ডিজিটাল; ২০ নভেম্বর: ভারতের প্রথম বেসরকারি উদ্যোগে নির্মিত রকেট সাফল্যের সঙ্গে মহাকাশে উৎক্ষেপণে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ডঃ জীতেন্দ্র সিং বলেছেন, “ধন্যবাদ ভারত। ভারতের মহাকাশ যাত্রায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হল! প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীজিকে ধন্যবাদ, মহাকাশ ক্ষেত্রকে সরকারি-বেসরকারি অংশগ্রহণের ক্ষেত্র হিসেবে খুলে দেওয়ার জন্য। ভারতের স্টার্টআপ আন্দোলনের সন্ধিক্ষণ। ইসরো-কে সাধুবাদ। তার সজ্জিত টুপিতে একটি নতুন পালক সংযোজিত হওয়ায়।” তিনি ওই উৎক্ষেপণ স্থলে ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ২০২০ সালে মহাকাশ ক্ষেত্রকে বেসরকারি অংশগ্রহণের জন্য খুলে দেওয়ার পর ইসরোর যাত্রাপথে এটা এক গুরুত্বপূর্ণ মাইল ফলক।

ইসরো বলেছে, “মিশন প্রারম্ভ সাফল্যের সঙ্গে সম্পাদন করা হয়েছে।” অন্যদিকে স্কাইরুট অ্যারোস্পেস বলেছে, “ভারতের প্রথম বেসরকারি রকেট হিসেবে বিক্রম-এস আকাশকে রাঙিয়ে তোলে।”

ভারতের প্রথম বেসরকারি রকেট বিক্রম-সাবঅর্বিটাল (ভিকেএস)-কে সাফল্যের সঙ্গে মহাকাশে পাঠিয়ে ভারতীয় মহাকাশ সংস্থা ইসরো আজ ইতিহাস রচনা করলো।

কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর, পারমানবিক শক্তি এবং মহাকাশ দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী জীতেন্দ্র সিং অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটায় উপস্থিত থেকে এই স্মরণীয় ঘটনা প্রত্যক্ষ করেন।

প্রথম বেসরকারি রকেট বিক্রম-এস-কে মহাকাশে পাঠানোয় টিম ইসরো ভারতীয় মহাকাশ প্রযুক্তি স্টার্টআপ স্কাইরুট অ্যারোস্পেসকে সংক্ষিপ্ত অভিনন্দন বার্তায় ডঃ জীতেন্দ্র সিং বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী’র নেতৃত্বে এক ঐতিহাসিক মাইল ফলক! ভারতীয় স্টার্টআপগুলির জন্য এক সন্ধিক্ষণ এবং ইসরোর ক্ষেত্রে এক নতুন সূচনা।

ডঃ জীতেন্দ্র সিং বলেন, ইসরোর গরিমাময় মহাকাশ যাত্রাপথে একটি নতুন সাফল্য সংযোজিত হল। ভারতে স্বাধীনতার ৭৫ বছরের ইতিহাসে এটি এক নতুন মাইল ফলক। মন্ত্রী বলেন, এই উৎক্ষেপন বিশ্বের মহাকাশ শক্তির ক্ষেত্রে ভারতকে অগ্রবর্তী স্থান করে দিল এবং অনেক উচ্চাকাঙ্খী দেশ ভারতের এই দক্ষতা থেকে শিক্ষা নেওয়ার জন্য উন্মুখ হয়ে থাকবে। প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী ভারতের মহাকাশ ক্ষেত্রকে বেসরকারি উদ্যোগের কাছে উন্মুক্ত করার সিদ্ধান্তে অনুমোদন দেওয়ার বিষয়টিকে তিনি এক গুরুত্বপূর্ণ মাইল ফলক বলে অভিহিত করেন।

জীতেন্দ্র সিং আরও জানান, বিক্রম এস একটি একক পর্যায়ের জ্বালানী রকেট এবং আগামী বছর বিক্রম ওয়ান উৎক্ষেপনের আগে স্কাইরুট অ্যারোস্পেসের এই প্রকল্প সমস্ত পদ্ধতি এবং প্রক্রিয়াকে পরীক্ষামূলকভাবে অনেকটা এগিয়ে রাখলো। তিনি বলেন, সর্বোচ্চ ৮১.৫ কিলোমিটার উচ্চতায় যাওয়ার পর তা বাঁক নিয়ে সমুদ্রে নিক্ষিপ্ত হয় এবং ৩০০ সেকেন্ডের মধ্যেই এই সামগ্রিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

