অবশেষে দিল্লির কিষান আন্দোলনের ঢেউ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পরে পরেই এসে আছড়ে পড়ার জন্য প্রস্তুত। আজ এ আই কে এস এস এর নেতৃবৃন্দদের সমর্থন করে ‘কলকাতা শিখ সংসদ’ এক সাংবাদিক সম্মেলনে আগামী ১২ থেকে ১৪ মার্চ তাদের একগুচ্ছ কর্মসূচির কথা ঘোষণা করেন। আজ এই সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংযুক্ত কিষান মোর্চার নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন তেজিন্দের সিং বাল, হিমাংশু তেওয়ারি, কার্তিক পাল এবং সমীর পুততুন্ড। তেজেন্দ্র সিং তার বক্তব্যে বলেন, আগামী ১২ তারিখ দুপুর সাড়ে বারোটায় কলকাতা প্রেসক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন দিয়ে তাদের এই কর্মসূচির সূচনা হবে। এরপর তারা চলে যাবেন গান্ধী মূর্তি পাদদেশে। যেখানে ২৯৪ জন কৃষক, কৃষক আন্দোলনের বার্তা বহন করে রাজ্যের বিধানসভা কেন্দ্র গুলোতে গিয়ে সাধারণ মানুষকে বোঝাবেন ‘নো ভোট ট্যু বিজেপি’। তিনি আরো বলেন, কাকে ভোট দেবেন সেটা মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার। কাকে ভোট দেবেন না সেটি বোঝানোর দায়িত্ব রয়েছে কৃষকদের। কারণ এনএসপি এবং তিনটি কৃষক বিলের সূচি কেন্দ্রীয় সরকার এবং বিজেপি না মানার ফলে এখনো পর্যন্ত ১০০ দিনের অধিক সময় ধরে কৃষকরা তাদের আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। ১২ তারিখ বিকেল তিনটে থেকে পাঁচটা অবধি কলকাতার রামলীলা ময়দানে চলবে তাদের প্রথম মহা পঞ্চায়েত। ওই দিন বিকেল পাঁচটা থেকে সাতটা অব্দি তারা ভবানীপুর খালসা স্কুলে বুদ্ধিজীবীদের সাথে বৈঠকে মিলিত হবেন এবং কিষান আন্দোলনের গতিপ্রকৃতি নিয়ে তাদের অবহিত করবেন, মতামত গ্রহণ করবেন। ১৩ মার্চ তাদের অন্যতম নেতা রাকেশ জি কলকাতায় আসছেন। ঐদিন বেলা এগারোটায় মেয়ো রোডে থাকছে দ্বিতীয় পঞ্চায়েত। ১৩ তারিখে রাজ্য রাজনীতি চিন্তাভাবনা এবং আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু নন্দীগ্রামে পরবর্তী মহা পঞ্চায়েত হবে বিকেল চারটে থেকে। ১৪ তারিখে সকাল ১১ টা থেকে দুপুর দুটো অবধি সিঙ্গুরে পরবর্তী মহা পঞ্চায়েত। যে সিঙ্গুর আন্দোলন থেকে উঠে এসেছিল রাজ্যের বর্তমান শাসকদল। সর্বশেষ মহা পঞ্চায়েত বিকেল চারটে থেকে সাড়ে ছয়টা অবধি আসানসোলে অনুষ্ঠিত হবে। এ প্রসঙ্গে জানান, ১৪ তারিখ কিছু কৃষক আসাম এর উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন। সেখানে তারা এই বিষয়ে সংঘটিত আন্দোলন ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য মত বিনিময় করবেন। উদ্দেশ্য, ভারতবর্ষের সমস্ত রাজ্যে আন্দোলনকে পৌঁছে দেওয়া। সেই কারণে আগামী ১৯ মার্চ পার্শ্ববর্তী উড়িষ্যা রাজ্যে এক বিশাল মিছিলের আয়োজন করা হয়েছে।
