কলকাতা, ৫ ফেব্রুয়ারি: শহরের সাহিত্য জগতে এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের সাক্ষী থাকল কলকাতা, যখন প্রথমবারের মতো ঔপন্যাসিক কার্তিকেয় বাজপেয়ী তাঁর বই দ্য আনবিকামিং লঞ্চ করলেন । যে শহরে সাহিত্য ও আধ্যাত্মিকতা দীর্ঘদিন ধরে এক পবিত্র সংলাপে আবদ্ধ, সেই কলকাতাতেই বইটির প্রকাশ এক বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। ‘সিটি অব জয়’-এ আয়োজিত এই অনুষ্ঠান লেখালেখি, চিন্তন ও আত্মঅনুসন্ধানের ঐতিহ্যকে নতুন করে উদযাপন করল।
পেঙ্গুইন র্যান্ডম হাউস ইন্ডিয়া প্রকাশিত এই বইটির মোড়ক উন্মোচন হয় আইকনিক অক্সফোর্ড বুকস্টোরে। অনুষ্ঠানটি ছিল অন্তরঙ্গ ও ভাবনাপ্রবণ, যেখানে ৯১.৯ ফ্রেন্ডস এফএম-এর হেড জিমি ট্যাংগ্রি কার্তিকেয় বাজপেয়ীর সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেন। সেশনটিতে বর্ষীয়ান অভিনেতা ও লেখক বারুণ চন্দ্রের উপস্থিতি অনুষ্ঠানের মর্যাদা ও সাহিত্যিক গাম্ভীর্য আরও বৃদ্ধি করে লেখক, গবেষক ও পাঠকদের উপস্থিতিতে আলোচনাটি এক শান্ত, মননশীল আবহ তৈরি করে যা কলকাতার চিন্তা, বিশ্বাস ও সাহিত্যিক উত্তরাধিকারের সঙ্গে বইটির দার্শনিক গভীরতার প্রতিফলন ঘটায়।
বইটির ভূমিকায় পরম পবিত্র দালাই লামা এবং স্বামী সর্বপ্রিয়ানন্দের অবদান রয়েছে। অনুষ্ঠানের সময় এই ভূমিকাগুলির উল্লেখ করা হয়, যা বইটির আধ্যাত্মিক ও দার্শনিক গুরুত্বকে আরও দৃঢ় করে এবং এক জীবন্ত অন্তর্দর্শন ও করুণার ধারার সঙ্গে বইটিকে যুক্ত করে।
বই প্রকাশ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে লেখক কার্তিকেয় বাজপেয়ী বলেন, “দ্য আনবিকামিং এই উপলব্ধির উপর ভিত্তি করে লেখা যে আমাদের অধিকাংশ দুঃখ-কষ্টের উৎস হলো ভয় ও প্রত্যাশা থেকে গড়ে ওঠা পরিচয়ের সঙ্গে আঁকড়ে থাকা। এটিই মূলত একজন মানুষ হিসেবে আমাদের সীমাবদ্ধ করে দেয়। তাই নিরাকার হোন, চিন্তার ভার নামান এবং নিজের তৈরি করা ভাবমূর্তি ও অন্যের আরোপিত ধারণা থেকে নিজেকে মুক্ত করুন। ‘আনবিকামিং’ হলো এক নীরব প্রত্যাবর্তন যেখানে জীবনের উপর কোনো উদ্দেশ্য চাপিয়ে না দিয়ে তাকে নিজের অর্থ উন্মোচনের সুযোগ দেওয়া হয়। আধুনিক জীবনে অন্তর্দর্শন অত্যন্ত প্রয়োজনীয়; এটি আমাদের সচেতনতা ও উপস্থিতির মধ্যে স্থির রেখে স্পষ্টতার সঙ্গে কাজ করতে সাহায্য করে।”
অনাসক্তি প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, “মায়া দুটি শক্তির মাধ্যমে কাজ করে ভয় ও লোভ। এই দু’টি আমাদের মনোযোগকে সত্য থেকে দূরে সরিয়ে নেয়। অনাসক্তি মানে সরে যাওয়া নয়, বরং যা বাস্তব তার দিকে মনোযোগের প্রত্যাবর্তন।”
