প্রাকৃতিক দুর্যোগ কখন কিভাবে আসবে আমরা কোনভাবেই তার হদিশ পাইনা। দিনেদিনে প্রযুক্তির উন্নতির ফলে বন্যা,ঝড়, বৃষ্টি সহ বেশিরভাগ প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রকৃতির অবস্থা কেমন থাকবে এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কতটা হতে পারে বর্তমানে তার একটা পূর্বাভাস দিতে পারেন আবহাওয়াবিদরা। বর্তমান সময় সুনামির সতর্ক বার্তাও দেওয়া যেতে পারে। কিন্তু এমন একটি প্রাতিক প্রাকৃতিক দুর্যোগ যার পূর্ববর্তী হদিশ এখনো পর্যন্ত সঠিকভাবে দেওয়া যায়নি তা হল ভূমিকম্প।
বিবেকানন্দ ইনস্টিটিউট অফ সাইন্স এন্ড টেকনোলজি র দুজন কৃতি ছাত্র সেই ভূমিকম্পের পূর্বাভাস দেওয়ার একটি যন্ত্র আবিষ্কার করেছেন। বিশিষ্ট গবেষক রাহুল চৌধুরী এবং সহগবেষক সুদীপ্ত দাস বর্মন তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমের পর এমনই এক যন্ত্র আবিষ্কারের কথা জানিয়েছেন এক সাংবাদিক সম্মেলনে। তাদের যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০১৪ সালে। কিভাবে নির্ভুলভাবে কোন এলাকায় ভূমিকম্প আসতে চলেছে তার পূর্বাভাস দেওয়া যেতে পারে দুর্যোগের দুদিন আগেই। সমস্ত দুর্যোগ আসতে একটি নির্দিষ্ট সময় নেয় এবং পূর্বাভাস পেলে সেই দুর্যোগ থেকে কিভাবে সাধারণ মানুষের জীবন তার সাথে সম্পত্তি ক্ষয়ক্ষতি থেকে বাঁচানো যায় তা ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে কিন্তু ভূমিকম্প এমন এক প্রাকৃতিক দুর্যোগ যা নিমেষের ভেতর সম্পত্তি সহ মানুষের জীবন শেষ করে দিতে পারে।
সাংবাদিক সম্মেলনে দুই গবেষক জানান ন্যাচারাল ক্যালামিটি প্রেডিক্টর ইউজিং আল্ট্রা ওয়াইড ব্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি এবং তার সাথে ডাবল পেঁচি মাইক্রোস্কোপ অ্যান্টেনা এই নিয়ে একটি গবেষণাপত্র IJSER জার্নালে প্রকাশ পেয়েছে এবং দ্বিতীয় ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স যেটি জে এন ইউ নিউ দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে সেখানে তারা আমন্ত্রিত হয়েছেন।
যন্ত্র আবিষ্কারের পরের পর্যায় হলো তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা বা যন্ত্র ঠিকঠাক কাজ করছে কিনা সেই ব্যাপার। পশ্চিমবঙ্গের যে সমস্ত অঞ্চল ভূমিকম্প প্রবণ সুদীপ্ত বাবু এবং রাহুল বাবু দুজনেই বারবার ছুটে গেছেন সেই সমস্ত অঞ্চলে। হাতেনাতে ফলও পেয়েছেন। তাদের দাবি ভূমিকম্প আসার দুদিন আগে কতটা অঞ্চলজুড়ে ভূমিকম্প আসতে পারে কিংবা তার উৎপত্তিস্থল কোথায় হতে পারে তার একটা পূর্বাভাস এই যন্ত্রের সাহায্যে দেওয়া যেতে পারে।
আগামী দিনে এই যন্ত্রের পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য এবং এক মান্যতার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে পাঠানো হবে এবং এই যন্ত্রের উপর আরো কিছু আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে আরও শক্তিশালী যাতে করা যায় সেই ব্যাপারটিও তারা দেখছেন। কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্য সরকারের কাছে তাদের আবেদন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর এই যন্ত্রটি যদি মান্যতা পায় তাহলে শুধুমাত্র জন জীবন কিংবা সম্পত্তি বাচবে না বিজ্ঞানের এক নতুন দিক খুলে যাবে। আগামীদিনের প্রজন্মের ছাত্র-ছাত্রীরা যারা এই সমস্ত বিষয় নিয়ে গবেষণা করছেন তারাও এই গবেষণার সাথে যুক্ত হতে পারেন একথাও বলেন রাহুল চৌধুরী এবং সুদীপ্ত দাস বর্মন।
Breaking
Environment
India
Kolkata
Lifestyle
News
People
Public Interest
Weather
Westbengal
পশ্চিমবঙ্গ
এবার ভূমিকম্পের পূর্বাভাস দিতে যন্ত্রের হদিশ দিলেন রাহুল ও সুদীপ্ত
