম করে পালন করলো। সেই অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে সঞ্জয় দাস বলেন যে আমাদের তৎকালীন নেতারা যে উদ্দেশ্য নিয়ে এই সংগঠন তৈরি করেছিলেন সেই রাস্তায় আমরা চলতে পারছি কিনা সেটা অবলোকন করার সময় এটা।
সঞ্জয় বাবু বলেন ” যখন থেকে ব্যাংক জাতীয়করণ হয়েছে তবে থেকে সরকারি ব্যাংকগুলি খুবই কম সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে। বিগত কিছু বছরে দেখা গেছে যে বেশ কিছু সংস্থার আর্থিক টালমাটাল অবস্থাকে সামাল দেওয়ার জন্য সরকারি ব্যাংক সবার আগে এগিয়ে এসেছে। দেশের আর্থিক সংকট যখনই দেখা গেছে তখনই সরকারি ব্যাংকগুলো সরকারের পাশে ছিল। তবুও সরকার সরকারি ব্যাংক বেসরকারিকরণের দিকে ঝুঁকছে। “

দেশের বেকারত্ব সমস্যা নিয়ে আগেও বারবার প্রশ্ন তুলেছেন সঞ্জয় দাস। এদিন তিনি বলেন “সরকার সারা দেশের সরকারি ব্যাংকের ক্ষেত্রে ৪০ হাজারের বেশি শূন্য পদের হিসেব দিলেও আমাদের হিসেব অনুযায়ী সারাদেশে দুই লক্ষেরও বেশি শূন্য পদ রয়েছে। এই শূন্য পদ গুলি যদি পূরণ করা হয় তাহলে যেমন ভাবে ভালো পরিষেবা পাবেন গ্রাহকরা ঠিক তেমনি ভাবেই দূর হবে দেশের বেকারত্ব সমস্যা। “
বিগত বেশ কিছু বছর ধরে দেখা যাচ্ছে সরকারি ব্যাংক গুলি মুনাফা করছে। এছাড়া সরকারি ব্যাংকের ওপর যে অনাদায়ী ঋণের বোঝা রয়েছে তাও কিন্তু ধীরে ধীরে কমছে। সরকারি ব্যাংকের কর্মীদের নিরলস প্রচেষ্টায় এটা সম্ভব হচ্ছে এবং সরকারি ব্যাংক কিন্তু ভালো স্থানে রয়েছে বর্তমানে : জানান সঞ্জয় দাস।
সঞ্জয়বাবু যে বিষয়ের উপর জোর দিয়ে বলেছেন তা হল মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্ত ও উচ্চ মধ্যবিত্ত মানুষেরা আর্থিক সঞ্চয়ের জন্য সবচেয়ে বেশি ভরসা করেন সরকারি ব্যাংকের ওপর। সরকারি ব্যাংক কিন্তু কোনোভাবেই সাধারণ মানুষকে অসুবিধার মধ্যে পড়তে দেয় না। সেই সূত্র ধরেই সঞ্জয় দাস বলেন যে সরকারি ব্যাংককে আরো বেশী সরকারি সুরক্ষা দেওয়া যায় তাহলে যেরকম ভাবে সাধারণ মানুষের অর্থ সুরক্ষিত থাকবে ঠিক তেমনি ভাবেই যুবক-যুবতীদের কাজের একটি সুরক্ষা তৈরি হবে। নতুন নতুন শাখা খোলারও পক্ষে সওয়াল করেন তিনি। বিশেষ করে যখন বিশ্বের অর্থনৈতিক অবস্থা টালমাটাল এমত অবস্থায় পুঁজির ওপর সরকারি নিয়ন্ত্রণ জরুরি।
দেশের অর্থনীতিকে যদি ঠিকভাবে ধরে রাখতে হয় তাহলে সরকারি ব্যাংকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে সেই কথা মনে করিয়ে দেন ফেডারেশনের চেয়ারম্যান সঞ্জয় দাস। এছাড়াও ব্যাংক সংযুক্তিকরণ পদ্ধতিকেও তিনি যুক্তিহীন বলে দাবি করেন। এছাড়াও তিনি বলেন গ্রামীণ অর্থনীতিকে যদি ধরে রাখতে হয় তাহলে ভরসা রাখতে হবে সরকারি ব্যাংকের ওপর।
এদিন অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া অফিসার্স এসোসিয়েশন (ইস্টার্ন ইন্ডিয়া ব্রাঞ্চেস্) এর চেয়ারম্যান মলয় চৌধুরী, উপদেষ্টা তরুণ সাহা ,সভাপতি অভিজিৎ মণ্ডল, ঋষভ হালদার, তন্ময় দাস ,অমিত দত্ত , অর্ক চ্যাটার্জী , দেবাশীষ মণ্ডল সহ অন্যান্যরা।
