কলকাতা, ২ ডিসেম্বর : সুইচঅন ফাউন্ডেশন, কলকাতা বাস-ও-পিডিয়া ফাউন্ডেশন -এর সহযোগিতায়, একটি বহু-স্টেকহোল্ডার পরামর্শ সভার আয়োজন করে। এই সভার উদ্দেশ্য ছিল কলকাতার গণপরিবহন ব্যবস্থাকে নতুনভাবে ভাবনা-চিন্তা করা এবং ‘ডাবল দ্য বাস’ উদ্যোগের মাধ্যমে শহরের বাস পরিষেবাকে আরও শক্তিশালী করে তোলা। রোটারি সদনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সরকারি দপ্তর, পরিবহন অপারেটর, সিভিল সোসাইটি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সংস্থা এবং গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। তারা আলোচনা করেন কীভাবে কলকাতা আরও নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও কার্যকর গণপরিবহনের পথে এগোতে পারে।
বাস পরিষেবা শক্তিশালী করার ওপর জোর: অংশগ্রহণকারীরা কলকাতার বর্তমান গতিশীলতা সংকট—দীর্ঘ প্রতীক্ষা, পুরনো বাস বহর, অনিয়মিত পরিষেবা ও পর্যাপ্ত ডিজিটাল ট্র্যাকিংয়ের অভাব—নিয়ে আলোচনা করেন এবং একটি সম্প্রসারিত ও আধুনিক বাসব্যবস্থা কীভাবে প্রতিদিনের যাতায়াতকে আরও আরামদায়ক করতে পারে তা তুলে ধরেন।
‘ডাবল দ্য বাস’ উদ্যোগের অধীনে বক্তারা জোর দেন:
ভিড় কমাতে বাসের ফ্রিকোয়েন্সি বৃদ্ধি।
রুট পরিকল্পনা, সমন্বয়, অন্তর্ভুক্তিকরণ ও পরিষেবার নির্ভরযোগ্যতা বাড়ানো।
পরিচ্ছন্ন পরিবহনের জন্য ইলেকট্রিক বাস বহর সম্প্রসারণ।
পাড়াভিত্তিক ও লাস্ট-মাইল কানেক্টিভিটি শক্তিশালী করা।
পরিষেবা উন্নতির জন্য রিয়েল-টাইম ট্র্যাকিং, ডিজিটাল ফ্লিট ম্যানেজমেন্ট ও ডেটা-নির্ভর সিদ্ধান্ত গ্রহণ।
পরিবহন অবকাঠামো উন্নয়ন: আলোচনায় আরও গুরুত্ব দেওয়া হয় যাত্রীবান্ধব অবকাঠামো সৃষ্টির ওপর, যেমন—
আধুনিক ও সংস্কারকৃত বাসস্টপ।
উন্নত আলো ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা, সিসিটিভি ও প্যানিক বাটনসহ।
প্রতিবন্ধী যাত্রীদের জন্য সর্বজনীন প্রবেশযোগ্যতা।
উন্নত পদচারী পথ ও মাল্টিমোডাল সংযোগ।
রিয়েল-টাইম আপডেটসহ ডিজিটাল যাত্রী তথ্য ব্যবস্থা।
স্মার্ট চলাচলের জন্য ডিজিটাল উদ্ভাবন: বিশেষজ্ঞরা আলোচনা করেন কীভাবে রিয়েল-টাইম তথ্য বোর্ড, স্বয়ংক্রিয় শিডিউলিং, ওপেন মোবিলিটি ডেটা এবং সমন্বিত অ্যাপ যাত্রীদের যাত্রাপথ পরিকল্পনা সহজ করবে এবং একইসঙ্গে অপারেটরদের দক্ষতা ও স্বচ্ছতা বাড়াবে।
পরামর্শ সভার ফলাফল ও আগামীর পথ: সভার শেষে সকল স্টেকহোল্ডার যৌথভাবে অঙ্গীকার করেন—
বাস পরিষেবা শক্তিশালী করতে মতৈক্যভিত্তিক রোডম্যাপ তৈরি।
পরিষেবার মান, প্রবেশযোগ্যতা ও নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া।
‘ডাবল দ্য বাস’ উদ্যোগকে সমর্থনকারী পাইলট প্রকল্প অনুসন্ধান।
নীতিগত আলোচনার জন্য একটি ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন।
“আমি আশা করি এই উদ্যোগ শহরের বাস পরিষেবা শক্তিশালী করে রাজ্যের পরিবহন ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল ও উন্নত করতে সাহায্য করবে,” — স্নেহাশিস চক্রবর্তী, মাননীয় পরিবহন মন্ত্রী, পশ্চিমবঙ্গ সরকার।
“জনসংখ্যা বৃদ্ধি, সীমিত সম্পদ এবং নতুন প্রযুক্তির আবির্ভাব—এই সব বিবেচনায় শহরের পরিবহন ব্যবস্থাকে গতিশীলভাবে মানিয়ে নিতে হবে। পরিবহনের সামগ্রিক মডেলকে হতে হবে টেকসই, অর্থনৈতিকভাবে কার্যকর, পরিবেশবান্ধব এবং সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য। যাত্রীদের শ্রেণিবিন্যাস সঠিকভাবে চিহ্নিত করে উদ্ভাবনের মাধ্যমে একটি গতিশীল ব্যবসায়িক মডেল তৈরি করাই টেকসই আরবান ট্রান্সপোর্টের মূল চাবিকাঠি,” — প্রফেসর সুদীপ্ত দে, অধ্যাপক, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়।
