ডিজিটাল; ২৬ এপ্রিল: “শুধুমাত্র রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসায় নয় ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণে আমাদের পারিপার্শিক পরিবেশের স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং সামাজিক সচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০৩০ সালের মধ্যে দেশকে ম্যালেরিয়া মুক্ত করার জন্য আমাদের যৌথভাবে উদ্যোগ নিতে হবে।” ২০২২ সালের বিশ্ব ম্যালেরিয়া দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী ডঃ মনসুখ মান্ডভিয়া মূল ভাষণ দেওয়ার সময় এই বিষয়গুলি উল্লেখ করেন। প্রতি বছর ২৫শে এপ্রিল বিশ্ব ম্যালেরিয়া দিবস উদযাপিত হয়। এ বছরের এই দিনটির মূল ভাবনা “বিশ্বজুড়ে ম্যালেরিয়ার প্রকোপ কমাতে উদ্ভাবনের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে এবং এর মাধ্যমে প্রাণ রক্ষা পাবে।”

ডঃ মান্ডভিয়া ম্যালেরিয়া দূরীকরণে জাতীয় এবং আঞ্চলিক স্তরে উদ্যোগী হওয়ার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, দেশ থেকে ম্যালেরিয়া দূর করতে এবং স্বাস্থ্য পরিষেবার মানোন্নয়ন, জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি ও দারিদ্র দূরীকরণে প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে এবং নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য উদ্ভাবনের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। এই প্রসঙ্গে তিনি আশা, এএনএম-এর মতো প্রথম সারিতে থাকা স্বাস্থ্যকর্মীদের ভূমিকার বিষয়টি উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, বেসরকারী ক্ষেত্রকেও একাজে যুক্ত হতে হবে। বেসরকারী সংস্থা এবং যেসব চিকিৎসক ব্যক্তিগতভাবে ম্যালেরিয়া চিকিৎসা করবেন তাঁদের জাতীয় কর্মসূচিতে সব তথ্য সরবরাহ করতে হবে।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আরও বলেন ম্যালেরিয়া দূরীকরণে ভারত যথেষ্ঠ সাফল্য অর্জন করেছে। দেশে ম্যালেরিয়া সংক্রমণের হার নিম্নমুখী- ৮৬.৪৫ শতাংশ। ২০১৫ সাল থেকে ২০২১ সালে ম্যালেরিয়া আক্রান্তদের মৃত্যুর হার কমে দাঁড়িয়েছে ৭৯.১৬ শতাংশ।

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা ভারতী প্রবীন পাওয়ার জানান ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতকে ম্যালেরিয়া মুক্ত করতে কেন্দ্র রাজ্যগুলির সঙ্গে একযোগ কাজ করছে। এরজন্য পরিকাঠামোর মানোন্নয়ন করা হয়েছে। বিভিন্ন পরীক্ষাগারে ম্যালেরিয়া রোগ নির্ণয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

মানুষের মধ্যে ম্যালেরিয়ার বিষয়ে সচেতনতা গড়ে তুলতে নতুন দিল্লী, লক্ষ্মৌ, ভুবনেশ্বর এবং নাগপুর রেল স্টেশনে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও সুসংহত ভেক্টর ব্যবস্থাপনার বিষয়ে একটি ম্যানুয়াল প্রকাশ করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য সচিব রাজীব ভূষণ, জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের ম্যানেজিং ডিরেক্টর বিকাশ শীল সহ বিশিষ্টজনেরা উপস্থিত ছিলেন। ভারতে নিযুক্ত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি ডাঃ রড্রিক অফরিন-ও অনুষ্ঠানে যোগ দেন।