দেবাঞ্জন দাস, শুভাবরি ওয়েবডেস্ক ২৭ এপ্রিল, কলকাতা:
একেই বলে সিনেমা প্রেমী। নাহলে সকাল দশটা বাজতে না বাজতেই সূর্যমামা যখন বেশ ভালো ভাবেই তাপ বিকিরণ করছেন, ধীরে ধীরে ত্তপ্ত হয়ে উঠছে মাটি, ছাতা ছাড়া কোনভাবেই নিজেকে টিকিয়ে রাখা যাচ্ছে না বাইরের পরিবেশে, খুব বেশি দরকার ছাড়া বাড়ির বাইরে বেরোতে যেখানে মানা করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা, ঠিক সেখানেই অন্য ছবি দেখা গেল নন্দন চত্বরে।
২৭ তম কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ছবি দেখার ঢল নামলো। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট কাটা এবং তারপর আবার লাইনে দাঁড়িয়ে হলের ভেতর প্রবেশ।
অবশ্য গরমকে টেক্কা দিতে প্রায় সকলের হাতেই রয়েছে ছাতা এবং জলের বোতল। আর এর থেকেই বোঝা গেল সূর্যের তাপ কলকাতার চলচ্চিত্রপ্রেমী মানুষদের কোনভাবেই গৃহবন্দী রাখতে পারেনি। তবে তার মধ্যেও মানুষ একটু গাছের ছায়া অবশ্যই খুঁজছে।
আস্তে আস্তে দুপুর গড়িয়ে বিকেল হতেই আরো মানুষের ঢল নামছে নন্দনে। বছরের বাকি সময় গুলো নন্দনে আড্ডা দেওয়ার এক অন্যতম জায়গা মানুষের। বর্তমানে চলতে থাকা চলচ্চিত্র উৎসবের জন্য নন্দন চত্বরে নেমেছে মানুষের ভিড়।শুধুমাত্র সিনেমা দেখাই নয়, তার সঙ্গে রয়েছে খাওয়া-দাওয়া।
বেশকিছু মুখরোচক খাবার স্টল দেখা গেল এই উৎসবকে ঘিরে।
এ বছর জানুয়ারি মাসে চলচ্চিত্র উৎসব হবার কথা থাকলেও করোনার সংক্রমণ হার বেড়ে যাওয়ায় তা স্থগিত রেখে দেওয়া হয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে। পরে এপ্রিল মাসে চলচ্চিত্র উৎসব হবে তা জানানো হয়। অনেকেই মত পোষণ করেছিলেন যেভাবে গরমের তীব্রতা বাড়ছে, তাতে সকালের প্রদর্শিত ছবিতে দর্শক সংখ্যায় হয়তো একটু ভাটা পড়তে পারে। কিন্তু তাদের কথাকে সম্পূর্ণ মিথ্যে প্রমাণ করে নিজেদের ভালোলাগার রসদ খুঁজতে সিনেমা দেখতে এলেন নবীন-প্রবীণ সিনেমাপ্রেমী মানুষ।
দক্ষিণ কলকাতার এক কলেজের প্রথমবর্ষের ছাত্রীর কথায়, এই বছর আমি প্রথমবার ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে ছবি দেখছি। প্রথমবারের দেখায় একটা উত্তেজনা রয়েছে। দেশি বিদেশি পরিচালকদের কাজ দেখার সুযোগ এবার আমার হলো। বয়স প্রায় পঞ্চাশ ছুঁই ছুঁই অন্য এক চলচ্চিত্রপ্রেমী জানান, বহু বছর ধরে এই উৎসবে এসে ছবি দেখছি। সারাবছর বিশেষ করে এই চলচ্চিত্র উৎসবের জন্য অপেক্ষা করে থাকি। তাই চেষ্টা করি যতই কষ্ট হোক না কেন তালিকা দেখে ভালোলাগার ছবিগুলি দেখার।
চলচ্চিত্র উৎসবে যেভাবে প্রবীনদের সাথে নবীনদের আগমন ঘটছে তাতে আগামী দিনে বহু নবীন প্রজন্ম সিনেমা তৈরি করার একটা নেশা জন্মাবে বা আগ্রহ জন্মাবে এমনটাই মত বিশেষজ্ঞ মহলের।
