ওয়েব ডেস্ক; ১ মে: মে দিবস উপলক্ষে ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া অফিসার্স এসোসিয়েশন ইস্টার্ন ইন্ডিয়া ব্রাঞ্চেস্ এর তরফ থেকে কলকাতায় ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া মুখ্য শাখায় রক্তদান সহ সারাদিন ব্যাপী বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। রক্তদান সহ ব্যাংক অফিসারদের নিয়ে এক সভার আয়োজন করা হয়। এই আলোচনা সভাতে যে সমস্ত কর্মী সদ্য করণিক থেকে অফিসার হয়েছেন তাদেরকেও সামিল করা হয় যাতে তারা তাদের নতুন দায়িত্বে আসীন হওয়ার প্রথম পর্যায়েই ব্যাংক এবং অফিসার সংগঠন সম্পর্কে অবগত হতে পারে। উপস্থিত ছিলেন, ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন, ইস্টার্ন ইন্ডিয়া ব্রাঞ্চের চেয়ারম্যান মলয় চৌধুরী, সভাপতি হরিহরণ ভাস্কর , অভিজিৎ মণ্ডল, দেবাশীষ মন্ডল সহ সংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।
প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন ব্যাঙ্ক অফিসার এবং প্রখ্যাত লেখিকা দেবারতি মুখোপাধ্যায়, প্রাক্তন অফিসার্স ডিরেক্টর এ কে মোতায়েদ।
ব্যাংকিং ট্রেড ইউনিয়নের অফিসার্স সংগঠনের সর্বভারতীয় নেতা সঞ্জয় দাস তার প্রারম্ভিক ভাষণে বলেন, ” শ্রমিকদের 8 ঘণ্টা কাজের অধিকার রক্ষায় যে রক্তক্ষয়ী আন্দোলন 1886 সালে হয়েছিল তার ফল আজ আমরা ভোগ করছি কারণ আজ ও আমাদের অফিসারদের লড়তে হচ্ছে ওয়ার্ক লাইফ ব্যালান্স ও রেগুলেটেড ওয়ার্কিং আওয়ার্স এর জন্য যেটা ওই দিনের লড়াই এর সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। ভারত সহ সারা বিশ্বে অর্থনীতিকে যারা ধরে রাখে সেই ব্যাংকিং সেক্টর এবং সেখানে থাকা কর্মচারীরা তাদের যে অধিকার তার ওপর বার বার কুঠারাঘাত করা হচ্ছে। ভারতবর্ষ সাক্ষী আছে মহামারী চলাকালীন ব্যাংকিং কর্মচারীরা কিন্তু সবার আগে গিয়ে সাধারণ মানুষকে পরিষেবা দিয়েছে। তাতে বহু ব্যাংক কর্মচারী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন এবং অনেকে মারা গেছেন। সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পগুলি কিন্তু রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ব্যাংকগুলিই বাস্তবায়িত করে। বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের কর্মচারীরা সবসময়ই কাজ করে যাচ্ছেন। তবুও তাদের প্রতিনিয়ত গঞ্জনা শুনতে হয়, ধমকি শুনতে হয়,গালাগাল মন্দ শুনতে হয়, নিকম্মার তকমা পেতে হয়। আজ অনেক অফিসার এই অস্বাভাবিক চাপ না নিতে পারে বিভিন্ন কঠিন রোগের স্বীকার হচ্ছে, অনেকে আত্মহত্যার মত কঠিন সিদ্ধান্ত ও নিয়ে ফেলছে। একদিকে কর্মী নিয়োগ প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম।গ্রাহক সেবা ভালো দেওয়া যাচ্ছে না, গ্রাহকদের কটু বাক্যবাণ প্রতিনিয়ত ছুটে আসছে। ফলতঃ ব্যাংক অফিসার রা আজ এক কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে।
সঞ্জয় বাবু প্রথমেই সবাইকে বলেন দ্বিধা দ্বন্দ ভুলে মানতে শিখুন আমরা সবাই শ্রমিক, শ্রমের বিনিময়ে ব্যাংকের সর্বস্তরের কর্মচারী শ্রমিক।যেহেতু মালিক একমাত্র সরকার তাই বাকি সবাই শ্রমিক। দেশে যখন প্রথম ব্যাংকিং সেক্টর চালু হয় তখন ব্যাংক কর্মচারীদের কাজের যে সংজ্ঞা ছিল সেই সংজ্ঞা বর্তমানে অনেক বদলেছে। এখন ব্যাংক কর্মচারীদের ব্যাংকের প্রথাগত পরিষেবার সাথে সাথে থার্ড পার্টি প্রকল্পের পরিষেবাও দিতে হচ্ছে। এখন ব্যাংকের আগের প্রথাগত কাজের বদলে বীমা বেচতে হয় বেশি করে।তাতে ব্যাংক কর্মী এবং অফিসারদের মানসিক চাপ বিপুল পরিমাণে বেড়ে যাচ্ছে।
তাঁর বক্তব্যে বলেন “আজ যুব সমাজের ওপর সব থেকে বেশি চাপ কর্মহীনতার। আজ দেশের সবথেকে বড় সমস্যা আয়বৈষম্য, দুর্নীতি, ও বেকারত্ব। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা( আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স) র নামে রোজগার সৃষ্টির পরিবর্তে রোজগার সংকোচন করা হচ্ছে। স্থায়ী পদের বদলে অস্থায়ী পদে লোক নিয়োগ করে কম বেতনে কাজ করানো হচ্ছে।”
আজ এই রক্তদান শিবিরের আয়োজন করা হয়েছে সেখানে বহু ব্যাংক অফিসার রক্ত দিয়েছেন। আমরা যে শুধুমাত্র মে দিবস উপলক্ষে রক্ত দিচ্ছি তাই নয়, করোনা কালেও আমাদের ১০০ জন অফিসার শহরের এক বেসরকারি নার্সিংহোমে গিয়ে রক্ত দিয়েছেন। সামাজিক দায়বদ্ধতার আরেকটি অঙ্গ। “
লেখিকা দেবারতি মুখোপাধ্যায় বলেন, “আমি সম্মানিত, শ্রমিকদের অধিকারের জন্য যে আন্দোলন তৈরি হয়েছিল, সেই অধিকারের বেশিভাগ আমরা পেয়েছি। বিরাট জনসংখ্যার দেশ হয়েও ব্যাংকারদের অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। ব্যাংকিং কর্মী সংগঠন গুলি যেভাবে অধিকারের জন্য সংগ্রাম করে যাচ্ছেন তাতে আগামীদিনে এই সংগ্রামের ভালো ফল পাওয়া যাবে। উনি তাঁর পুরনো অভিজ্ঞতা থেকে ব্যাংক অফিসার দের সমস্যা, যন্ত্রণার কথা সকলকে মনে করিয়ে দেন।
এছাড়াও মলয় চৌধুরী, তরুণ সাহা, হরিহরন ভাস্কর ও বক্তব্য রাখেন।এদিন রক্ত দান শিবিরের প্রায় ১০০ জন ব্যাঙ্ক অফিসার রক্ত দিয়েছেন। সভায় প্রায় 350 জন অফিসার উপস্থিত ছিলেন।
