চূড়ান্ত অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের বিষয়ে স্বাস্থ্যকর্মী ও চিকিৎসকদের যত্ন নিতে হবে। কলকাতার রিজিওনাল আউটরিচ ব্যুরো এবং চুচুড়ার ফিল্ড আউটরিচ ব্যুরো আয়োজিত এক ওয়েবিনারে উপস্থিত বক্তারা এই বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, ২০১৯-২০ সময়কালে পঞ্চম জাতীয় পরিবার স্বাস্থ্য সমীক্ষায় দেখা গেছে পশ্চিমবঙ্গে ৫ বছরের নিচে শিশুদের মধ্যে শহরাঞ্চলে ৭.৯ শতাংশ এবং গ্রামাঞ্চলে ৬.৯ শতাংশ শিশুর উচ্চতার নিরিখে ওজন কম। ওই সমীক্ষা অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গে ৭.১ শতাংশ শিশু এই সমস্যায় ভুগছে, যেখানে জাতীয় স্তরে এই হার ৬.৫।  

    অল ইন্ডিয়া ইন্সটিটিউট অফ হাইজিন অ্যান্ড পাবলিক হেল্থের পিএসএম দপ্তরের ডাঃ সুইটি সুমন ঝা বলেন, চূড়ান্ত অপুষ্টিতে ভোগার মূল কারণ পরিমাণ মতো খাদ্য না খাওয়া। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের ওজন এবং উচ্চতার যে অনুপাত নির্ধারণ করেছে সেই অনুপাত বজায় না রাখলে শিশুটি অপুষ্টিতে ভুগছে বলে ধরে নেওয়া যায়। দুর্ভিক্ষ, মহামারী, লিঙ্গ বৈষম্য, শৈশবে মায়ের দুধ না খাওয়া এবং যথাযথ অন্য খাবার না খাওয়া এর মূল কারণ বলে তিনি জানান। এছাড়া  দারিদ্র অপুষ্টির অন্যতম কারণ। খিদে ও তেষ্টা না পাওয়া, শরীরে ওজন কমা এই সমস্যার অন্যতম লক্ষণ।    

    বিশিষ্ট পুষ্টিবিদ শ্রীমতি মিতালী পালোধী শিশুদের মায়ের দুধ খাওয়ানো সহ অন্যান্য খাবার নিয়মিত দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, দামি খাবার খাওয়ানোর প্রয়োজন নেই। পরিমাণ মতো সাধারণ খাবার দিলেই শিশুদের পুষ্টিলাভ হয়। তিনি ঘরে তৈরি খাবারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন। ১০০ গ্রাম দানাশস্যের সঙ্গে ৩০ গ্রাম ডালশস্য মিশিয়ে গুঁড়ো করে খাওয়ালে শিশুদের পুষ্টির সমস্যা দূর হতে পারে। শ্রীমতি পালোধী রঙিন শাকসব্জি এবং ফল খাওয়ানোর ওপর জোর দেন।   

    পশ্চিম মেদিনীপুরের চকমুকুন্দ বাসন্তী বিদ্যাপীঠের পুষ্টি বিজ্ঞানের শিক্ষিকা শ্রীমতি রাতুলা চৌধুরী অপুষ্টি দূর করার প্রসঙ্গে তাঁর অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন। প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে শিশুরা কিভাবে যথাযথ পুষ্টিকর খাদ্য থেকে বঞ্চিত হয় তিনি সেই বিষয়টি উল্লেখ করেন। শ্রীমতি চৌধুরী জানান, মহামারীর ফলে স্কুল বন্ধ থাকায় ছাত্রছাত্রীরা মিড ডে মিল পাচ্ছেনা। তার ফলে তাদের নানা অপুষ্টিজনিত সমস্যা  দেখা দিচ্ছে। প্রায় ১০০ জন এই ওয়েবিনারে অংশগ্রহণ করেন।