ডঃ জীতেন্দ্র সিং জানান, স্কাইরুট প্রথম স্টার্টআপ হিসেবে ইসরোর সঙ্গে এই রকেট উৎক্ষেপনের ব্যাপারে সমঝোতাপত্র সাক্ষর করে। তিনি বলেন, দেশের প্রথম বেসরকারি রকেট উৎক্ষেপন ছাড়াও স্কাইরুট অ্যারোস্পেসের ক্ষেত্রে এটা এক প্রথম প্রয়াস এবং এর নাম দেওয়া হয়েছে ‘প্রারম্ভ।’

ইসরো এক প্রেস বিবৃতিতে জানিয়েছে মিশন প্রারম্ভকে সাফল্যের সঙ্গে সম্পাদন করা হয়েছে। অন্যদিকে স্কাইরুট অ্যারোস্পেস বলেছে, ভারতের প্রথম বেসরকারি রকেট হিসেবে সাফল্যের সঙ্গে মহাকাশে উৎক্ষেপনে বিক্রম এস ইতিহাস রচনা করলো। মহাকাশে এটি তিনটি পে-লোড নিয়ে যায়। এর একটি বিদেশী গ্রাহকের।

পরে সাংবাদিক সম্মেলনে ডঃ জীতেন্দ্র সিং একে ভারতের ক্ষেত্রে এক উচ্চাকাঙ্খী স্বপ্নপূরণ বলে আখ্যা দেন। তিনি আরও বলেন, ইসরোর প্রথম চেয়ারম্যান এবং ভারতের প্রথম মহাকাশ কর্মসূচির প্রতিষ্ঠাতা জনক ডঃ বিক্রম সারাভাই প্রাথমিক পর্যায়ে যে স্বপ্ন দেখেছিলেন তা আজ এক সাফল্যের উজ্জ্বল নজির গড়ল।

ডঃ জীতেন্দ্র সিং বলেন, ডঃ বিক্রম সারাভাই সবসময় বলতেন “জাতীয়ভাবে” ইসরো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করুক এবং প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ৮ বছরে সেই স্বপ্ন প্রমাণিত হল। তিনি বলেন, ভারতের যুব প্রতিভা তাদের দক্ষতা, আকাঙ্খা এবং শক্তি প্রদর্শনের এক নতুন উৎসমুখ খুঁজে পেয়েছে। তিনি বলেন, ভারত সব সময় প্রতিভার আধার এবং বৃহৎ স্বপ্নদর্শী। তবে নরেন্দ্র মোদী তাঁকে এক চূড়ান্ত রূপ দিয়েছেন। তিনি বলেন, মহাকাশ ক্ষেত্রে সংস্কার স্টার্টআপগুলির জন্য উদ্ভাবনী দক্ষতা প্রদর্শনের জায়গা খুলে দিয়েছে এবং গত ৩-৪ বছরে অল্প কিছু দিনের মধ্যেই বেশ কয়েকটি মহাকাশ স্টার্টআপ তৈরি হয়েছিল। তবে মহাকাশ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ন্যানো স্যাটেলাইট, উৎক্ষেপন যান এবং গবেষণার মতো দক্ষতা প্রদর্শনের ক্ষেত্রে আজ ১০২টি স্টার্টআপ সাফল্যের সঙ্গে কাজ করছে।

মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদীর নেতৃত্বে ভারতের বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, উদ্ভাবন দক্ষতা এবং বহুকাঙ্খিত আমাদের স্টার্টআপ ক্ষেত্রে ভারতের দক্ষতা বিশ্বের স্বীকৃতি লাভ করেছে। সারা বিশ্ব ভারতের দিকে এখন অনুপ্রেরণার ক্ষেত্র হিসেবে তাকিয়ে রয়েছে। কারন ভারত উদীয়মান দেশগুলিকে উপগ্রহ নির্মাণ, ন্যানো স্যাটেলাইট এবং দক্ষতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সাহায্যের হাত বাড়িয়েছে বলে তিনি জানান।