ডিজিটাল, ১০ ডিসেম্বর:

পশ্চিমবঙ্গে উনবিংশ শতাব্দী থেকে শুরু করে দীর্ঘকাল যাবত যে সাধারণ গ্রন্থাগার ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে আজ সেই গ্রন্থাগার কর্মীর অভাবে বেশিরভাগই বন্ধ এবং জরাজীর্ণ হয়ে গেছে। সাংবাদিক সম্মেলনে গ্রন্থাগার চাকরিপ্রার্থী ঐক্য মঞ্চ ও বঙ্গীয় গ্রন্থাগার পরিষদের সদস্যরা পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান গ্রন্থাগারের সম্পর্কে বক্তব্য রাখেন। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী :
পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় সরকার ঘোষিত সাধারণ গ্রন্থাগার এর সংখ্যা ২৪৮০টি। এই গ্রন্থাগার গুলিতে গ্রন্থাগারিক গ্রন্থাগার সহায়ক ও অন্যান্য মোট অনুমোদিত পদের সংখ্যা ৫৬৭২, বর্তমানে সব পদ মিলিয়ে শূন্য পদের সংখ্যা প্রায় ৩৮৬৪টি।‌
তারা অভিযোগ করেন ২০০৯ সালের পর থেকে সাধারণ গ্রন্থাগার ও ২০১২ সালের পর থেকে স্কুল লাইব্রেরীতে কোনরূপ নিয়োগ এই রাজ্যে নেই। অন্যদিকে সরকার এবং সরকার পোষিত স্কুল ও মাদ্রাসা গুলোতে অনেকদিন ধরেই কোন লাইব্রেরিয়ান নিয়োগ করা হয়নি। তাদের তথ্য অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গে মোট উচ্চ মাধ্যমিক স্কুলের সংখ্যা ৬৫২৭, এরমধ্যে শূন্য পদ ৪০২৭। তেমনি রাজ্যে হাই মাদ্রাসার সংখ্যা ৬১৯ তারমধ্যে লাইব্রেরিয়ান রয়েছে ১২০ টিতে ।‌
বঙ্গীয় গ্রন্থাকার পরিষদের পক্ষ থেকে অভিযোগ ওঠে হয় যে পশ্চিমবঙ্গে একটি মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় সহ মোট দশটি বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগার বিজ্ঞান পড়ানো হয় এবং দুটি প্রশিক্ষণকেন্দ্রে গ্রন্থাগার বিজ্ঞানের সার্টিফিকেট কোর্স করানো হয়। এই বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গুলি থেকে প্রতিবছর বিপুল সংখ্যক ছাত্র-ছাত্রী গ্রন্থাগার বিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রী স্নাতকোত্তর ডিগ্রি এবং সার্টিফিকেট পাস করে চাকরি না পেয়ে বেকারত্বের জ্বালায় ভুগছে।
সম্মেলনে গ্রন্থাগার চাকরিপ্রার্থী ঐক্য মঞ্চ থেকে রাজ্য সরকারের কাছে দাবি করা হয়
দ্রুত রাজ্যের সমস্ত সরকারও সরকার পোষিত স্কুল মাদ্রাসা লাইব্রেরী গুলির শূন্যপদে লাইব্রেরিয়ান নিয়োগ করতে হবে।
সরকার ও সরকার পোষিত পাবলিক লাইব্রেরী গুলির শূন্যপদে লাইব্রেরিয়ান নিয়োগ করতে হবে।
অবসরপ্রাপ্ত গ্রন্থাগারিক ও গ্রন্থাগার সহায়ক, কর্মীদের নিয়োগ করা চলবে না।
চুক্তিভিত্তিক কর্মী নিয়োগ বন্ধ করে স্থায়ী কর্মী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে হবে।
যে সমস্ত গ্রন্থাকার গুলি বন্ধ হয়ে রয়েছে সেগুলি খোলার ব্যবস্থা এবং তার পরিকাঠামো যথেষ্ট উন্নতি করতে হবে।
তারা আশা করছেন তাদের বক্তব্য রাজ্য সরকার বিবেচনা করে অতি দ্রুত তাদের দাবিগুলো মেনে নেবেন এবং ভবিষ্যতে গ্রন্থাগার পুনরায় মানুষের জীবনের একটি অঙ্গ হিসেবে আবার সু-প্রতিষ্ঠিত হবে। আজ এই সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বেঙ্গল লাইব্রেরি অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে ড. কৃষ্ণপদ মজুমদার, অল বেঙ্গল স্কুল লাইব্রেরি অ্যাসোসিয়েশন এর সম্পাদক অরূপ রতন দাস , পশ্চিমবঙ্গ পাবলিক লাইব্রেরী এম্প্লয়মেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক শিব প্রসাদ চক্রবর্তী প্রমুখ।