ওয়েব ডেস্ক; দেবাঞ্জন দাস ; ২৮ জানুয়ারি: বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি। প্রতিনিয়ত বহু মানুষ এই ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করার জন্য রাজ্যের তথা দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে আসেন। শত পরিশ্রম করে নিজের যোগ্যতায় অনেকে জায়গা করে নেন এই ইন্ডাস্ট্রি জগতে আবার অনেকে হতাশ হয়ে ফিরে যান। যারা ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করেন তারা ধীরে ধীরে হয়ে ওঠেন বহু দর্শকের পরিচিত মুখ। আবার অনেকেই হাতে গোনা কয়েকটি কাজ করে অজ্ঞাত বিভিন্ন কারণে হারিয়ে যান এই ইন্ডাস্ট্রির মাঝেই।
ইন্ডাস্ট্রিতে আসা, অডিশন তারপর ধীরে ধীরে সিলেকশন এবং একদম ফাইনালে কোন মেগা সিরিয়ালে তার মুখ দেখানো এই পথ কিন্তু একদিনে সম্পন্ন হয় না। এর পেছনে দৃঢ় প্রতিজ্ঞা, কঠোর পরিশ্রম এবং তার সঙ্গে অবশ্যই থাকতে হবে ট্যালেন্ট। অনেকেই আছেন যারা এল জি বি টি কিউ কমিউনিটি থেকে উঠে এসেছেন এবং নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে তুলেছেন এই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি তে।
এমনই বেশকিছু মুখ্য চরিত্র এবং পার্শ্ব চরিত্র যারা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি তে নিজের মুখ পরিচিত করেছেন তাদের সাক্ষাৎকার নিয়ে একটি ডকু ফিকশন “লাইটস্ ক্যামেরা মেগা” তৈরি করেন ডিরেক্টর তন্বী চৌধুরী। বিশেষত ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে তারা কি ভাবছেন এবং তাদের পথ কেমন ছিল সেটি তারা নিজের মুখে বলেছেন।
সম্প্রতি কলকাতায় তার এই ডকু ফিকশনটির পোস্টার লঞ্চ হয়ে গেল। এই ছবির আরেকটি বৈশিষ্ট্য হল একজন মেয়ে যিনি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিকে ভালোবেসে, মেগা সিরিয়ালকে ভালোবেসে অভিনয় নিজের পেশা হিসেবে বেছে নেওয়ার তাগিদে ইন্ডাস্ট্রিতে আসেন এবং কাজ করতে করতে উন্নতির চরম শিখরে পৌঁছে যাওয়ার গল্প রেয়েছে এখানে। তার সাথে নাট্যশাস্ত্রের নবরস তুলে ধরা হয়েছে এই ডকু ফিকশনটিতে।
পোস্টার লঞ্চের দিন উপস্থিত ছিলেন ডিরেক্টর তন্বী চৌধুরী, লেখিকা এবং ডিরেক্টর পারমিতা মুন্সি, জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত অভিনেত্রী অনন্যা চ্যাটার্জি, লেখিকা অমৃতা মুখোপাধ্যায় সহ ছবির কলাকুশলীরা।
এদিন পোস্টাল লঞ্চের পরে একটি প্যানেল ডেসক্রিপশন এর আয়োজন করা হয় সেখানে অভিনেত্রী অনন্যা চ্যাটার্জি আগের এবং বর্তমান ইন্ডাস্ট্রিতে কাজের কোয়ালিটি নিয়ে কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, বর্তমানে শিল্পীদের কাছে বহু চ্যালেঞ্জ আসছে। সেই চ্যালেঞ্জ কে পার করে গিয়ে তারা নিজের বেস্ট পারফরম্যান্স দিচ্ছে। অনেক ট্যালেন্টেড শিল্পী কিন্তু বর্তমান ইয়াং জেনারেশনের মধ্যে দিয়ে উঠে আসছে।
লেখিকা পারমিতা মুন্সি প্রোডাকশন হাউজের বাজেট সম্পর্কে সকলকে অবহিত করেন। তিনি রিজিওনাল এবং ন্যাশনাল দুটি ক্ষেত্রেই কি কি মিল এবং কি কি অমিল সেই সম্পর্কে প্যানেল ডিসকাশনে আলোচনা করেন।
লেখিকা অমৃতা মুখোপাধ্যায় তিনি বলেন যে আগে যে সমস্ত মেগা সিরিয়াল হত তা বহু সাহিত্যের পাতা থেকে নেওয়া হতো কিন্তু বর্তমান সময়ে সেই প্রবণতা কিছুটা হলেও কমে গেছে।
ডিরেক্টর তন্বী চৌধুরী তার সাক্ষাৎকারে বলেন যে, এই ছবি নিয়ে আমার মোট পাঁচটি সম্পূর্ণ হলো। আপাতত এটি বিভিন্ন ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে প্রতিযোগিতার জন্য দেবো। আমার ছবি যদি কোন ভাবে মানুষের মনে দাগ কাটে এবং সমাজের জন্য তারা যদি কিছু করতে উদ্বুদ্ধ হন সেটাই হল আমার ছবি তৈরীর সার্থকতা।
