ওয়েব ডেস্ক; কলকাতা, ১৯ই জুন : ২৪শে মে ভোররাতে ঘটে যাওয়া এক বিরল এবং প্রাণঘাতী হতে পারা পরিস্থিতিতে, ৩৭ বছর বয়সী এক মহিলাকে মুকুন্দপুর মণিপাল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রাত ২টায় তাঁকে হাসপাতালে আনা হয়, কারণ তিনি দুর্ঘটনাবশত একটি টুথব্রাশ গিলে ফেলেছিলেন।

মণিপাল হাসপাতালের পূর্ব ভারতের অন্যতম বৃহৎ স্বাস্থ্যসেবা নেটওয়ার্কের অংশ এই হাসপাতালটিতে, সিনিয়র গ্যাস্ট্রোএনটেরোলজি পরামর্শদাতা ড. সঞ্জয় বসু ও তাঁর দল জরুরি ভিত্তিতে এক জটিল এন্ডোস্কপিক পদ্ধতিতে রোগীর পাকস্থলি থেকে ওই টুথব্রাশটি সফলভাবে বের করে আনেন।

রোগী শ্বাসকষ্ট এবং বুকের ব্যথায় ভুগছিলেন, যার ফলে অবিলম্বে চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। জরুরি প্রোটোকল অনুযায়ী একটি এক্স-রে করা হলেও প্লাস্টিকের টুথব্রাশটি তাতে ধরা পড়েনি। ড. বসু রাত ৩টায় হাসপাতালে পৌঁছে জরুরি একটি আপার জিআই এন্ডোস্কোপি করেন, যেখানে দেখা যায় টুথব্রাশটি পাকস্থলির গভীরে আটকে আছে।

ঘটনার বিস্তারিত জানিয়ে ড. সঞ্জয় বসু বলেন, “এটি অত্যন্ত সংকটজনক পরিস্থিতি ছিল। এমন দীর্ঘ আকৃতির কোনও বস্তু পাকস্থলিতে থেকে গেলে তা অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ, পাকস্থলির দেওয়ালে ছিদ্র বা পুরো পাচনতন্ত্রে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। অনেক সময় ছোট বস্তু বা খাদ্যনালিতে আটকে যাওয়া ক্ষেত্রে প্রক্রিয়াটি তুলনামূলকভাবে সহজ হলেও, এই ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ ছিল বস্তুটি পাকস্থলির একেবারে গভীরে চলে গিয়েছিল। সেখান থেকে এটি এন্ডোস্কোপের মাধ্যমে সাবধানে বের করা খুবই জটিল কাজ ছিল। এক পর্যায়ে এটি ফের উপরের খাদ্যনালিতে আটকে যায়। তবে ধাপে ধাপে পরিকল্পিতভাবে এবং রোগীর মাথা নির্দিষ্ট ভঙ্গিতে রেখে অবশেষে সেটি মুখ দিয়ে বের করা সম্ভব হয়। আমরা প্রতিটি মুহূর্তে অস্ত্রোপচার এড়াতে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে লড়ছিলাম।”

এন্ডোস্কোপের মাধ্যমে প্রবেশ করানো একটি স্নেয়ার ব্যবহার করে চিকিৎসক দলটি ধীরে ধীরে টুথব্রাশটি টেনে তোলে। রোগীর মাথা বাড়িয়ে নিরবিচারে নজরদারির মধ্যে রাখা হয় এবং শেষমেশ মুখ দিয়ে টুথব্রাশটি সফলভাবে বের করা হয়। পুরো প্রক্রিয়াটি প্রায় ৪৫ মিনিট সময় নেয় এবং ভোর ৫টার মধ্যে সম্পন্ন হয়। ওইদিনই রোগীকে সুস্থ অবস্থায় হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়।